হোম প্রচ্ছদ পৃষ্ঠা 9

নাসিরনগরে পুলিশের ওপর হামলা, হ্যান্ডকাপ পরা অবস্থায় চাঁদাবাজির আসামি পালিয়েছে

পুলিশের ওপর হামলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে পুলিশের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনায় হ্যান্ডকাপ পরা অবস্থায় এক আসামি পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার নূরপুর গ্রামে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। হামলায় পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চাঁদাবাজি ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একাধিক মামলার পলাতক আসামি মাসুক মিয়াকে (৪০) গ্রেপ্তারে অভিযান চালায় নাসিরনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামালের নেতৃত্বে একটি দল। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে মাসুককে আটক করার পরপরই তার স্বজন ও স্থানীয় কিছু লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়।

ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে মাসুক মিয়া হ্যান্ডকাপ পরা অবস্থায় পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। এ সময় এসআই কামালসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। তাদের নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

থানা সূত্রে আরও জানা গেছে, মাসুক মিয়া ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে’ পুলিশের ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ৯৭ নম্বর আসামি। তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজহারুল ইসলাম বলেন,

“গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে উদ্ধারে অভিযান চলমান রয়েছে। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় আমরা আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছি। দায়ীদের শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে, আসামির হ্যান্ডকাপসহ পালিয়ে যাওয়া এবং পুলিশের ওপর প্রকাশ্য হামলায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে।


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফসলি জমি ভরাটে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, বালু জব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় পরিবেশ আইন লঙ্ঘনে জরিমানা ও বালু জব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সিমনা সড়কের পাশে ফসলি জমি ও বিল বালু দিয়ে ভরাট করে জমির শ্রেণি পরিবর্তনের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিফাত মো. ইশতিয়াক ভূঁইয়া।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই ২০২৫) দুপুরে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) অনুযায়ী আইন অমান্য করায় এক ব্যক্তিকে ২০,০০০ (বিশ হাজার) টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে জমিতে ফেলা ভরাটকৃত বালু জব্দ করা হয়।

ইউএনও সিফাত মো. ইশতিয়াক ভূঁইয়া বলেন, “ফসলি জমি ভরাট করে শ্রেণি পরিবর্তন করা পরিবেশ ও কৃষির জন্য মারাত্মক হুমকি। আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।”

তিনি আরও জানান, পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও আইন প্রয়োগের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

আশুগঞ্জে সেনা অভিযানে রিভলবার উদ্ধার, সন্ত্রাসী সাদ্দাম পলাতক, ভাই গ্রেফতার

আশুগঞ্জে সেনা অভিযানে রিভলবার উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে একটি বিদেশি রিভলভার ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানের সময় মূল অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেন পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে তার ভাই মো. আসাদ মিয়াকে (৩৮) গ্রেফতার করেছে যৌথ বাহিনী।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) ভোররাতে উপজেলার চরচারতলার আলাল শাহ মাজার সংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। আশুগঞ্জ আর্মি ক্যাম্পের ক্যাপ্টেন ইমরানের নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা অভিযানে অংশ নেন।

সেনাবাহিনীর পাঠানো প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় ক্যাডার। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সাবেক এক সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট আশুগঞ্জে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা একাধিক মামলায় সাদ্দাম এজাহারভুক্ত আসামি।

অভিযানকালে সাদ্দামের বসতবাড়ির আঙিনায় ৪-৫ ফুট গভীর গর্ত খুঁড়ে একটি বিদেশি রিভলভার, দুটি গুলি এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়। সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে সাদ্দাম পালিয়ে গেলেও তার ভাই আসাদ মিয়াকে আটক করা হয়।

পরে আটক আসামিকে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও মোবাইলসহ আশুগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়।

আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম জানান, আটক আসামির বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে এবং পলাতক সাদ্দামকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ঘুষ কাণ্ডে সরাইল হাইওয়ে থানার ওসিসহ ৬ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া হাইওয়ে থানা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রহমানসহ ছয় পুলিশ সদস্যকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সোমবার (১৫ জুলাই) তাদেরকে থানার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা অঞ্চলের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়।

হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৩ জুলাই ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে সিলেট থেকে ঢাকাগামী একটি পণ্যবাহী কাভার্ড ভ্যান থামিয়ে টহল পুলিশের সদস্যরা চালককে আটকান। পরে ‘অবৈধ পণ্য পরিবহনের’ অভিযোগে গাড়ি থেকে ৮০ হাজার টাকা আদায় করেন তারা। এই ঘটনায় একটি বেসরকারি টেলিভিশনে প্রতিবেদন প্রচার হলে পুলিশ প্রশাসনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওসি মামুনুর রহমান, এএসআই পিপলু বড়ুয়াসহ ছয়জন সদস্যকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এসআই সজীব মিয়া।

এ বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা অঞ্চলের পুলিশ সুপার খাইরুল আলম বলেন, “ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিষয়টি দেখছেন। তদন্ত শেষে যারা দোষী প্রমাণিত হবেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন শেখ মইনউদ্দিন

