হোম প্রচ্ছদ পৃষ্ঠা 10

অন্নদা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের দেড় শতবর্ষপূর্তি উপলক্ষে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু

অন্নদা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের দেড় শতবর্ষপূর্তি উপলক্ষে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অন্নদা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের দেড় শতবর্ষপূর্তি উদ্‌যাপন উপলক্ষে নিবন্ধন কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় থিম লোগো উন্মোচন, বৃক্ষরোপণ এবং উন্মুক্ত পাঠাগার উদ্বোধনের মতো নানা আয়োজন।

শনিবার (১৪ জুলাই) বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেড় শতবর্ষ উদ্‌যাপন কমিটির পৃষ্ঠপোষক ও বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাজ্জাদুল হক এবং প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন সরকার।

অনুষ্ঠানে অতিথিরা বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের ভেতরের স্কুলবাগানে স্মারক হিসেবে বৃক্ষরোপণ করেন। পাশাপাশি স্থাপন করা হয় থিম বোর্ড এবং উদ্বোধন করা হয় দেড় শতবর্ষপূর্তি উপলক্ষে নির্মিত উন্মুক্ত পাঠাগার।

মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় অনুষ্ঠানের সূচনা হয় রক্তাক্ত জুলাইয়ের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে। এরপর “সুন্দর পৃথিবীর জন্য আমরা”—এই স্লোগানকে ধারণ করে উদ্‌যাপন থিম লোগো উন্মোচন করেন বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও অতিথিরা।

আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন আবেশ (Alumni of Brahmanbaria Annada Ex-Students’ Society)-এর সভাপতি বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত গ্রুপ ক্যাপ্টেন সগীর আহমেদ, প্রধান পৃষ্ঠপোষক সাজ্জাদুল হক, বিএনপি নেতা খালেদ হোসেন, জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি জহিরুল হক, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, সহসভাপতি ইমাম শাহীন ও খায়রুল ইমাম, সদস্য হাফিজুর রহমান মোল্লা, অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক তৌফিকুল ইসলাম, এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন সরকার।

সবশেষে অতিথিরা কেক কেটে দেড় শতবর্ষ উদ্‌যাপনের নিবন্ধন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘোষণা করেন। আগামী ২৫ ও ২৬ ডিসেম্বর এই উদ্‌যাপন অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।

উল্লেখ্য, ১৮৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত অন্নদা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অন্যতম পুরাতন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে দেশ-বিদেশে অসংখ্য কৃতি ব্যক্তিত্ব প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন।

নির্বাচনের অনুপস্থিতিতেই আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটছে – মির্জা ফখরুল

মির্জা ফখরুল

দেশে গণতান্ত্রিক নির্বাচন না থাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতি ঘটছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর মতে, একটি নির্বাচিত সরকার না থাকায় দুর্বৃত্তরা সুযোগ নিচ্ছে এবং অপরাধের মাত্রা বাড়ছে।

শনিবার বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ছাত্রদল নেতাদের স্মরণে” আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, যিনি লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি বক্তব্য রাখেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “গণতন্ত্রের প্রধান চালিকা শক্তি হলো নির্বাচন। দেশে এখন কার্যকর কোনো নির্বাচন নেই বলেই সুশাসনের অভাব, খুন-গুম ও অপরাধ বেড়েই চলেছে। যে সরকার ক্ষমতায় রয়েছে, তাদের পেছনে জনগণের সমর্থন নেই। তাই তারা জনগণের জবাবদিহিতার তোয়াক্কা করছে না।”

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কিছু নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, “এসব ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনার জন্য আমরা সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি। বিএনপি কখনো অপরাধকে প্রশ্রয় দেয় না।”

শহীদ ছাত্রনেতাদের পরিবার নিয়ে আয়োজিত এ স্মরণ সভায় মির্জা ফখরুল আরও বলেন, “যেসব পরিবার তাদের সন্তান হারিয়েছে, বিএনপি ভবিষ্যতে সরকারে গেলে তাদের পুনর্বাসন ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। এটি আমাদের রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা।”

তিনি জানান, জুলাই সনদ সরকারের কাছে তিন মাস আগেই পেশ করা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে এর পরিমার্জন ও সংযোজনের জন্য দলটি ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন।

সভা শেষে নিহত ছাত্রনেতাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন ও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

টিউশনি করিয়ে জিপিএ-৫, তবে কলেজে ভর্তি অনিশ্চিত প্রমা রাণীর

টিনের চালা, কাঁচা ঘর, দিনমজুর বাবা, মায়ের পুঁতির ব্যাগ সেলাইয়ের আয়—এই কঠিন বাস্তবতা ডিঙিয়ে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার সুহাতা গ্রামের মেয়ে প্রমা রাণী কর্মকার।

