দেশের জনপ্রিয় অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি ফ্লাইট এক্সপার্ট–এর ওয়েবসাইট হঠাৎ অকার্যকর হয়ে পড়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। গ্রাহকরা নিজেদের বুকিং ও টাকার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন জানিয়েছেন, আজ শনিবার প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের পক্ষে সাঈদ আহমেদ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। তিনি জানান, ফ্লাইট এক্সপার্ট–এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সালমান বিন রাশিদ শাহ সায়েম হঠাৎ করেই নিরুদ্দেশ হয়েছেন।
জিডিতে উল্লেখ করা হয়, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বার্তা দিয়ে মালিক পালানোর তথ্য জানান। এরপর কর্মীরা অফিসে গিয়ে দেখতে পান, মালিক নেই এবং অফিস কার্যক্রম বন্ধ।
জিডিতে আরও বলা হয়, “গ্রাহকদের অর্থনৈতিক লেনদেন এখন ঝুঁকিতে পড়েছে। কেউ কেউ কর্মীদের হুমকি দিচ্ছেন।”
এদিকে কয়েকটি ট্রাভেল এজেন্সি অভিযোগ করেছে, তারা ফ্লাইট এক্সপার্টের মাধ্যমে টিকিট বুক করতে পারছেন না। ওসি আরও জানান, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এসেছে, তবে তদন্তাধীন থাকায় বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না।
একজন গ্রাহক ফেসবুক গ্রুপ ‘Cheap Air Ticket in Bangladesh’–এ লেখেন, তিনি ১০ আগস্ট ঢাকা-ওমান বিমানের টিকিট বুক করেছেন ফ্লাইট এক্সপার্টের মাধ্যমে। বিমানের ওয়েবসাইটে টিকিট ইস্যু দেখালেও তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন—ভবিষ্যতে কোনো সমস্যা হবে কিনা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবশালী ব্যবহারকারী শুরভী ইয়াসমিন (ফলোয়ার ৩ লাখ+) তার পোস্টে লেখেন, “ফ্লাইট এক্সপার্ট আমার শেষ ট্যুর স্পনসর করেছিল। এখনো আমার বড় অঙ্কের টাকা পাওনা রয়েছে। শুনেছি ওরা নাকি পালিয়ে গেছে। হাজার হাজার মানুষের টাকা নিয়ে উধাও! আল্লাহ তাদের হেদায়েত দিন।”
উল্লেখ্য, ফ্লাইট এক্সপার্টের ফেসবুক পেজ (ফলোয়ার ৪.৫ লাখের বেশি) এখনো সচল আছে। সর্বশেষ পোস্ট ছিল দুই দিন আগে—হজ ২০২৬–এর প্যাকেজ নিয়ে।
২০১৭ সালের মার্চে যাত্রা শুরু করা ফ্লাইট এক্সপার্ট অল্প সময়েই দেশের অনলাইন টিকিট বুকিং সেবায় পরিচিতি পায়। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক টিকিট, হোটেল বুকিং, ট্যুর প্যাকেজ ও ভিসা প্রসেসিং–এর সেবা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি জনপ্রিয়তা লাভ করে।
২০২১ সালের মে মাসে বিতর্কিত ই–কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি ফ্লাইট এক্সপার্ট অধিগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছিল। যদিও চূড়ান্তভাবে সেই অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে কিনা, তা এখনো পরিষ্কার নয়। এ বিষয়ে ইভ্যালির সিইও মোহাম্মদ রাসেল–এর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।