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে শেখ মইনউদ্দিন, প্রজ্ঞাপন জারি

প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. শেখ মইনউদ্দিনকে এবার রেলপথ মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী ক্ষমতাসম্পন্ন বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৪ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এতে বলা হয়, রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাকে সহায়তা করতে শেখ মইনউদ্দিনকে নির্বাহী ক্ষমতা প্রদান করা হলো। এর ফলে তিনি এখন একযোগে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি রেলপথ মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্ব পালন করবেন।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৫ মার্চ সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টাকে সহায়তা করতে ড. শেখ মইনউদ্দিনকে একই ধরনের ক্ষমতা দিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, প্রধান উপদেষ্টার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বর্তমানে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ—এই তিনটি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১০ দিনব্যাপী বৃক্ষমেলা শুরু

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১০ দিনব্যাপী বৃক্ষমেলা শুরু

পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শুরু হয়েছে ১০ দিনব্যাপী বৃক্ষমেলা। রবিবার (১৪ জুলাই) সকালে শহরের পৌর মুক্তমঞ্চে মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. দিদারুল আলম। জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ আয়োজনে এই মেলা চলবে ২৩ জুলাই পর্যন্ত।

উদ্বোধনী আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন রেঞ্জ বন কর্মকর্তা মো. শাহজাহান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাহমুদা আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রকিব উর রাজা, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত মো. ইশতিয়াক ভূঁইয়া, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

উদ্বোধনী বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, “জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে গাছ লাগানোর বিকল্প নেই। প্রত্যেকে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অন্তত একটি করে গাছ লাগান—এটাই হোক আজকের অঙ্গীকার।”

মেলায় বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ভেষজ গাছের চারা প্রদর্শন ও বিক্রয় চলছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো।

নিবন্ধন স্থগিত হলেও ‘নৌকা’ থাকছে প্রতীক তালিকায়: নির্বাচন কমিশন

নির্বাচন কমিশন

আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকলেও নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে ‘নৌকা’ বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ রোববার (২ জুন) সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

তিনি বলেন, “নিবন্ধন স্থগিত থাকলেও কোনো প্রতীক বাতিল হয় না। এমনকি কোনো দল বিলুপ্ত হলেও প্রতীক নির্বাচন কমিশনের তালিকায় সংরক্ষিত থাকে। প্রতীক হলো কমিশনের সম্পদ।”

আব্দুর রহমানেল মাছউদ আরও বলেন, “নৌকা প্রতীকটি একটি দলকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। দলটি এখনো বাতিল হয়নি, কেবল নিবন্ধন স্থগিত। দল বিলুপ্ত হলেও প্রতীক বাতিল হবে না। যেমন—ফ্রিডম পার্টির অস্তিত্ব নেই, তবু তাদের প্রতীক এখনো রয়েছে।”

নির্বাচন কমিশনার বলেন, “আমাদের অবস্থান আইননির্ভর। প্রতীক বরাদ্দের দায়িত্ব কমিশনের। একবার বরাদ্দ হয়ে গেলে দলটি তা ব্যবহার করতে পারে। দল না থাকলেও প্রতীক বাতিল হয় না। এটি একটি যৌক্তিক প্রক্রিয়া।”

উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন স্থগিত করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নির্বাচন কমিশনে আবেদন করে নৌকা প্রতীক বাতিল ও ‘শাপলা’ প্রতীক তালিকাভুক্ত করার দাবি জানায়।

তবে নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, ‘নৌকা’ প্রতীক নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার তফসিল থেকে বাদ দেওয়া হবে না। একইসঙ্গে ‘শাপলা’ প্রতীককে নতুন করে তালিকাভুক্ত না করার আগের নীতিগত সিদ্ধান্তও বহাল রয়েছে।

নির্বাচনী আইন অনুযায়ী প্রতীক ব্যবস্থাপনা নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকলেও রাজনৈতিক বাস্তবতায় এসব প্রতীকের গুরুত্ব বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এই অবস্থায় ‘নৌকা’ প্রতীকের ভবিষ্যত ব্যবহার নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা আরও জোরালো হতে পারে বলে ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

বিএনপিকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না — মির্জা ফখরুল

বিএনপিকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না

বিএনপির বিরুদ্ধে চলমান অপপ্রচারের পেছনে পরিকল্পিত চক্রান্ত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, “জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করতে বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তবে বিএনপিকে এত সহজে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না।”

রবিবার (২ জুন) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত ‘তারেক রহমান : দ্য হোপ অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, “বিএনপি বারবার প্রমাণ করেছে ধ্বংসস্তূপ থেকে ঘুরে দাঁড়ানো যায়। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর অনেকে ভেবেছিল বিএনপি শেষ। কিন্তু সেই বিএনপি আবার খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ছাত্র-যুবকদের সঙ্গে নিয়ে জেগে উঠেছে।”

