হোম প্রচ্ছদ পৃষ্ঠা 8

ফ্যাসিবাদ যেন আর ফিরতে না পারে, সজাগ থাকার আহ্বান তারেক রহমানের

তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশে যাতে আর কখনও ফ্যাসিবাদ, উগ্রবাদ ও চরমপন্থা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে নারীদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেন, “নারীসমাজকে এখন থেকেই সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে। এ জন্য দেশের প্রতিটি মা-বোনের প্রতি আমি আহ্বান জানাই।”

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের আয়োজনে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নারীর অবদান’ শীর্ষক এই সভাটি আয়োজন করা হয় জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের স্মরণে।

আলোচনা সভার শুরুতে মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা পদক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে একটি তথ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়, যেখানে নারীদের ভূমিকা তুলে ধরা হয়।

তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদেশ যেন আবার কোনো স্বৈরাচারী শক্তির হাতে না পড়ে, সেটা নিশ্চিত করতে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। শহীদদের রক্ত যেন বৃথা না যায়, সে জন্য ইনসাফভিত্তিক একটি বাংলাদেশ গঠনে আমাদের অঙ্গীকার থাকতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “পরিবারভিত্তিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে প্রথম পর্যায়ে ৫০ লাখ প্রান্তিক পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া হবে, যার মালিক হবেন পরিবারের নারী সদস্য। এটি নারী ক্ষমতায়নের একটি বড় ধাপ হবে।”

তারেক রহমান আরও বলেন, “আমার পরিবারও ফ্যাসিবাদের নির্মমতা অনুভব করেছে। আমার মা বেগম খালেদা জিয়া তাঁর সন্তান আরাফাত রহমান কোকোকে হারিয়েছেন। দেশের বহু নারী তাঁদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এসবের অবসান ঘটিয়ে আমরা একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ পেয়েছি, এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।”

তিনি নারীদের শিক্ষা ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “নারী-পুরুষের মধ্যে সমতা তৈরি না হলে সমাজ এগোবে না। নারীদের কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে একটি সুস্থ ও মানবিক রাষ্ট্র গড়াই বিএনপির অঙ্গীকার।”

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, জেএসডির সহসভাপতি তানিয়া রব, অধ্যাপক তাজমেরী এস এ ইসলাম, তাহসিনা রুশদীর লুনা, শিরিন সুলতানা, সানজিদা ইসলাম তুলি ও বিশিষ্ট টক শো উপস্থাপক হাসিনা আখতার প্রমুখ।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশে যাতে আর কখনও ফ্যাসিবাদ, উগ্রবাদ ও চরমপন্থা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে নারীদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেন, “নারীসমাজকে এখন থেকেই সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে। এ জন্য দেশের প্রতিটি মা-বোনের প্রতি আমি আহ্বান জানাই।”

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের আয়োজনে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নারীর অবদান’ শীর্ষক এই সভাটি আয়োজন করা হয় জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের স্মরণে।

আলোচনা সভার শুরুতে মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা পদক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে একটি তথ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়, যেখানে নারীদের ভূমিকা তুলে ধরা হয়।

তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদেশ যেন আবার কোনো স্বৈরাচারী শক্তির হাতে না পড়ে, সেটা নিশ্চিত করতে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। শহীদদের রক্ত যেন বৃথা না যায়, সে জন্য ইনসাফভিত্তিক একটি বাংলাদেশ গঠনে আমাদের অঙ্গীকার থাকতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “পরিবারভিত্তিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে প্রথম পর্যায়ে ৫০ লাখ প্রান্তিক পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া হবে, যার মালিক হবেন পরিবারের নারী সদস্য। এটি নারী ক্ষমতায়নের একটি বড় ধাপ হবে।”

তারেক রহমান আরও বলেন, “আমার পরিবারও ফ্যাসিবাদের নির্মমতা অনুভব করেছে। আমার মা বেগম খালেদা জিয়া তাঁর সন্তান আরাফাত রহমান কোকোকে হারিয়েছেন। দেশের বহু নারী তাঁদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এসবের অবসান ঘটিয়ে আমরা একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ পেয়েছি, এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।”

