হোম প্রচ্ছদ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ পালন করলো তরী বাংলাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ পালন করলো তরী বাংলাদেশ

“বিপদমুক্ত নৌযাত্রা, জানমালের সুরক্ষা” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পালিত হয়েছে নৌ-নিরাপত্তা সপ্তাহ ২০২৬। এ উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির সমাপনী দিনে তিতাস নদীর আনন্দ বাজার ঘাটে জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৬ মে) বেলা ১১টায় তরী বাংলাদেশ-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে নদী ও নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন বক্তারা।

বক্তারা বলেন, তিতাস নদীর বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে বর্জ্য ফেলে নদী ভরাট করা হচ্ছে, যা পানির স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি কিছু অসাধু ব্যক্তি ঘের দিয়ে মাছ ধরার নামে নৌযান চলাচলের পথ সংকুচিত করে ফেলছে। ফলে নদীপথে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে এবং নৌ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

তারা আরও বলেন, নৌযানের ফিটনেস পরীক্ষা, মাঝিদের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স নিশ্চিত করা, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম রাখা, অতিরিক্ত যাত্রী ও পণ্য পরিবহন বন্ধে নজরদারি বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে রাতের বেলা বাল্কহেড চলাচল বন্ধ, তিতাস নদীতে ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশ ইউনিট স্থাপন এবং নদী খননের মাধ্যমে নৌপথ সচল রাখার দাবি জানান তারা।

আলোচনা সভায় তরী বাংলাদেশ-এর আহ্বায়ক শামীম আহমেদের সভাপতিত্বে এবং এ এফ এম আবদুস সাকির ছোটনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাল্টিপার্টি অ্যাডভোকেসি ফোরামের সভাপতি এবিএম মোমিনুল হক।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন তরী বাংলাদেশ আহ্বায়ক কমিটির সদস্য খালেদা মুন্নী।

এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি সৈয়দ মো. আকরাম, খেলাঘর-এর সাধারণ সম্পাদক নীহার রঞ্জন সরকার, সমাজকর্মী কমরেড নজরুল ইসলাম, অঙ্কুর শিশু-কিশোর সংগঠনের সভাপতি আনিসুল হক রিপন, সুফি জুলফিকার হায়দার স্মৃতি সংগঠনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ উল্লাহ, ঐক্যবদ্ধ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর-এর আহ্বায়ক আরিফ বিল্লাহ আজিজি, সদস্য সচিব মো. সাবের হোসেন, কবি শিরিন আক্তার, কবি রুদ্র মো. ইদ্রিস, এইচআরডিএস-এর সেক্রেটারি সুজন সরকার, তরী বাংলাদেশ বিজয়নগর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক সাদেকুল ইসলাম, সদস্য সচিব মো. আলমগীর হোসাইনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

গ্রাহকদের তথ্য সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নিচ্ছে বিডিএইচপিএ

cPanel Hacked

বিশ্বজুড়ে বহুল ব্যবহৃত ওয়েব হোস্টিং কন্ট্রোল প্যানেল সিপ্যানেল (cPanel) এবং ওয়েব হোস্ট ম্যানেজার (WHM)-এ একটি ভয়াবহ নিরাপত্তা ত্রুটি (CVE-2026-41940) শনাক্ত হওয়ার পর বাংলাদেশের গ্রাহকদের তথ্য সুরক্ষায় জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ডোমেইন হোস্টিং প্রোভাইডার্স এলায়েন্স (বিডিএইচপিএ)।

বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরপরই বিডিএইচপিএ-এর সদস্যভুক্ত হোস্টিং প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের সার্ভারগুলোতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা আপডেট বা ‘সিকিউরিটি প্যাচ’ প্রয়োগসহ নজরদারি বৃদ্ধি করেছে।

