ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী তাহমিনা সারমিনের প্রত্যাহার দাবি করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বুধবার দুপুরে আশুগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
এনসিপির উপজেলা প্রধান সমন্বয়কারী আমিনুল ইসলাম ডালিম লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের পাশে ‘মীর মুগ্ধ চত্বরে’ শহীদদের স্মরণে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের প্রস্তুতিতে এসি ল্যান্ড বাধা দেন। তিনি দাবি করেন, অনুষ্ঠানটি পূর্ব অনুমতির ভিত্তিতে আয়োজন করা হচ্ছিল, তবে ওই কর্মকর্তা অনুষ্ঠান বন্ধের চেষ্টা করেন এবং পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ মাহাদী, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আতাউল্লাহ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সমন্বয়কারী আজিজুর রহমান লিটন, যুগ্ম সমন্বয়কারী আকিব জাবেদসহ স্থানীয় নেতারা।
এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে আশুগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এসি ল্যান্ড কাজী তাহমিনা সারমিন। জিডিতে তিনি অভিযোগ করেন, এনসিপির নেতারা অবৈধভাবে ভূমি কার্যালয়ের বেষ্টনী ভাঙার চেষ্টা করেছেন, অনুমতি ছাড়া অনুষ্ঠান করেছেন এবং তাঁকে বদলির হুমকি দিয়েছেন।
এনসিপি নেতাদের দাবি, তারা মৌখিক অনুমতি নিয়েই শহীদদের স্মরণে দোয়া মাহফিল করেছেন এবং কোনো ভাঙচুর বা হুমকির ঘটনা ঘটেনি।
অভিযোগের বিষয়ে কাজী তাহমিনা সারমিন বলেন, “তারা অনুষ্ঠান আয়োজনের কোনো লিখিত অনুমতি নেননি। উল্টো অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন ও বদলির হুমকি দিয়েছেন।” তিনি জানান, ৫ আগস্টের পর দপ্তরে নিরাপত্তার জন্য অস্থায়ী টিনের বাউন্ডারি দেওয়া হয়েছিল এবং এ ঘটনার সঙ্গে ম্যুরাল ভাঙচুরের কোনো সম্পর্ক নেই।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এনসিপি নেতারা অনুমতি প্রসঙ্গে সরাসরি কোনো উত্তর দেননি। তবে জেলা সমন্বয়কারী আজিজুর রহমান বলেন, “আমরা শহীদদের জন্য দোয়া মাহফিল করেছি, এর জন্য অনুমতির দরকার আছে বলে মনে করি না।”
আজ মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ করবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বিটিভিতে অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জুলাই মাসে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানের পটভূমি ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে এ ঘোষণাপত্র তৈরি করা হয়েছে। বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের পরামর্শে চূড়ান্ত করা এই দলিলটিকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়েও ঐকমত্যে পৌঁছেছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ঘোষণাপত্রে মোট ২৬টি দফা রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম অংশে উল্লেখ করা হয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধ, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং সদ্য ঘটে যাওয়া জুলাই অভ্যুত্থানের পটভূমি।
‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ নিয়ে এর আগে দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি এই দাবিতে একাধিক কর্মসূচিও পালন করে।
এ উপলক্ষে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে দিনব্যাপী নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন করেছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়। সকাল ১১টায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করছে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও ব্যান্ড দল। বিকেল ৫টায় ঐতিহাসিক ঘোষণাপত্র পাঠের পর সন্ধ্যায় থাকবে বিশেষ আয়োজন—‘ড্রোন ড্রামা’। রাত আটটায় শিল্পী ব্যান্ড ‘আর্টসেল’-এর পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হবে।
অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে জুলাই আন্দোলনে শহীদদের পরিবার, আহতদের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী এবং নাগরিক সমাজের বিশিষ্টজনদের।
সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী কালের দর্পণকে বলেন, “জুলাই সবার। তাই এই আয়োজনেও থাকবে সবার অংশগ্রহণ।” তিনি জানান, ঘোষণাপত্র পাঠের পর মঞ্চে আবার শুরু হবে সাংস্কৃতিক আয়োজন, যা শেষ হবে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ‘নিউ মিডিয়া’ প্রদর্শনী দিয়ে।
