আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য করতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি সম্প্রীতি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাল্টিপার্টি অ্যাডভোকেসি ফোরাম (ম্যাফ)-এর আয়োজনে রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় শহরের সুরসম্রাট দি আলাউদ্দিন সংগীতাঙ্গণে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
সংলাপে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সংসদ সদস্য প্রার্থীরা অংশ নেন। বক্তারা বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য নয়, বরং দেশের আপামর জনগণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রত্যাশিত। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে হলে রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও নাগরিক সমাজের সম্মিলিত ভূমিকার কোনো বিকল্প নেই।
বক্তারা আরও বলেন, জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। রাজনৈতিক সম্প্রীতি, অহিংসা ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখতে সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য শুধু বক্তব্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নাগরিক সমাজের সামনে স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দেওয়াই এই সংলাপের মূল উদ্দেশ্য।
মাল্টিপার্টি অ্যাডভোকেসি ফোরাম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সভাপতি এ বি এম মোমিনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত এমপি প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহাবুব শ্যামল, জেলা ইসলামী আন্দোলনের সেক্রেটারি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের মনোনীত এমপি প্রার্থী আলহাজ মাওলানা গাজী নিয়াজুল করীম, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের এনসিপি মনোনীত এমপি প্রার্থী মো. আতাউল্লাহ, জেলা গণঅধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত এমপি প্রার্থী লিটন হুসাইন জিহাদ, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জহিরুল হক খোকন এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ।
ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের কনসালটেন্ট রুবাইয়াত হাসান ও ম্যাফ সদস্য শাহাদত হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মাল্টিপার্টি অ্যাডভোকেসি ফোরাম (ম্যাফ) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদ হাসান সানি। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল কুমিল্লা অঞ্চলের সিনিয়র রিজিওনাল ম্যানেজার আবুল বাশার।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অংশগ্রহণকারী প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা রাজনৈতিক সম্প্রীতি স্মারকে স্বাক্ষর করেন। পরে শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তা দেন তারা।
উল্লেখ্য, ইউকেএইড-এর অর্থায়নে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল পরিচালিত বাংলাদেশ স্ট্রেংথেনিং পলিটিক্যাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি ফর সিটিজেন এমপাওয়ারমেন্ট (বি-স্পেস) প্রকল্পের আওতায় এই সম্প্রীতি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।