১ মে, শুক্রবার বিডিএইচপিএ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এই বৈশ্বিক ভলনারেবিলিটির কারণে হ্যাকাররা অননুমোদিতভাবে সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের শীর্ষস্থানীয় হোস্টিং সেবাদাতারা বর্তমানে সার্ভার মনিটরিং এবং অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এই উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চলমান থাকায় কিছু গ্রাহক সাময়িকভাবে সিপ্যানেল বা ডব্লিউএইচএম লগইনে বিলম্ব, ইমেইল আদান-প্রদানে ধীরগতি কিংবা ওয়েবসাইট অ্যাক্সেস করার ক্ষেত্রে সাময়িক সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে বলা হয়, এসব সাময়িক অসুবিধা মূলত উচ্চতর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থেই গ্রহণ করা হয়েছে। গ্রাহকদের মূল্যবান তথ্য ও ওয়েবসাইটগুলোর সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশের হোস্টিং শিল্পের গ্রাহকদের জন্য একটি নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিডিএইচপিএ এবং এর সদস্য প্রতিষ্ঠানসমূহ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, যেহেতু এই ত্রুটিটি বৈশ্বিক এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল, তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে সার্ভারগুলোকে সুরক্ষিত করা অপরিহার্য ছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের ধৈর্য ধারণ করার অনুরোধ জানিয়েছে বিডিএইচপিএ। দ্রুতই সেবাগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

শহীদ বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক লুৎফুর রহমান স্মারকগ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব আয়োজন

শহীদ বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক লুৎফুর রহমান স্মারকগ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব আয়োজন

বুধবার (২৯ এপ্রিল) ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ মিলনায়তনে সাহিত্য একাডেমি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের যৌথ আয়োজনে কবি জয়দুল হোসেন ও মামুন সিদ্দিকী সম্পাদিত শহীদ বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক লুৎফুর রহমান স্মারকগ্রন্থের প্রকাশনা উৎসবে প্রধান অতিথি উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ আবুসাঈদ।

সাহিত্য একাডেমির সাধারণ সম্পাদক নূরুল আমিন এবং নুসরাত জাহান বুশরার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবু জাফর মোঃ আরিফ হোসেন।

img

মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলা একাডেমির গবেষণা কর্মকর্তা মামুন সিদ্দিকী, স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সাহিত্য একাডেমির সভাপতি, কবি জয়দুল হোসেন, শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. শামিমুল হক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইব্রাহিম খান সাদাত, ব্রাহ্মণবাড়িয়া টেলিভিশন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি আল আমিন শাহীন, শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সদস্য অ্যাড. কাজী আহাম্মদুন নবী রানার।

এ সময় অন্যান্য মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নিয়াজ মুহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহিদুল ইসলাম ভাদুঘর মাহবুবুল হুদা পৌর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শামীম উদ্দিন, সহকারী শিক্ষক আবুল হাসানাত, কবি মো. আব্দুর রহিম, তরী বাংলাদেশের আহ্বায়ক শামিম আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা সামছুদ্দিন আহমেদ, কমরেড নজরুল ইসলাম, কবি সাহাবুল ইসলাম, এম এ মালেক, ফারুক আহমেদ ভুইয়া, খালেদা মুন্নী, সোহেল রানা ভূঁইয়া, জামিনুর রহমান, মনিরুল ইসলাম শ্রাবণ প্রমুখ।

আন্তর্জাতিক নারী দিবসে ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননায় খালেদা জিয়া

খালেদা জিয়া অদম্য নারী সম্মাননা আন্তর্জাতিক নারী দিবস

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ‘গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননায় ভূষিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ‘অদম্য নারী পুরস্কার’ কর্মসূচির আওতায় তাকে এ স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে।

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি হিসেবেই তাকে এই সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে। বিজ্ঞপ্তিতে তাকে গণতান্ত্রিক সংগ্রামের এক দৃঢ় প্রতীক হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা পাঁচজন নারীকে ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য নুরুন নাহার আক্তার, শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে অবদানের জন্য মোছা. ববিতা খাতুন, সফল জননী হিসেবে নুরবানু কবীর, নির্যাতনের অভিজ্ঞতা কাটিয়ে সংগ্রামে জয়ী হওয়ায় মোছা. শমলা বেগম এবং সমাজ উন্নয়নে অবদানের জন্য মোছা. আফরোজা ইয়াসমিন এ সম্মাননা পাচ্ছেন।