তিনি নারীদের শিক্ষা ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “নারী-পুরুষের মধ্যে সমতা তৈরি না হলে সমাজ এগোবে না। নারীদের কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে একটি সুস্থ ও মানবিক রাষ্ট্র গড়াই বিএনপির অঙ্গীকার।”

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, জেএসডির সহসভাপতি তানিয়া রব, অধ্যাপক তাজমেরী এস এ ইসলাম, তাহসিনা রুশদীর লুনা, শিরিন সুলতানা, সানজিদা ইসলাম তুলি ও বিশিষ্ট টক শো উপস্থাপক হাসিনা আখতার প্রমুখ।

হরিপুরে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা: বাল্যবিবাহ ও মাদক নির্মূলে গুরুত্বারোপ

বাল্যবিবাহ

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মাসিক কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিকাশ চন্দ্র বর্মন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন হরিপুর থানার প্রতিনিধি, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীর এবং গণঅধিকার পরিষদের স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা।

সভায় সাম্প্রতিক সময়ের সড়ক দুর্ঘটনা, নারী ও শিশু নির্যাতন, পাচার, বাল্যবিবাহ রোধ, চিকিৎসা সেবা, মাদক, সীমান্তে চোরাচালান ও সাধারণ চুরি-ছিনতাইসহ সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।

সভায় বিজিবি প্রতিনিধিরা সীমান্ত এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকায় সচেতনতা বাড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান কর্মকর্তারা।

এছাড়া বাল্যবিবাহ ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেন বক্তারা এবং প্রতিটি ইউনিয়নে সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনার সরকার টিকে থাকার জন্য নিরীহ মানুষকে গুলি করে হত্যা করেছে: মির্জা ফখরুল

মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, বর্তমান শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা ধরে রাখতে সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালিয়ে হত্যা করেছে। তার ভাষায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের জনগণের সেবক না হয়ে, শাসকের ভূমিকায় মানুষ হত্যা করেছেন।

বুধবার (৩০ জুলাই) বিকেলে সাভারের আশুলিয়ার শ্রীপুর গণকবাড়ী দারুল ইহসান মাদ্রাসা মাঠে ‘নারকীয় আশুলিয়া’ ব্যানারে আয়োজিত ঢাকা জেলা বিএনপির জনসভায় এসব মন্তব্য করেন তিনি।

গণঅভ্যুত্থানে হতাহত পরিবারের সদস্যদের সম্মানার্থে আয়োজিত এই জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব।

মির্জা ফখরুল বলেন, “আজকের এই সভায় যারা তাদের প্রিয়জন হারিয়েছেন, তাদের বিচার চাওয়ার আহ্বানই এখন জাতীয় দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতের ছায়ায় আশ্রয় নিয়ে শেখ হাসিনা ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছেন, যার প্রমাণ গোপালগঞ্জে দেখা গেছে।”

তিনি আরও দাবি করেন, “গত ১৫ বছর ধরে দেশের জনগণের উপর একনাগাড়ে দমন-পীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে এই সরকার। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলারের কায়দায় আশুলিয়ায় মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়েছে।”

দেশকে পুনরায় গঠনের লক্ষ্যে বিএনপির পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, “২০১৬ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ‘ভিশন ২০৩০’ উপস্থাপন করেছিলেন। পরবর্তীতে তারেক রহমান ৩১ দফার রূপরেখা দিয়েছেন রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংস্কারে।”

আহত ও নিহতদের পরিবারের অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, “যারা এই আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন বা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, তারা আজও প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত। সরকারের উচিত প্রশাসনিকভাবে তাদের পাশে দাঁড়ানো।”

অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হকসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

আশুগঞ্জে মেঘনায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ৭টি ড্রেজার ও ১টি বাল্কহেড জব্দ