এদিকে, অনুষ্ঠান কেন্দ্র করে সংসদ ভবন ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে আনতে ডিএমপি বিকল্প সড়ক ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৫ জনের। রোববার (৩ আগস্ট) বিকেলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রামপুর এলাকায় দুই মোটরসাইকেল ও একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষে ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা।
নিহতরা হলেন—সরাইল উপজেলার বাড়িউড়া গ্রামের সুমন (২৯), সদর উপজেলার মৈন্দ গ্রামের লোকমান হোসেন (৩০) ও তুহিন হাসান (২৯), বিজয়নগরের সাতগাঁও গ্রামের আকরাম (২৫) এবং রংপুরের মনিরুজ্জামান (২১)।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে মোটরসাইকেলে করে ফুটবল খেলা দেখতে যাচ্ছিলেন সুমন, লোকমান ও তুহিন। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ঠিক সেই সময় দ্রুতগামী একটি সিএনজি অটোরিকশাও ঘটনাস্থলে এসে ধাক্কা দিলে ঘটে ত্রিমুখী সংঘর্ষ।
ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় একজনকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও চারজন—সবুজ (১৯), আহাদ (২০), আলামিন ও ইয়ামিন। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে তিনি জানান।
সড়কে এই করুণ মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা দ্রুতগতির যানবাহন ও বেপরোয়া চালনার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
দেশের জনপ্রিয় অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি ফ্লাইট এক্সপার্ট–এর ওয়েবসাইট হঠাৎ অকার্যকর হয়ে পড়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। গ্রাহকরা নিজেদের বুকিং ও টাকার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন জানিয়েছেন, আজ শনিবার প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের পক্ষে সাঈদ আহমেদ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। তিনি জানান, ফ্লাইট এক্সপার্ট–এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সালমান বিন রাশিদ শাহ সায়েম হঠাৎ করেই নিরুদ্দেশ হয়েছেন।
জিডিতে উল্লেখ করা হয়, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বার্তা দিয়ে মালিক পালানোর তথ্য জানান। এরপর কর্মীরা অফিসে গিয়ে দেখতে পান, মালিক নেই এবং অফিস কার্যক্রম বন্ধ।
জিডিতে আরও বলা হয়, “গ্রাহকদের অর্থনৈতিক লেনদেন এখন ঝুঁকিতে পড়েছে। কেউ কেউ কর্মীদের হুমকি দিচ্ছেন।”
এদিকে কয়েকটি ট্রাভেল এজেন্সি অভিযোগ করেছে, তারা ফ্লাইট এক্সপার্টের মাধ্যমে টিকিট বুক করতে পারছেন না। ওসি আরও জানান, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এসেছে, তবে তদন্তাধীন থাকায় বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না।
একজন গ্রাহক ফেসবুক গ্রুপ ‘Cheap Air Ticket in Bangladesh’–এ লেখেন, তিনি ১০ আগস্ট ঢাকা-ওমান বিমানের টিকিট বুক করেছেন ফ্লাইট এক্সপার্টের মাধ্যমে। বিমানের ওয়েবসাইটে টিকিট ইস্যু দেখালেও তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন—ভবিষ্যতে কোনো সমস্যা হবে কিনা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবশালী ব্যবহারকারী শুরভী ইয়াসমিন (ফলোয়ার ৩ লাখ+) তার পোস্টে লেখেন, “ফ্লাইট এক্সপার্ট আমার শেষ ট্যুর স্পনসর করেছিল। এখনো আমার বড় অঙ্কের টাকা পাওনা রয়েছে। শুনেছি ওরা নাকি পালিয়ে গেছে। হাজার হাজার মানুষের টাকা নিয়ে উধাও! আল্লাহ তাদের হেদায়েত দিন।”
উল্লেখ্য, ফ্লাইট এক্সপার্টের ফেসবুক পেজ (ফলোয়ার ৪.৫ লাখের বেশি) এখনো সচল আছে। সর্বশেষ পোস্ট ছিল দুই দিন আগে—হজ ২০২৬–এর প্যাকেজ নিয়ে।
২০১৭ সালের মার্চে যাত্রা শুরু করা ফ্লাইট এক্সপার্ট অল্প সময়েই দেশের অনলাইন টিকিট বুকিং সেবায় পরিচিতি পায়। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক টিকিট, হোটেল বুকিং, ট্যুর প্যাকেজ ও ভিসা প্রসেসিং–এর সেবা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি জনপ্রিয়তা লাভ করে।