আগামী ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকাল ৯টা থেকে ৯:৪০ পর্যন্ত অফিসে অবস্থান বাধ্যতামূলক

সরকারি অফিসের নতুন সময়সূচী সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিপত্র ২০২৬

দেশের সরকারি জনসেবায় গতি আনতে এবং দাফতরিক কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এখন থেকে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত বাধ্যতামূলকভাবে নিজ নিজ অফিসে অবস্থান করতে হবে।

গত সোমবার (২ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে এই নির্দেশনা জারি করা হলেও আজ বুধবার (৪ মার্চ) বিষয়টি জনসমক্ষে আসে।

পরিপত্রের মূল নির্দেশনা সমূহ:
  • অফিসে অবস্থান: প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সকাল ৯টা থেকে শুরু করে অন্তত ৪০ মিনিট (৯:৪০ পর্যন্ত) অবশ্যই নিজ অফিস কক্ষে অবস্থান করতে হবে।
  • কর্মসূচি বিন্যাস: দাফতরিক অন্যান্য সভা বা কর্মসূচি এমনভাবে নির্ধারণ করতে হবে যাতে এই নির্দিষ্ট সময়টুকু বাধাগ্রস্ত না হয়।
  • অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ: ভিভিআইপি প্রটোকল, বড় দুর্ঘটনা মোকাবিলা বা কূটনৈতিক মিশনের অতি গুরুত্বপূর্ণ সভা ছাড়া কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করা যাবে না।
যেসব ক্ষেত্রে নিয়ম শিথিল থাকবে:

প্রশাসনিক দায়িত্বে নেই এমন শিক্ষক ও অনুষদ সদস্য, হাসপাতাল, জেলখানা এবং সংবাদমাধ্যমের রোস্টার ডিউটি পালনকারীদের জন্য এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। এছাড়াও জরুরি গ্রাহকসেবায় নিয়োজিত এবং মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এই নির্দেশনার আওতামুক্ত থাকবেন।

কেন এই কঠোরতা?

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ লক্ষ্য করেছে যে, অনেক কর্মকর্তা অফিসে আসার পথে ব্যক্তিগত কাজ, ব্যাংকিং বা বিভিন্ন সেমিনারে অতিথি বক্তা হিসেবে অংশ নেওয়ায় নির্ধারিত সময়ে ডেস্কে থাকেন না। জনসেবা নিশ্চিত করতে ‘সচিবালয় নির্দেশমালা, ২০২৪’ অনুযায়ী এই নিয়ম কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোস্টগার্ডকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী এবং কোস্টগার্ড মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হকের সৌজন্য সাক্ষাৎ।

বাংলাদেশ কোস্টগার্ডকে দেশের সামুদ্রিক সীমানা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি ও সতর্কতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হকের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ নির্দেশনা প্রদান করেন।

সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী বাহিনীর সামগ্রিক কার্যক্রমের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে দেশের জলসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। তাই কোস্টগার্ডকে কেবল একটি টহল বাহিনী হিসেবে নয়, বরং আধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত একটি শক্তিশালী বাহিনী হিসেবে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করতে হবে।”

বৈঠককালে প্রধানমন্ত্রী কোস্টগার্ডের সদস্যদের অকুতোভয় দেশপ্রেম এবং পেশাদারিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সমুদ্র উপকূল এবং নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষের জানমাল রক্ষা এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই বাহিনী নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় দুর্গত এলাকায় কোস্টগার্ডের উদ্ধার অভিযান ও ত্রাণ কার্যক্রম সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আস্থা তৈরি করেছে। প্রধানমন্ত্রী এই জনসেবামূলক কাজের ধারা ভবিষ্যতে আরও বেগবান করার নির্দেশ দেন।