ভোলাচং উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রমা, যে এখন দারিদ্র্যের কাছে হেরে গিয়ে কলেজে ভর্তির দুশ্চিন্তায় চোখের জল ফেলছে। তার সব ইচ্ছা, মেধা, সাধনা থমকে গেছে অর্থের অভাবে।

প্রমার বাবা শিবলু কর্মকার জানান, “আমার মেয়েটা ছোটবেলা থেকেই বইয়ের প্রতি আসক্ত। পেটে ভাত না থাকলেও ও বই ছাড়তে পারত না। ধার-দেনা করে চেষ্টা করেছি মেয়েটার পড়াশোনা চালিয়ে নিতে। এখন তো আর পেরে উঠছি না। কলেজে ভর্তি, বই, যাতায়াত—সবকিছুতেই টাকা দরকার, যেটা এখন আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।”

মেধাবী এই শিক্ষার্থীর স্বপ্ন একদিন ডাক্তার হওয়া। নিজের গ্রামবাসীর পাশে দাঁড়ানো। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন আটকে গেছে টাকার কাছে।

প্রমা জানান, “বাবা আর চালাতে পারবে না। আমি ৯ম শ্রেণি থেকে দুইটা টিউশন করিয়ে ৬০০ টাকা আয় করি। সেটা দিয়েই নিজের খরচ চালাতাম। এখন কলেজের খরচ, বইয়ের দাম, যাতায়াত—সব মিলে ব্যয় অনেক। কোথা থেকে আসবে সেই টাকা?”

চোখে জল নিয়ে প্রমা বলেন, “আমি ডাক্তার হতে চাই। কিন্তু জানি না কীভাবে সম্ভব হবে। বাবার সামর্থ্য নেই, মা সংসার চালায় কাথা সেলাই আর পুঁতির ব্যাগ বানিয়ে। আমার এখন শুধু একটা চাওয়া, কেউ যদি পাশে দাঁড়ায় তাহলে হয়তো আমি সামনে এগোতে পারব। না হলে আমার স্বপ্নটা স্বপ্নই থেকে যাবে।”

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অঞ্জনা রাণী সাহা বলেন, “প্রমা সত্যিই ব্যতিক্রম এক মেধাবী শিক্ষার্থী। এমন দারিদ্র্যের মধ্যেও জিপিএ-৫ অর্জন বিরল দৃষ্টান্ত। বিদ্যালয়ে মোট ১১ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে, তাদের মধ্যে অন্যতম প্রমা। আমি ব্যক্তিগতভাবে তার পাশে দাঁড়াতে চাই এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও কথা বলব, যেন তাকে কিছু সহায়তা করা যায়। সমাজের দানশীল ও হৃদয়বান মানুষদের প্রতি আমার অনুরোধ, দয়া করে এমন একটি প্রতিভাকে যেন হারিয়ে যেতে না হয়।”

প্রমা এখনো বিশ্বাস করে, “ভগবান নিশ্চয়ই কোনো না কোনো উপায় করবেন”—এই আশা নিয়েই সে অপেক্ষা করছে কাউকে, যে হয়তো তার স্বপ্নকে সত্যি করতে পাশে দাঁড়াবে।

হরিপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু

হরিপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মিনাপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে রাসেল হোসেন (২০) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। শনিবার (১২ জুলাই) ভোররাতে উপজেলার মিনাপুর সীমান্তের ৩৫৩ নম্বর মেইন পিলারের ভিনুয়া-মাদারী এলাকায় ভারতের অভ্যন্তরে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রাসেল হোসেন হরিপুর উপজেলার ৫নং হরিপুর ইউনিয়নের হরিপুর সদর গ্রামের নিয়াজুল ইসলামের ছেলে।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোর আনুমানিক চারটার দিকে রাসেলসহ কয়েকজন ব্যক্তি সীমান্ত পার হয়ে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। তারা কাঁটাতারের সন্নিকটে পৌঁছালে ভারতের কিষাণগঞ্জ ব্যাটালিয়নের কুকরাদহ ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে রাসেল ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।

ঘটনার পর তার মরদেহ ভারতের প্রায় ২০০ গজ অভ্যন্তরে পড়ে থাকলে বিএসএফ সদস্যরা লাশটি উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

দিনাজপুরে অবস্থিত ৪২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “আমরা ঘটনার বিষয়ে অবগত হয়েছি। ইতোমধ্যে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে মরদেহ ফেরত আনার চেষ্টা চলছে।”

এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং স্থানীয়দের মাঝে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ত্রিপুরায় হাঁড়িভাঙ্গা আম উপহার পাঠালেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস

ত্রিপুরায় হাঁড়িভাঙ্গা আম উপহার পাঠালেন প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সরকার ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য হাঁড়িভাঙ্গা আম উপহার পাঠিয়েছেন অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