২০২১ সালের মে মাসে বিতর্কিত ই–কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি ফ্লাইট এক্সপার্ট অধিগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছিল। যদিও চূড়ান্তভাবে সেই অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে কিনা, তা এখনো পরিষ্কার নয়। এ বিষয়ে ইভ্যালির সিইও মোহাম্মদ রাসেল–এর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি কনভেনশন সেন্টারে গোপন বৈঠকের সময় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠনের ২২ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সেনাবাহিনীর এক মেজর পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে সেনা কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) সেনা সদর দপ্তরের প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
ডিএমপির তথ্য মতে, গত ৮ জুলাই বসুন্ধরা সংলগ্ন ‘কে বি কনভেনশন সেন্টারে’ সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এক ‘গোপন বৈঠক’ হয়। যেখানে অংশগ্রহণ করে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ, আ.লীগ এবং অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা সহ প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ জন। বৈঠকে সরকারবিরোধী স্লোগান, নাশকতার পরিকল্পনা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে সাংগঠনিক প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগ উঠে।
ভাটারা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় বলা হয়, বৈঠকে শাহবাগ মোড় দখল করে অস্থিরতা তৈরির পরিকল্পনা করা হয়। তদন্তে দেখা যায়, বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ যেমন—‘তারা প্রিয় স্বদেশ’, ‘বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম’, ‘প্রজন্ম ৭১’, ‘এফ-৭১ গেরিলা’ ইত্যাদির সদস্য ছিলেন।
গোয়েন্দা বিভাগের তথ্যমতে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে যুবলীগ নেতা সোহেল রানা ও গোপালগঞ্জের আ.লীগ নেত্রী শামীমা নাসরিন রয়েছেন। তাঁদের তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর মেজর সাদিকুল হককে (মেজর সাদিক) হেফাজতে নেয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, মেজর সাদিক গোপনে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের ঢাকায় এনে রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ দিচ্ছিলেন।
সেনা সদরের কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম জানান, মেজর সাদিকের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে সেনাবাহিনী নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।
পুলিশ ও ডিবি সূত্রে আরও জানা গেছে, বৈঠকে অংশ নেওয়া বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে পূর্বেও নাশকতা সংশ্লিষ্টতা ছিল। কনভেনশন সেন্টারের সিসিটিভি ক্যামেরা ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ রাখা হয়, যার জন্য ভিডিও ফুটেজ পাওয়া যায়নি।
গ্রেপ্তারকৃতদের তথ্য যাচাই ও রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশে যাতে আর কখনও ফ্যাসিবাদ, উগ্রবাদ ও চরমপন্থা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে নারীদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেন, “নারীসমাজকে এখন থেকেই সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে। এ জন্য দেশের প্রতিটি মা-বোনের প্রতি আমি আহ্বান জানাই।”
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের আয়োজনে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নারীর অবদান’ শীর্ষক এই সভাটি আয়োজন করা হয় জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের স্মরণে।
আলোচনা সভার শুরুতে মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা পদক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে একটি তথ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়, যেখানে নারীদের ভূমিকা তুলে ধরা হয়।
তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদেশ যেন আবার কোনো স্বৈরাচারী শক্তির হাতে না পড়ে, সেটা নিশ্চিত করতে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। শহীদদের রক্ত যেন বৃথা না যায়, সে জন্য ইনসাফভিত্তিক একটি বাংলাদেশ গঠনে আমাদের অঙ্গীকার থাকতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “পরিবারভিত্তিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে প্রথম পর্যায়ে ৫০ লাখ প্রান্তিক পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া হবে, যার মালিক হবেন পরিবারের নারী সদস্য। এটি নারী ক্ষমতায়নের একটি বড় ধাপ হবে।”