তিনি আরও বলেন, “আজকের অপপ্রচারের পেছনে রয়েছে গভীর ষড়যন্ত্র। সেই চক্রান্তের লক্ষ্য হলো—জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ধ্বংস করা এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া। কিন্তু মনে রাখতে হবে, বিএনপিকে এত সহজে মুছে ফেলা যাবে না।”

বিএনপি মহাসচিব বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় দলীয় নেতাকর্মীদের তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি নিয়মিত পড়াশোনা করে রাজনৈতিক সচেতনতা ও জ্ঞানের পরিধি বাড়ানোর আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে দলীয় নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বইটিতে তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবন, দর্শন ও ভবিষ্যৎ ভাবনার নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে।

কসবা সীমান্তে এক কোটি টাকার ভারতীয় শাড়ি উদ্ধার

কসবা সীমান্তে এক কোটি টাকার ভারতীয় শাড়ি উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মঈনপুর সীমান্ত এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রবিবার (১ জুন) সকালে চালানো এক বিশেষ অভিযানে ১,১৩৪ পিস ভারতীয় শাড়ি উদ্ধার করা হয়, যার বাজারমূল্য আনুমানিক এক কোটি ২০ লাখ ৫২ হাজার টাকা।

বিজিবি ৬০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. জিয়াউর রহমান বলেন, “গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালানো হয়। আমাদের আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়মিতভাবে চলছে। এরই অংশ হিসেবে মঈনপুর সীমান্তে অভিযান চালিয়ে বিপুল সংখ্যক চোরাই শাড়ি জব্দ করা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, জব্দকৃত শাড়িগুলো আখাউড়া কাস্টমসে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

বিজিবির এমন সফল অভিযানে চোরাচালান প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা নিয়াজুল করিম

ইসলামী আন্দোলনের ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৩ আসনের প্রার্থী হলেন মাওলানা নিয়াজুল করিম

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কুমিল্লা বিভাগের ২৪টি আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসন থেকে দলটির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সেক্রেটারি আলহাজ্ব মাওলানা গাজী নিয়াজুল করিম।

কে এই মাওলানা নিয়াজুল করিম?

মাওলানা গাজী নিয়াজুল করিম ১৯৭৬ সালে সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম মলাই মিয়া সর্দার ছিলেন এলাকার খ্যাতনামা শালিসকারক। তাঁদের পরিবার ঐতিহাসিক শালগাঁও কালিসীমার দুলা গাজীর বংশধর।

শিক্ষাজীবন

প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন বিরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরে দক্ষিণ জগৎসার ইসলামিয়া ইয়াকুবিয়া মাদরাসা, চান্দপুর মিফতাহুল উলূম, পটিয়া মাদ্রাসা ও জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দাওরায়ে হাদীস (মাস্টার্স সমমান) সম্পন্ন করেন। বর্তমানে জামিয়া ইউনুছিয়ার মুহতামিম পীরে কামেল মুফতি মুবারকুল্লাহ সাহেবের খলিফা ও খানকায়ে মুবারাকা ইসলাহী কেন্দ্র পরিচালনা করছেন।

কর্মজীবন

ধর্মীয় শিক্ষা ও সমাজসেবার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন মসজিদে ইমাম ও খতিবের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি নিজের প্রতিষ্ঠিত ‘বাইতুল করীম মসজিদ ও মাদ্রাসা কমপ্লেক্স’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও মুহতামিম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যবসায়িকভাবেও তিনি সক্রিয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের রাধিকা চৌমুহনীতে রয়েছে তাঁর প্রতিষ্ঠান ‘নাজাহ্-নাজিবা এন্টারপ্রাইজ’।

রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা

১৯৯৩ সালে চরমোনাই পীর সৈয়দ ফজলুল করীম (রহ.)-এর হাতে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনে যোগ দেন। এরপর জেলা প্রচার সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা সেক্রেটারির দায়িত্ব পান। বর্তমানে তিনি একই দায়িত্বে রয়েছেন। পাশাপাশি জাতীয় শিক্ষক ফোরামের কেন্দ্রীয় সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং উলামা ঐক্য পরিষদের সেক্রেটারিও তিনি।

তিনি অতীতেও নির্বাচন করেছেন। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ২০১১ সালের উপ-নির্বাচনে “হাতপাখা” প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

আন্দোলন ও সংগ্রাম

২০০১ সালে হাইকোর্টের ফতোয়া বিরোধী রায়ের প্রতিবাদে ছাত্রলীগের হাতে নির্যাতিত হন। ২০২১ সালে মোদী বিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে র‍্যাব কর্তৃক গ্রেফতার হন এবং প্রায় ৭ মাস কারাভোগ করেন।

সমাজসেবায় অবদান

তিনি সুলতানপুর ইউনিয়ন পরিষদের শালিশ বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এলাকার বিভিন্ন সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আস্থা অর্জন করেছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হিসেবে তাঁর মনোনয়ন, দলটির কর্মী-সমর্থকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা তৈরি করেছে।

- Advertisement -

জনপ্রিয় সংবাদ

গরম খবর