সৌজন্য সাক্ষাতে কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক প্রধানমন্ত্রীকে বাহিনীর বর্তমান উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং আধুনিকায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করেন। প্রধানমন্ত্রী বাহিনীর এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, সরকার কোস্টগার্ডকে একটি ত্রিমাত্রিক ও আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। গভীর সমুদ্রে নজরদারি বাড়ানোর জন্য আধুনিক জাহাজ এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা যুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা: ঢাকা বিমানবন্দরে ফ্লাইটের মহাবিপর্যয়, ভোগান্তিতে হাজারো যাত্রী

ফ্লাইট

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় অস্থিরতার কালো মেঘ সরাসরি আছড়ে পড়েছে বাংলাদেশের আকাশপথে। ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার জেরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো একে একে তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়ায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন ফ্লাইট বিপর্যয়। গত তিন দিনে ঢাকা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যের অন্তত ৭৪টি ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ।

বাতিল ফ্লাইটের পরিসংখ্যান: বিমানবন্দর সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আজ ২ মার্চ পর্যন্ত তিন দিনের ব্যবধানে এই বিশাল সংখ্যক ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে।

  • শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি): ২৩টি ফ্লাইট বাতিল হয়। যার মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১১টি এবং ইউএস-বাংলার ৬টিসহ এমিরেটস ও ফ্লাই দুবাইয়ের মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইটও ছিল।
  • রবিবার (১ মার্চ): পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে এবং এক দিনেই বাতিল হয় ৪০টি ফ্লাইট। কাতার এয়ারওয়েজ, এয়ার অ্যারাবিয়া এবং গালফ এয়ারের মতো বড় বড় সংস্থাগুলো তাদের কার্যক্রম স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়।
  • সোমবার (২ মার্চ): আজ আগাম ঘোষণা দিয়ে বাতিল করা হয়েছে আরও ১১টি ফ্লাইট।

বিপাকে প্রবাসীরা: আকস্মিক এই ফ্লাইট বাতিলের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন মধ্যপ্রাচ্যগামী প্রবাসী শ্রমিকরা। সঠিক সময়ে কর্মস্থলে ফিরতে না পারায় অনেকের ভিসার মেয়াদ নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা। বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ গণমাধ্যমকে জানান, এয়ারলাইন্সগুলোর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই এই ৭৪টি ফ্লাইট বাতিলের হিসাব পাওয়া গেছে।

যাত্রীদের অভিযোগ, ফ্লাইট বাতিলের সঠিক তথ্য বা বিকল্প উড্ডয়ন সময় সম্পর্কে এয়ারলাইন্সগুলো থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা মিলছে না। বিমানবন্দরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে অনেককে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে।

অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ: যুদ্ধাবস্থা না কাটা পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের রুটগুলোতে বিমান চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে বেশিরভাগ এয়ারলাইন্স তাদের রুট পরিবর্তন করার চেষ্টা করলেও, দীর্ঘ পথ এবং জ্বালানি খরচের কারণে অনেক ফ্লাইট পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত, ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত সংক্রান্ত সংবাদ

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় নিহত হয়েছেন বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে। রাজধানী তেহরানে তার আবাসিক ও প্রশাসনিক কমপ্লেক্সে চালানো বিমান হামলার পর তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে মারা যান।

ইরান সরকার তার মৃত্যুর পর দেশজুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। এ সময় জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে এবং সরকারি কার্যক্রম সীমিত রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে।

শনিবার সকালে তেহরানের একটি উচ্চ নিরাপত্তা এলাকায় হামলাটি চালানো হয়। হামলার সময় খামেনি দায়িত্বসংক্রান্ত কাজে ব্যস্ত ছিলেন বলে জানা গেছে। হামলায় ভবনের বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ আরও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারা হামলার বিষয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন, তবে বিস্তারিত সামরিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ইরান সরকার ঘটনাটিকে বড় ধরনের আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তার মৃত্যুতে দেশটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

