পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শুরু হয়েছে ১০ দিনব্যাপী বৃক্ষমেলা। রবিবার (১৪ জুলাই) সকালে শহরের পৌর মুক্তমঞ্চে মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. দিদারুল আলম। জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ আয়োজনে এই মেলা চলবে ২৩ জুলাই পর্যন্ত।
উদ্বোধনী আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন রেঞ্জ বন কর্মকর্তা মো. শাহজাহান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাহমুদা আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রকিব উর রাজা, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত মো. ইশতিয়াক ভূঁইয়া, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
উদ্বোধনী বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, “জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে গাছ লাগানোর বিকল্প নেই। প্রত্যেকে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অন্তত একটি করে গাছ লাগান—এটাই হোক আজকের অঙ্গীকার।”
মেলায় বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ভেষজ গাছের চারা প্রদর্শন ও বিক্রয় চলছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো।
আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকলেও নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে ‘নৌকা’ বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ রোববার (২ জুন) সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
তিনি বলেন, “নিবন্ধন স্থগিত থাকলেও কোনো প্রতীক বাতিল হয় না। এমনকি কোনো দল বিলুপ্ত হলেও প্রতীক নির্বাচন কমিশনের তালিকায় সংরক্ষিত থাকে। প্রতীক হলো কমিশনের সম্পদ।”
আব্দুর রহমানেল মাছউদ আরও বলেন, “নৌকা প্রতীকটি একটি দলকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। দলটি এখনো বাতিল হয়নি, কেবল নিবন্ধন স্থগিত। দল বিলুপ্ত হলেও প্রতীক বাতিল হবে না। যেমন—ফ্রিডম পার্টির অস্তিত্ব নেই, তবু তাদের প্রতীক এখনো রয়েছে।”
নির্বাচন কমিশনার বলেন, “আমাদের অবস্থান আইননির্ভর। প্রতীক বরাদ্দের দায়িত্ব কমিশনের। একবার বরাদ্দ হয়ে গেলে দলটি তা ব্যবহার করতে পারে। দল না থাকলেও প্রতীক বাতিল হয় না। এটি একটি যৌক্তিক প্রক্রিয়া।”
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন স্থগিত করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নির্বাচন কমিশনে আবেদন করে নৌকা প্রতীক বাতিল ও ‘শাপলা’ প্রতীক তালিকাভুক্ত করার দাবি জানায়।
তবে নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, ‘নৌকা’ প্রতীক নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার তফসিল থেকে বাদ দেওয়া হবে না। একইসঙ্গে ‘শাপলা’ প্রতীককে নতুন করে তালিকাভুক্ত না করার আগের নীতিগত সিদ্ধান্তও বহাল রয়েছে।
নির্বাচনী আইন অনুযায়ী প্রতীক ব্যবস্থাপনা নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকলেও রাজনৈতিক বাস্তবতায় এসব প্রতীকের গুরুত্ব বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এই অবস্থায় ‘নৌকা’ প্রতীকের ভবিষ্যত ব্যবহার নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা আরও জোরালো হতে পারে বলে ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
বিএনপির বিরুদ্ধে চলমান অপপ্রচারের পেছনে পরিকল্পিত চক্রান্ত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, “জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করতে বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তবে বিএনপিকে এত সহজে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না।”
রবিবার (২ জুন) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত ‘তারেক রহমান : দ্য হোপ অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, “বিএনপি বারবার প্রমাণ করেছে ধ্বংসস্তূপ থেকে ঘুরে দাঁড়ানো যায়। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর অনেকে ভেবেছিল বিএনপি শেষ। কিন্তু সেই বিএনপি আবার খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ছাত্র-যুবকদের সঙ্গে নিয়ে জেগে উঠেছে।”
তিনি আরও বলেন, “আজকের অপপ্রচারের পেছনে রয়েছে গভীর ষড়যন্ত্র। সেই চক্রান্তের লক্ষ্য হলো—জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ধ্বংস করা এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া। কিন্তু মনে রাখতে হবে, বিএনপিকে এত সহজে মুছে ফেলা যাবে না।”
বিএনপি মহাসচিব বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় দলীয় নেতাকর্মীদের তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি নিয়মিত পড়াশোনা করে রাজনৈতিক সচেতনতা ও জ্ঞানের পরিধি বাড়ানোর আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে দলীয় নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বইটিতে তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবন, দর্শন ও ভবিষ্যৎ ভাবনার নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মঈনপুর সীমান্ত এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রবিবার (১ জুন) সকালে চালানো এক বিশেষ অভিযানে ১,১৩৪ পিস ভারতীয় শাড়ি উদ্ধার করা হয়, যার বাজারমূল্য আনুমানিক এক কোটি ২০ লাখ ৫২ হাজার টাকা।
বিজিবি ৬০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. জিয়াউর রহমান বলেন, “গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালানো হয়। আমাদের আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়মিতভাবে চলছে। এরই অংশ হিসেবে মঈনপুর সীমান্তে অভিযান চালিয়ে বিপুল সংখ্যক চোরাই শাড়ি জব্দ করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, জব্দকৃত শাড়িগুলো আখাউড়া কাস্টমসে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
বিজিবির এমন সফল অভিযানে চোরাচালান প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কুমিল্লা বিভাগের ২৪টি আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসন থেকে দলটির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সেক্রেটারি আলহাজ্ব মাওলানা গাজী নিয়াজুল করিম।
কে এই মাওলানা নিয়াজুল করিম?