ড্রেজার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে ৭টি ড্রেজার ও ১টি বাল্কহেড জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) বিকেলে উপজেলার দুর্গাপুর এলাকার মেঘনা নদীতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাফে মোহাম্মদ ছড়ার নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে সহায়তা করে আশুগঞ্জ থানা পুলিশ ও ভৈরব নৌ থানার একটি টিম।

অভিযানের সময় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে মেসার্স আবির ট্রেডার্স, আবাবিল ড্রেজিং প্রকল্প, সাকিব-সাব্বির লোড ড্রেজার, আতিবা-আদিবা লোড ড্রেজার, আল্লাহ সর্বশক্তিমান ড্রেজার, গাউসিয়া লোড ড্রেজার, জোন শাহ ড্রেজার নামে সাতটি ড্রেজার এবং জিয়া অ্যান্ড সাব্বির এন্টারপ্রাইজ নামের একটি বাল্কহেড জব্দ করা হয়।

অভিযান চলাকালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতি টের পেয়ে সংশ্লিষ্ট ড্রেজার ও বাল্কহেডের মালিক ও চালকরা পালিয়ে যায়। পরে এসব জব্দ করা যানবাহন নৌ পুলিশের জিম্মায় দেওয়া হয়।

নির্বাহী কর্মকর্তা রাফে মোহাম্মদ ছড়া জানান, নদী ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। নিয়ম বহির্ভূতভাবে প্রাকৃতিক সম্পদ লুটপাটকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত ব্যক্তির মৃত্যু

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত ব্যক্তির মৃত্যু

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে জেলা শহরের কলেজ গেইট এলাকায় চট্টগ্রামগামী নাসিরাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে তিনি মারা যান।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. কাউসার আলম। তিনি জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এএসআই কাউসার আরও জানান, নিহত ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৪০ থেকে ৪৫ বছর হবে। তার পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরিচয় শনাক্তে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

রেলওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

বিজয়নগরে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী গ্রেফতার

মাদক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে যৌথবাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ গ্রেফতার হয়েছেন উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য নিলুফা ইয়াসমিন (৪৫)। তার সঙ্গে আটক করা হয়েছে সহযোগী সাব্বিরুল আলম (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে।

শনিবার (২৭ জুলাই) দুপুরে উপজেলার বুধন্তী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে নিলুফা ইয়াসমিনের নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনী তাদের গ্রেফতার করে। অভিযানের সময় নিলুফার স্বামী ও চিহ্নিত মাদক কারবারি মিনার মিয়া কৌশলে পালিয়ে যায়।

অভিযানে উদ্ধার করা হয় ৯৬ বোতল ফেনসিডিল, ৩০ পিস ইয়াবা, একটি প্রাইভেটকার (নম্বর: ঢাকা মেট্রো-খ ১৪-০১৫৪), দুটি মোবাইল ফোন ও নগদ ৩ হাজার ৮০০ টাকা। উপস্থিত স্বাক্ষীদের সামনে উদ্ধারকৃত মালামাল জব্দ করে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

বিজয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, “আটকদের সেনাবাহিনীর কাছ থেকে বুঝে নেওয়ার পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”

এ ঘটনার পর স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের একজন নেত্রী কীভাবে এমন অপরাধে যুক্ত হন তা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। এলাকাবাসীর দাবি, ঘটনা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

প্রসঙ্গত, নিলুফা ইয়াসমিন দীর্ঘদিন ধরে মহিলা আওয়ামী লীগের উপজেলা কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার বিরুদ্ধে পূর্বেও নানা বিতর্ক থাকলেও এ ধরনের সরাসরি মাদক সংশ্লিষ্টতায় গ্রেফতারের ঘটনা প্রথম।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এলাকায় মাদক নির্মূলে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভায় ঠিকাদারকে দরপত্র জমা দিতে বাধা, অভিযোগ তদন্তে জেলা প্রশাসন

brahmanbaria pourashava

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার বর্জ্য অপসারণ, ড্রেন পরিষ্কার ও রাস্তা ঝাড়ুর কাজের জন্য আহ্বান করা দরপত্র জমা দিতে এসে বাধার মুখে পড়েছেন এক বাইরের ঠিকাদার। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় একদল ঠিকাদার তাকে বাধা দিয়ে জোরপূর্বক দরপত্র ছিনিয়ে নেয় এবং তা খুলে ফেলে। এ ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয় ঠিকাদার সমাজে।

ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (২৮ জুলাই) দুপুরে পৌরসভা কার্যালয়ের নিচতলায়। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় দরপত্র জমাদান প্রক্রিয়া স্থগিত করেন পৌর প্রশাসক।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার ৩, ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য গত ৯ জুলাই দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্র বিক্রির শেষ তারিখ ছিল ২৭ জুলাই, আর জমাদানের শেষ সময় নির্ধারণ ছিল ২৯ জুলাই দুপুর ২টা পর্যন্ত। ছয়টি দরপত্র বিক্রি হলেও শেষ পর্যন্ত জমা পড়ে মাত্র তিনটি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পৌরসভার তিনজন কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, ওই দিন দুপুরে দরপত্র জমা দিতে আসেন কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সুপার ক্লিন বিডি লিমিটেড-এর মালিক রাজু চন্দ্র সিং। তিনি নিচতলায় জমাদান বাক্সে খাম ফেলতে গেলে কয়েকজন স্থানীয় ঠিকাদার তার পরিচয় জেনে তাকে বাধা দেন। একপর্যায়ে তার হাত থেকে খাম ছিনিয়ে নিয়ে তা খুলে ফেলেন এবং জোর করে ভবন থেকে বের করে দেন।

ঘটনার পর রাজু চন্দ্র সিং বিষয়টি পৌর প্রশাসক শঙ্কর কুমার বিশ্বাস ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা গোলাম কাউসারকে ফোনে অবহিত করেন। তিনি বলেন, “দুপুর একটার দিকে দরপত্র জমা দিতে গেলে কয়েকজন ব্যক্তি আমার পথরোধ করেন। কাজটি তারা করবেন বলে জানিয়ে আমাকে দরপত্র জমা না দিতে বলেন। পরে খাম ছিনিয়ে নিয়ে তা খুলে দেখেন। ফেরত চাইলে দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে ভেবে আমি সেখান থেকে চলে আসি।”

রাজু আরও জানান, তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌরসভায় একই প্রকল্পে কাজ করছেন এবং বৈধভাবে দরপত্র কিনে জমা দিতে এসেছিলেন।

এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক শঙ্কর কুমার বিশ্বাস বলেন, “এক ঠিকাদার দরপত্র জমা দিতে পারেননি বলে মৌখিক অভিযোগ করেছেন। দরপত্র সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত আছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নেবেন।”

এ ঘটনার পর থেকে স্থানীয় ঠিকাদারদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হরিপুরে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা থেকে বেসরকারি শিক্ষার্থীদের বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন

সারা দেশের মতো ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় বেসরকারি ও কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ বাতিলের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন সোসাইটি হরিপুর উপজেলা শাখার ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধনে উপজেলার অন্তর্ভুক্ত ১২টি কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষকসহ শতাধিক শিক্ষা অনুরাগী অংশগ্রহণ করেন।

প্রতিবাদকারীরা দাবি করেন, সম্প্রতি ১৭ জুলাই ২০২৫ তারিখে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত এক পরিপত্রে বেসরকারি ও কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা শিক্ষা-সমতায় বড় বাধা সৃষ্টি করবে।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন সোসাইটির হরিপুর উপজেলা শাখার সভাপতি খালিলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক আহম্মেদসহ অন্যান্য শিক্ষক-অভিভাবকরা।

বক্তারা বলেন, “সরকারি স্কুলে না পড়লেই যদি বৃত্তির অধিকার না থাকে, তবে এটি সংবিধান ও শিক্ষা নীতিমালার পরিপন্থী। এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।”

মানববন্ধন শেষে হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র বর্মণ ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