হরিপুর উপজেলা নির্বাচনে জনপ্রিয়তার শীর্ষে আবু তাহের

হরিপুর উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী আবু তাহেরের নির্বাচনী প্রচারণা ও জনসভা।

হরিপুর ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ

ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী ও ঐতিহ্যবাহী জনপদ। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই জনপদে এখন বইছে আগাম রাজনীতির অঙ্গন  সবখানেই  চায়ের টেবিল থেকে শুরু করে গ্রামের হাট-বাজার—সবখানেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ‘উপজেলা পরিষদ নির্বাচন’। তবে এবারের নির্বাচনে অন্য সব জল্পনা-কল্পনাকে ছাপিয়ে একটি নামই সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে, তিনি হলেন হরিপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সফল ভাইস চেয়ারম্যান “আলহাজ্ব মোঃ আবু তাহের। তার প্রার্থিতা এবং তাকে ঘিরে তৃণমূলের যে স্বতঃস্ফূর্ত জাগরণ দেখা যাচ্ছে, তা স্থানীয় রাজনীতির ইতিহাসে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

রাজনীতিতে জোয়ার-ভাটা থাকবেই, কিন্তু সংকটে যে নেতা মাঠ ছাড়েন না, কর্মীরা তাকেই হৃদয়ে স্থান দেয়। আলহাজ্ব আবু তাহেরের রাজনৈতিক জীবন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনি কেবল ড্রয়িংরুমের রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ ছিলেন না। হরিপুর উপজেলার সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে এবং দলের দুঃসময়ে রাজপথে থেকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। তার এই আপসহীন মনোভাবই তাকে আজ তৃণমূল কর্মীদের আস্থার প্রতীকে পরিণত করেছে। নেতাকর্মীরা মনে করছেন, আবু তাহেরের মতো একজন অভিজ্ঞ নেতা উপজেলা পরিষদের হাল ধরলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।

হরিপুরের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে সবচেয়ে প্রভাবশালী বিষয় হলো ঠাকুরগাঁও – ২ আসনের বর্তমান জনপ্রিয় সংসদ সদস্য “ডা. মোঃ আব্দুস সালামের” আস্থা। রাজনৈতিক মহলে জোরালো আলোচনা রয়েছে যে, আবু তাহের এমপির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং বিশ্বস্ত একজন মানুষ। ডা. সালামের উন্নয়ন দর্শনকে তৃণমূল পর্যায়ে সার্থকভাবে রূপায়ন করার জন্য আবু তাহেরের মতো একজন দক্ষ সংগঠক ও দূরদর্শী নেতার প্রয়োজন রয়েছে। এমপির ‘গ্রিন সিগন্যাল’ বা সবুজ সংকেত পাওয়ার বিষয়টি এখন টক অফ দ্য টাউন। এই সমর্থন আবু তাহেরের পাল্লাকে অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি ভারী করে দিয়েছে, যা সাধারণ ভোটারদের মনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

একজন নেতার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয় তার অতীত কর্ম দিয়ে। আবু তাহের যখন হরিপুর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন, তখন তার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং সাধারণ মানুষের জন্য তার দ্বার উন্মুক্ত রাখার বিষয়টি আজও মানুষ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে। তিনি কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবেও এলাকায় তার বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। তার ব্যক্তিগত ক্লিন ইমেজ এবং দুর্নীতির কলঙ্কমুক্ত জীবন তাকে সর্বস্তরের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। হরিপুরের সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করছেন, একজন সৎ ও যোগ্য ব্যবসায়ী যখন জনপ্রতিনিধি হন, তখন এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিও ত্বরান্বিত হয়।