মাওলানা গাজী নিয়াজুল করিম ১৯৭৬ সালে সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম মলাই মিয়া সর্দার ছিলেন এলাকার খ্যাতনামা শালিসকারক। তাঁদের পরিবার ঐতিহাসিক শালগাঁও কালিসীমার দুলা গাজীর বংশধর।
শিক্ষাজীবন
প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন বিরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরে দক্ষিণ জগৎসার ইসলামিয়া ইয়াকুবিয়া মাদরাসা, চান্দপুর মিফতাহুল উলূম, পটিয়া মাদ্রাসা ও জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দাওরায়ে হাদীস (মাস্টার্স সমমান) সম্পন্ন করেন। বর্তমানে জামিয়া ইউনুছিয়ার মুহতামিম পীরে কামেল মুফতি মুবারকুল্লাহ সাহেবের খলিফা ও খানকায়ে মুবারাকা ইসলাহী কেন্দ্র পরিচালনা করছেন।
কর্মজীবন
ধর্মীয় শিক্ষা ও সমাজসেবার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন মসজিদে ইমাম ও খতিবের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি নিজের প্রতিষ্ঠিত ‘বাইতুল করীম মসজিদ ও মাদ্রাসা কমপ্লেক্স’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও মুহতামিম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যবসায়িকভাবেও তিনি সক্রিয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের রাধিকা চৌমুহনীতে রয়েছে তাঁর প্রতিষ্ঠান ‘নাজাহ্-নাজিবা এন্টারপ্রাইজ’।
রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা
১৯৯৩ সালে চরমোনাই পীর সৈয়দ ফজলুল করীম (রহ.)-এর হাতে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনে যোগ দেন। এরপর জেলা প্রচার সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা সেক্রেটারির দায়িত্ব পান। বর্তমানে তিনি একই দায়িত্বে রয়েছেন। পাশাপাশি জাতীয় শিক্ষক ফোরামের কেন্দ্রীয় সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং উলামা ঐক্য পরিষদের সেক্রেটারিও তিনি।
তিনি অতীতেও নির্বাচন করেছেন। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ২০১১ সালের উপ-নির্বাচনে “হাতপাখা” প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
আন্দোলন ও সংগ্রাম
২০০১ সালে হাইকোর্টের ফতোয়া বিরোধী রায়ের প্রতিবাদে ছাত্রলীগের হাতে নির্যাতিত হন। ২০২১ সালে মোদী বিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে র্যাব কর্তৃক গ্রেফতার হন এবং প্রায় ৭ মাস কারাভোগ করেন।
সমাজসেবায় অবদান
তিনি সুলতানপুর ইউনিয়ন পরিষদের শালিশ বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এলাকার বিভিন্ন সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আস্থা অর্জন করেছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হিসেবে তাঁর মনোনয়ন, দলটির কর্মী-সমর্থকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা তৈরি করেছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অন্নদা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের দেড় শতবর্ষপূর্তি উদ্যাপন উপলক্ষে নিবন্ধন কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় থিম লোগো উন্মোচন, বৃক্ষরোপণ এবং উন্মুক্ত পাঠাগার উদ্বোধনের মতো নানা আয়োজন।
শনিবার (১৪ জুলাই) বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেড় শতবর্ষ উদ্যাপন কমিটির পৃষ্ঠপোষক ও বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাজ্জাদুল হক এবং প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন সরকার।
অনুষ্ঠানে অতিথিরা বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের ভেতরের স্কুলবাগানে স্মারক হিসেবে বৃক্ষরোপণ করেন। পাশাপাশি স্থাপন করা হয় থিম বোর্ড এবং উদ্বোধন করা হয় দেড় শতবর্ষপূর্তি উপলক্ষে নির্মিত উন্মুক্ত পাঠাগার।
মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় অনুষ্ঠানের সূচনা হয় রক্তাক্ত জুলাইয়ের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে। এরপর “সুন্দর পৃথিবীর জন্য আমরা”—এই স্লোগানকে ধারণ করে উদ্যাপন থিম লোগো উন্মোচন করেন বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও অতিথিরা।