হরিপুরে ৩৫ মেধাবী শিক্ষার্থীকে উদ্দীপনা পুরস্কার প্রদান

হরিপুরে ৩৫ মেধাবী শিক্ষার্থীকে উদ্দীপনা পুরস্কার প্রদান

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় ২০২২ ও ২০২৩ সালের এসএসসি ও এইচএসসি সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৩৫ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে ‘উদ্দীপনা পুরস্কার’ প্রদান করা হয়েছে। সোমবার (২১ জুলাই) দুপুর ১২টায় উপজেলা পরিষদের হল রুমে এ পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

‘পারফরমেন্স বেজড গ্র্যান্টস ফর সেকেন্ডারি ইনস্টিটিউশনস (PBGSI)’ স্কিমের আওতায় এসইডিপি (SEDP) এর উদ্যোগে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। আয়োজক ছিল হরিপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও ঠাকুরগাঁও জেলা শিক্ষা অফিস।

উচ্চ শিক্ষায় উৎসাহ ও প্রেরণা দিতে ২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৩৫ জন ছাত্র-ছাত্রীকে আর্থিক সহায়তা, ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রাইহানুল ইসলাম মিঞা।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এসইডিপির সহকারী পরিচালক সাদেক আহম্মেদ খান।

বিশেষ অতিথি ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা শিক্ষা অফিসার শাহীন আক্তার।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার রাইহানুল ইসলাম মিঞা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, “এই পুরস্কার শুধু সম্মান নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা। মেধাবী শিক্ষার্থীদের এমন স্বীকৃতি পেলে তারা আরও মনোযোগী হবে উচ্চ শিক্ষার প্রতি।”

পরে অতিথিরা শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার হিসেবে সনদপত্র, ক্রেস্ট ও আর্থিক সহায়তা তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় ২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি, প্রধান শিক্ষক/অধ্যক্ষ, অভিভাবক, ছাত্র-ছাত্রী, সাংবাদিক ও শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উত্তরায় বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত, হতাহতের শঙ্কা

বিমান বিধ্বস্ত

রাজধানীর উত্তরায় বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান F-7 BGI বিধ্বস্ত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানীর উত্তরা দিয়াবাড়ি এলাকায়, মাইলস্টোন কলেজের মূল ক্যাম্পাসের ওপর। দুর্ঘটনার ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেকে হতাহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সূত্র জানায়, দুপুর ১টা ৬ মিনিটে বিমানটি উড্ডয়ন করে। কিছু সময়ের মধ্যেই এটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইলস্টোন কলেজের একটি ভবনের ওপর বিধ্বস্ত হয়।

দুপুর ২টার কিছু পরে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এবং ফায়ার সার্ভিস নিশ্চিত করে, ঘটনাস্থলে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের উত্তরা, টঙ্গী, পল্লবী, কুর্মিটোলা, মিরপুর ও পূর্বাচল স্টেশনের ৮টি ইউনিট।

দুর্ঘটনার দৃশ্য ভয়াবহ

দুর্ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে বিধ্বস্ত ভবনের পাশ থেকে গাড়াগাড়ি ধোঁয়া উড়ছে, চারদিকে আগুন জ্বলছে, আর মানুষজন আতঙ্কে ছোটাছুটি করছেন।

একাধিক ভিডিওতে সেনাবাহিনীর সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের আহতদের উদ্ধার করতে দেখা গেছে। গুরুতর আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টার দৃশ্যও ধরা পড়ে ক্যামেরায়।

কলেজ কর্তৃপক্ষের ভাষ্য

মাইলস্টোন কলেজের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান,

“বিমানটি কলেজ ভবনের ওপর বিধ্বস্ত হওয়ায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের অনেকে আহত হয়েছেন বলে ধারণা করছি।”

উদ্ধার অভিযান চলছে

দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেয়। বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার প্রকৃত কারণ এবং হতাহতের সঠিক সংখ্যা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।

ঘটনাস্থল ঘিরে উত্তরায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সেনা ও বিমান বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার ও তদন্তে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

- Advertisement -

জনপ্রিয় সংবাদ

গরম খবর