তারেক রহমান আরও বলেন, “আমার পরিবারও ফ্যাসিবাদের নির্মমতা অনুভব করেছে। আমার মা বেগম খালেদা জিয়া তাঁর সন্তান আরাফাত রহমান কোকোকে হারিয়েছেন। দেশের বহু নারী তাঁদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এসবের অবসান ঘটিয়ে আমরা একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ পেয়েছি, এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।”
তিনি নারীদের শিক্ষা ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “নারী-পুরুষের মধ্যে সমতা তৈরি না হলে সমাজ এগোবে না। নারীদের কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে একটি সুস্থ ও মানবিক রাষ্ট্র গড়াই বিএনপির অঙ্গীকার।”
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, জেএসডির সহসভাপতি তানিয়া রব, অধ্যাপক তাজমেরী এস এ ইসলাম, তাহসিনা রুশদীর লুনা, শিরিন সুলতানা, সানজিদা ইসলাম তুলি ও বিশিষ্ট টক শো উপস্থাপক হাসিনা আখতার প্রমুখ।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশে যাতে আর কখনও ফ্যাসিবাদ, উগ্রবাদ ও চরমপন্থা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে নারীদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেন, “নারীসমাজকে এখন থেকেই সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে। এ জন্য দেশের প্রতিটি মা-বোনের প্রতি আমি আহ্বান জানাই।”
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের আয়োজনে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নারীর অবদান’ শীর্ষক এই সভাটি আয়োজন করা হয় জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের স্মরণে।
আলোচনা সভার শুরুতে মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা পদক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে একটি তথ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়, যেখানে নারীদের ভূমিকা তুলে ধরা হয়।
তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদেশ যেন আবার কোনো স্বৈরাচারী শক্তির হাতে না পড়ে, সেটা নিশ্চিত করতে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। শহীদদের রক্ত যেন বৃথা না যায়, সে জন্য ইনসাফভিত্তিক একটি বাংলাদেশ গঠনে আমাদের অঙ্গীকার থাকতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “পরিবারভিত্তিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে প্রথম পর্যায়ে ৫০ লাখ প্রান্তিক পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া হবে, যার মালিক হবেন পরিবারের নারী সদস্য। এটি নারী ক্ষমতায়নের একটি বড় ধাপ হবে।”
তারেক রহমান আরও বলেন, “আমার পরিবারও ফ্যাসিবাদের নির্মমতা অনুভব করেছে। আমার মা বেগম খালেদা জিয়া তাঁর সন্তান আরাফাত রহমান কোকোকে হারিয়েছেন। দেশের বহু নারী তাঁদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এসবের অবসান ঘটিয়ে আমরা একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ পেয়েছি, এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।”
তিনি নারীদের শিক্ষা ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “নারী-পুরুষের মধ্যে সমতা তৈরি না হলে সমাজ এগোবে না। নারীদের কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে একটি সুস্থ ও মানবিক রাষ্ট্র গড়াই বিএনপির অঙ্গীকার।”
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, জেএসডির সহসভাপতি তানিয়া রব, অধ্যাপক তাজমেরী এস এ ইসলাম, তাহসিনা রুশদীর লুনা, শিরিন সুলতানা, সানজিদা ইসলাম তুলি ও বিশিষ্ট টক শো উপস্থাপক হাসিনা আখতার প্রমুখ।
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মাসিক কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিকাশ চন্দ্র বর্মন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন হরিপুর থানার প্রতিনিধি, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীর এবং গণঅধিকার পরিষদের স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা।
সভায় সাম্প্রতিক সময়ের সড়ক দুর্ঘটনা, নারী ও শিশু নির্যাতন, পাচার, বাল্যবিবাহ রোধ, চিকিৎসা সেবা, মাদক, সীমান্তে চোরাচালান ও সাধারণ চুরি-ছিনতাইসহ সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় বিজিবি প্রতিনিধিরা সীমান্ত এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকায় সচেতনতা বাড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান কর্মকর্তারা।