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন আবেশ (Alumni of Brahmanbaria Annada Ex-Students’ Society)-এর সভাপতি বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত গ্রুপ ক্যাপ্টেন সগীর আহমেদ, প্রধান পৃষ্ঠপোষক সাজ্জাদুল হক, বিএনপি নেতা খালেদ হোসেন, জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি জহিরুল হক, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, সহসভাপতি ইমাম শাহীন ও খায়রুল ইমাম, সদস্য হাফিজুর রহমান মোল্লা, অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক তৌফিকুল ইসলাম, এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন সরকার।
সবশেষে অতিথিরা কেক কেটে দেড় শতবর্ষ উদ্যাপনের নিবন্ধন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘোষণা করেন। আগামী ২৫ ও ২৬ ডিসেম্বর এই উদ্যাপন অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।
উল্লেখ্য, ১৮৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত অন্নদা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অন্যতম পুরাতন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে দেশ-বিদেশে অসংখ্য কৃতি ব্যক্তিত্ব প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন।
দেশে গণতান্ত্রিক নির্বাচন না থাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতি ঘটছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর মতে, একটি নির্বাচিত সরকার না থাকায় দুর্বৃত্তরা সুযোগ নিচ্ছে এবং অপরাধের মাত্রা বাড়ছে।
শনিবার বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ছাত্রদল নেতাদের স্মরণে” আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, যিনি লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি বক্তব্য রাখেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, “গণতন্ত্রের প্রধান চালিকা শক্তি হলো নির্বাচন। দেশে এখন কার্যকর কোনো নির্বাচন নেই বলেই সুশাসনের অভাব, খুন-গুম ও অপরাধ বেড়েই চলেছে। যে সরকার ক্ষমতায় রয়েছে, তাদের পেছনে জনগণের সমর্থন নেই। তাই তারা জনগণের জবাবদিহিতার তোয়াক্কা করছে না।”
সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কিছু নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, “এসব ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনার জন্য আমরা সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি। বিএনপি কখনো অপরাধকে প্রশ্রয় দেয় না।”
শহীদ ছাত্রনেতাদের পরিবার নিয়ে আয়োজিত এ স্মরণ সভায় মির্জা ফখরুল আরও বলেন, “যেসব পরিবার তাদের সন্তান হারিয়েছে, বিএনপি ভবিষ্যতে সরকারে গেলে তাদের পুনর্বাসন ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। এটি আমাদের রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা।”
তিনি জানান, জুলাই সনদ সরকারের কাছে তিন মাস আগেই পেশ করা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে এর পরিমার্জন ও সংযোজনের জন্য দলটি ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন।
সভা শেষে নিহত ছাত্রনেতাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন ও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
টিনের চালা, কাঁচা ঘর, দিনমজুর বাবা, মায়ের পুঁতির ব্যাগ সেলাইয়ের আয়—এই কঠিন বাস্তবতা ডিঙিয়ে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার সুহাতা গ্রামের মেয়ে প্রমা রাণী কর্মকার।
ভোলাচং উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রমা, যে এখন দারিদ্র্যের কাছে হেরে গিয়ে কলেজে ভর্তির দুশ্চিন্তায় চোখের জল ফেলছে। তার সব ইচ্ছা, মেধা, সাধনা থমকে গেছে অর্থের অভাবে।
প্রমার বাবা শিবলু কর্মকার জানান, “আমার মেয়েটা ছোটবেলা থেকেই বইয়ের প্রতি আসক্ত। পেটে ভাত না থাকলেও ও বই ছাড়তে পারত না। ধার-দেনা করে চেষ্টা করেছি মেয়েটার পড়াশোনা চালিয়ে নিতে। এখন তো আর পেরে উঠছি না। কলেজে ভর্তি, বই, যাতায়াত—সবকিছুতেই টাকা দরকার, যেটা এখন আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।”
মেধাবী এই শিক্ষার্থীর স্বপ্ন একদিন ডাক্তার হওয়া। নিজের গ্রামবাসীর পাশে দাঁড়ানো। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন আটকে গেছে টাকার কাছে।
প্রমা জানান, “বাবা আর চালাতে পারবে না। আমি ৯ম শ্রেণি থেকে দুইটা টিউশন করিয়ে ৬০০ টাকা আয় করি। সেটা দিয়েই নিজের খরচ চালাতাম। এখন কলেজের খরচ, বইয়ের দাম, যাতায়াত—সব মিলে ব্যয় অনেক। কোথা থেকে আসবে সেই টাকা?”
