ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার ৫০ শয্যার সরকারি হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে চরম চিকিৎসক সংকটে ভুগছে। মাত্র ৩ জন চিকিৎসক দিয়ে কোনো রকমে চলছে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম। ফলে উপজেলার গরিব, অসহায় ও সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় প্রায় পৌনে দুই লাখ মানুষের বসবাস। এর মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবার জন্য এই হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক না থাকায় রোগীদের ভোগান্তি দিন দিন বেড়েই চলেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এখানে সরকারি চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ১৯টি। কাগজে-কলমে ৫ জন কর্মরত থাকলেও বাস্তবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা-সহ মাত্র ৩ জন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন ধরে ১৪টি চিকিৎসকের পদ শূন্য থাকায় সীমিত জনবল দিয়ে বিপুলসংখ্যক রোগীর চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা।
এদিকে গাইনি ও অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক না থাকায় প্রায় দেড় যুগ ধরে হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) থাকা মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও সরকারিভাবে গর্ভবতী মায়েদের জন্য বিনামূল্যে ডিএসএফ কার্যক্রম চালু রয়েছে, তবুও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকায় প্রতিদিনই প্রসূতি রোগীদের সিজারের জন্য বাইরে যেতে হচ্ছে।
এর ফলে রোগীদের হয়রানির পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। একইভাবে শিশু বিশেষজ্ঞ না থাকায় এলাকার শিশু রোগীরাও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা অনেক রোগী সন্তোষজনক চিকিৎসা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
হরিপুর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আসাদুজ্জামান বলেন,
“চিকিৎসক সংকটের কারণে রোগীদের যথাযথ সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। জনবহুল এই হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে আরও চিকিৎসক নিয়োগ প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শামীমুজ্জামান বলেন,
“হাসপাতালে কাগজে-কলমে ৫ জন চিকিৎসক থাকলেও বাস্তবে কর্মরত আছেন মাত্র ৩ জন। জনবল সংকটসহ সার্বিক বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।”
এলাকাবাসী দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ করে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।