এছাড়া বাল্যবিবাহ ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেন বক্তারা এবং প্রতিটি ইউনিয়নে সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, বর্তমান শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা ধরে রাখতে সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালিয়ে হত্যা করেছে। তার ভাষায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের জনগণের সেবক না হয়ে, শাসকের ভূমিকায় মানুষ হত্যা করেছেন।
বুধবার (৩০ জুলাই) বিকেলে সাভারের আশুলিয়ার শ্রীপুর গণকবাড়ী দারুল ইহসান মাদ্রাসা মাঠে ‘নারকীয় আশুলিয়া’ ব্যানারে আয়োজিত ঢাকা জেলা বিএনপির জনসভায় এসব মন্তব্য করেন তিনি।
গণঅভ্যুত্থানে হতাহত পরিবারের সদস্যদের সম্মানার্থে আয়োজিত এই জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব।
মির্জা ফখরুল বলেন, “আজকের এই সভায় যারা তাদের প্রিয়জন হারিয়েছেন, তাদের বিচার চাওয়ার আহ্বানই এখন জাতীয় দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতের ছায়ায় আশ্রয় নিয়ে শেখ হাসিনা ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছেন, যার প্রমাণ গোপালগঞ্জে দেখা গেছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, “গত ১৫ বছর ধরে দেশের জনগণের উপর একনাগাড়ে দমন-পীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে এই সরকার। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলারের কায়দায় আশুলিয়ায় মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়েছে।”
দেশকে পুনরায় গঠনের লক্ষ্যে বিএনপির পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, “২০১৬ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ‘ভিশন ২০৩০’ উপস্থাপন করেছিলেন। পরবর্তীতে তারেক রহমান ৩১ দফার রূপরেখা দিয়েছেন রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংস্কারে।”
আহত ও নিহতদের পরিবারের অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, “যারা এই আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন বা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, তারা আজও প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত। সরকারের উচিত প্রশাসনিকভাবে তাদের পাশে দাঁড়ানো।”
অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হকসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে ৭টি ড্রেজার ও ১টি বাল্কহেড জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) বিকেলে উপজেলার দুর্গাপুর এলাকার মেঘনা নদীতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাফে মোহাম্মদ ছড়ার নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে সহায়তা করে আশুগঞ্জ থানা পুলিশ ও ভৈরব নৌ থানার একটি টিম।
অভিযানের সময় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে মেসার্স আবির ট্রেডার্স, আবাবিল ড্রেজিং প্রকল্প, সাকিব-সাব্বির লোড ড্রেজার, আতিবা-আদিবা লোড ড্রেজার, আল্লাহ সর্বশক্তিমান ড্রেজার, গাউসিয়া লোড ড্রেজার, জোন শাহ ড্রেজার নামে সাতটি ড্রেজার এবং জিয়া অ্যান্ড সাব্বির এন্টারপ্রাইজ নামের একটি বাল্কহেড জব্দ করা হয়।
অভিযান চলাকালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতি টের পেয়ে সংশ্লিষ্ট ড্রেজার ও বাল্কহেডের মালিক ও চালকরা পালিয়ে যায়। পরে এসব জব্দ করা যানবাহন নৌ পুলিশের জিম্মায় দেওয়া হয়।
নির্বাহী কর্মকর্তা রাফে মোহাম্মদ ছড়া জানান, নদী ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। নিয়ম বহির্ভূতভাবে প্রাকৃতিক সম্পদ লুটপাটকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে জেলা শহরের কলেজ গেইট এলাকায় চট্টগ্রামগামী নাসিরাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে তিনি মারা যান।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. কাউসার আলম। তিনি জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এএসআই কাউসার আরও জানান, নিহত ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৪০ থেকে ৪৫ বছর হবে। তার পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরিচয় শনাক্তে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
রেলওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।