চোখে জল নিয়ে প্রমা বলেন, “আমি ডাক্তার হতে চাই। কিন্তু জানি না কীভাবে সম্ভব হবে। বাবার সামর্থ্য নেই, মা সংসার চালায় কাথা সেলাই আর পুঁতির ব্যাগ বানিয়ে। আমার এখন শুধু একটা চাওয়া, কেউ যদি পাশে দাঁড়ায় তাহলে হয়তো আমি সামনে এগোতে পারব। না হলে আমার স্বপ্নটা স্বপ্নই থেকে যাবে।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অঞ্জনা রাণী সাহা বলেন, “প্রমা সত্যিই ব্যতিক্রম এক মেধাবী শিক্ষার্থী। এমন দারিদ্র্যের মধ্যেও জিপিএ-৫ অর্জন বিরল দৃষ্টান্ত। বিদ্যালয়ে মোট ১১ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে, তাদের মধ্যে অন্যতম প্রমা। আমি ব্যক্তিগতভাবে তার পাশে দাঁড়াতে চাই এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও কথা বলব, যেন তাকে কিছু সহায়তা করা যায়। সমাজের দানশীল ও হৃদয়বান মানুষদের প্রতি আমার অনুরোধ, দয়া করে এমন একটি প্রতিভাকে যেন হারিয়ে যেতে না হয়।”
প্রমা এখনো বিশ্বাস করে, “ভগবান নিশ্চয়ই কোনো না কোনো উপায় করবেন”—এই আশা নিয়েই সে অপেক্ষা করছে কাউকে, যে হয়তো তার স্বপ্নকে সত্যি করতে পাশে দাঁড়াবে।
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মিনাপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে রাসেল হোসেন (২০) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। শনিবার (১২ জুলাই) ভোররাতে উপজেলার মিনাপুর সীমান্তের ৩৫৩ নম্বর মেইন পিলারের ভিনুয়া-মাদারী এলাকায় ভারতের অভ্যন্তরে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রাসেল হোসেন হরিপুর উপজেলার ৫নং হরিপুর ইউনিয়নের হরিপুর সদর গ্রামের নিয়াজুল ইসলামের ছেলে।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোর আনুমানিক চারটার দিকে রাসেলসহ কয়েকজন ব্যক্তি সীমান্ত পার হয়ে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। তারা কাঁটাতারের সন্নিকটে পৌঁছালে ভারতের কিষাণগঞ্জ ব্যাটালিয়নের কুকরাদহ ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে রাসেল ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
ঘটনার পর তার মরদেহ ভারতের প্রায় ২০০ গজ অভ্যন্তরে পড়ে থাকলে বিএসএফ সদস্যরা লাশটি উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
দিনাজপুরে অবস্থিত ৪২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “আমরা ঘটনার বিষয়ে অবগত হয়েছি। ইতোমধ্যে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে মরদেহ ফেরত আনার চেষ্টা চলছে।”
এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং স্থানীয়দের মাঝে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সরকার ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য হাঁড়িভাঙ্গা আম উপহার পাঠিয়েছেন অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
আজ বৃহস্পতিবার (২ জুন) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে এসব আম পাঠানো হয়। আগরতলায় নিযুক্ত বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনের প্রতিনিধির কাছে আমগুলো হস্তান্তর করা হয়। উপহারের তালিকায় ছিল ৬০টি কার্টন, প্রতিটি কার্টনে ৫ কেজি করে হাঁড়িভাঙ্গা আম।
আখাউড়া কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাষ্ট্রাচার অনুবিভাগের নির্দেশনায় ‘কার্গোওয়ার্ল্ড লজিস্টিকস’ নামের একটি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাভার্ড ভ্যানে করে আমগুলো দুপুরে আখাউড়া স্থলবন্দরে পৌঁছায়। এরপর আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে দুই দেশের শূন্যরেখায় আগরতলায় নিযুক্ত বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের প্রতিনিধির কাছে আমগুলো হস্তান্তর করা হয়।
বাংলাদেশ মিশনের তত্ত্বাবধানে উপহারের এই হাঁড়িভাঙ্গা আম ত্রিপুরা রাজ্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও গুণিজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় এসব আমের উপর আরোপিত সব ধরনের ফি ও কর মওকুফ করে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক রক্ষায় প্রতি বছর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ফলমূল ও মৌসুমি উপহার পাঠানো হয়ে থাকে।