সিলেটের বিখ্যাত পর্যটনকেন্দ্র ভোলাগঞ্জের ‘সাদা পাথর’ দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে লাগামহীন পাথর লুটের শিকার। সর্বশেষ গত ১৫ দিনে লুটপাটের মাত্রা ভয়াবহ আকার নিয়েছে, যা পরিবেশ ও পর্যটন শিল্পের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে দেশের অন্যতম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত এই স্পটটি শিগগিরই বিলীন হয়ে যেতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর থেকেই সাদা পাথরে শুরু হয় পাথর লুট। সাম্প্রতিক দুই সপ্তাহে এ কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছে আরও বেশি নৌকা ও শ্রমিক। ভোলাগঞ্জ জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু করে রোপওয়ে বাঙ্কার এলাকা পর্যন্ত প্রতিদিন শত শত বারকি নৌকা দিয়ে প্রকাশ্যে পাথর তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
এ লুটপাটে বিএনপি, আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় প্রভাবশালীরা একযোগে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। আগে প্রতিটি নৌকার জন্য আলাদা চাঁদা দিতে হতো, কিন্তু বর্তমানে চাঁদার পরিবর্তে বাধ্যতামূলকভাবে পাথর বিক্রি করতে হচ্ছে সিন্ডিকেট সদস্যদের কাছে, নির্ধারিত কম দামে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, গত কয়েক মাসে দিনে-রাতে অন্তত হাজারের বেশি নৌকা ব্যবহার করে পাথর লুট হয়েছে। এসব পাথর মেশিনে ভেঙে বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে লুট হওয়া পাথরের সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও, স্থানীয়দের ধারণা—এর বাজারমূল্য কয়েক হাজার কোটি টাকা।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম চৌধুরী কিম বলেন, “গত এক বছরে যে পরিমাণ পাথর লুট হয়েছে, তা আগের ১৫ বছরের তুলনায় বহুগুণ বেশি। প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিলে এই বিপর্যয় রোধ করা সম্ভব ছিল।”
কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি উজায়ের মাহমুদ আদনান বলেন, “ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে টাস্কফোর্স অভিযান চালানো হয়, পুলিশ তাতে সহযোগিতা করে। তবে একা পুলিশের পক্ষে এটি ঠেকানো কঠিন।”
সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ জানান, নিয়মিত অভিযান চলছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।