সরেজমিনে হরিপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, আবু তাহেরের প্রার্থিতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ। বিশেষ করে যুবসমাজ ও তৃণমূলের প্রবীণ কর্মীদের মধ্যে তাকে নিয়ে এক ধরণের ‘আবেগ’ কাজ করছে। চায়ের দোকানে আড্ডারত এক কর্মী বলেন, “আমরা এমন নেতা চাই যিনি আমাদের কথা শুনবেন, আমাদের বিপদে পাশে দাঁড়াবেন। আবু তাহের ভাই সেই মানুষ যাকে আমরা যেকোনো প্রয়োজনে হাতের নাগালে পাই।” এই যে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসা, এটাই আবু তাহেরের সবচেয়ে বড় শক্তি। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই তার সমর্থনে যে জনমত তৈরি হয়েছে, তা অনেকটা ‘গণজোয়ারে’ রূপ নিয়েছে।

হরিপুর উপজেলাকে একটি আধুনিক, মডেল ও বৈষম্যহীন উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে হলে প্রয়োজন দূরদর্শী নেতৃত্ব। ডা. মোঃ আব্দুস সালামের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের ছায়াতলে থেকে আবু তাহের যদি হরিপুরের হাল ধরেন, তবে এই অঞ্চলের উন্নয়নের চাকা আরও সচল হবে—এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের। ভোটের রাজনীতিতে শেষ পর্যন্ত কী হয় তা সময় বলে দেবে, তবে বর্তমান প্রেক্ষাপট ও জনমত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, হরিপুরের নির্বাচনী সমীকরণ এখন আবু তাহেরের দিকেই হেলে আছে। যোগ্যতার এই মূল্যায়ন যদি ভোটের ব্যালটে প্রতিফলিত হয়, তবে হরিপুর উপজেলা এক নতুন স্বর্ণযুগের সূচনা দেখবে ইনশাআল্লাহ।

হরিপুর হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট, সেবা থেকে বঞ্চিত সাধারণ মানুষ

News

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার ৫০ শয্যার সরকারি হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে চরম চিকিৎসক সংকটে ভুগছে। মাত্র ৩ জন চিকিৎসক দিয়ে কোনো রকমে চলছে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম। ফলে উপজেলার গরিব, অসহায় ও সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় প্রায় পৌনে দুই লাখ মানুষের বসবাস। এর মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবার জন্য এই হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক না থাকায় রোগীদের ভোগান্তি দিন দিন বেড়েই চলেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এখানে সরকারি চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ১৯টি। কাগজে-কলমে ৫ জন কর্মরত থাকলেও বাস্তবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা-সহ মাত্র ৩ জন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন ধরে ১৪টি চিকিৎসকের পদ শূন্য থাকায় সীমিত জনবল দিয়ে বিপুলসংখ্যক রোগীর চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা।

এদিকে গাইনি ও অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক না থাকায় প্রায় দেড় যুগ ধরে হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) থাকা মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও সরকারিভাবে গর্ভবতী মায়েদের জন্য বিনামূল্যে ডিএসএফ কার্যক্রম চালু রয়েছে, তবুও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকায় প্রতিদিনই প্রসূতি রোগীদের সিজারের জন্য বাইরে যেতে হচ্ছে।

এর ফলে রোগীদের হয়রানির পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। একইভাবে শিশু বিশেষজ্ঞ না থাকায় এলাকার শিশু রোগীরাও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা অনেক রোগী সন্তোষজনক চিকিৎসা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

হরিপুর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আসাদুজ্জামান বলেন,

“চিকিৎসক সংকটের কারণে রোগীদের যথাযথ সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। জনবহুল এই হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে আরও চিকিৎসক নিয়োগ প্রয়োজন।”

এ বিষয়ে হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শামীমুজ্জামান বলেন,

“হাসপাতালে কাগজে-কলমে ৫ জন চিকিৎসক থাকলেও বাস্তবে কর্মরত আছেন মাত্র ৩ জন। জনবল সংকটসহ সার্বিক বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।”

এলাকাবাসী দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ করে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

- Advertisement -

জনপ্রিয় সংবাদ

গরম খবর