আজ বৃহস্পতিবার (২ জুন) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে এসব আম পাঠানো হয়। আগরতলায় নিযুক্ত বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনের প্রতিনিধির কাছে আমগুলো হস্তান্তর করা হয়। উপহারের তালিকায় ছিল ৬০টি কার্টন, প্রতিটি কার্টনে ৫ কেজি করে হাঁড়িভাঙ্গা আম।

আখাউড়া কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাষ্ট্রাচার অনুবিভাগের নির্দেশনায় ‘কার্গোওয়ার্ল্ড লজিস্টিকস’ নামের একটি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাভার্ড ভ্যানে করে আমগুলো দুপুরে আখাউড়া স্থলবন্দরে পৌঁছায়। এরপর আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে দুই দেশের শূন্যরেখায় আগরতলায় নিযুক্ত বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের প্রতিনিধির কাছে আমগুলো হস্তান্তর করা হয়।

বাংলাদেশ মিশনের তত্ত্বাবধানে উপহারের এই হাঁড়িভাঙ্গা আম ত্রিপুরা রাজ্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও গুণিজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় এসব আমের উপর আরোপিত সব ধরনের ফি ও কর মওকুফ করে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক রক্ষায় প্রতি বছর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ফলমূল ও মৌসুমি উপহার পাঠানো হয়ে থাকে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উচ্চ আদালতের নির্দেশে চেম্বারসহ দুটি স্থাপনা উচ্ছেদ, হিন্দু সম্প্রদায়ের জমি উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চেম্বার ভবন গুঁড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মসজিদ রোড এলাকায় উচ্চ আদালতের নির্দেশে পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানে জেলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিসহ দুটি স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। গতকাল বুধবার (১ জুন) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের দখল হয়ে যাওয়া প্রায় ২৫ শতক জমি।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার নুসরাত জাবীন এই অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ ও সেনা সদস্যরাও অংশ নেন।

জানা গেছে, ওই জমিটি দীর্ঘদিন ধরে জেলা চেম্বার অব কমার্সসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দখলে ছিল। মামলার রায়ে জমির প্রকৃত মালিক হিসেবে লীলাময় ভট্টাচার্যের পক্ষে আদালত রায় দেন। অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের আওতায় দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর উচ্চ আদালতের আপিল ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ওই রায়ের বাস্তবায়নের নির্দেশ দেয়।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে সরকার যে জমিগুলো লিজ দিয়েছিল, তার একটি অংশ ছিল এ ২৪.৮৯ শতক জায়গা। যা চেম্বার অব কমার্সসহ কয়েকজনকে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। তবে লীলাময় ভট্টাচার্য ২০১২ সালে মালিকানা দাবি করে মামলা করেন। ২০১৬ সালে জেলা জজ আদালত তার পক্ষে রায় দেন। পরবর্তী সময়ে উচ্চ আদালতের রিভিউ এবং আপিল ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তও ওই রায়ের পক্ষে যায়।

অভিযান চলাকালে চেম্বারের ভেতরে থাকা দোকানিদের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ব্যবসায়ীরা মালামাল সরানোর পর উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করা হয়। তবে কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, তাদের কোনো প্রকার পূর্ব নোটিশ প্রদান করা হয়নি। তারা আরও জানান, চেম্বার থেকেও তাদের কিছু জানানো হয়নি।

জমির মালিক নির্মল ভট্টাচার্য বলেন, “এটি আমাদের পূর্বপুরুষদের সম্পত্তি। দীর্ঘদিন ধরে এটি অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে গণ্য ছিল। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা আমাদের জমির মালিকানা ফিরে পেয়েছি।”

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাবীন বলেন, “আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ীই এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। জমিটি পূর্বের মালিকদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

উল্লেখ্য, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে আপিল করার সুযোগ না থাকায় জেলা প্রশাসন বাধ্য হয়েই এ রায় কার্যকরের পদক্ষেপ নেয়।

হরিপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষক নিহত ও আহত এক

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় শরীফ হাসান (৩৪) নামে এক সহকারী শিক্ষক নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় মিষ্টার (৩০) নামে আরও একজন গুরুতর আহত হয়ে হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহত শরীফ হাসান হরিপুর উপজেলার বনগাঁও গ্রামের বাসিন্দা এবং ডাঙ্গীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। আহত মিষ্টার একই উপজেলার পশ্চিম বনগাঁও গ্রামের হক মাস্টারের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল সোমবার সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে শরীফ হাসান মোটরসাইকেলযোগে কর্মস্থলে যাওয়ার সময় বেলুয়া গ্রামের হুমায়ুনের বাড়ির সামনে পাকা রাস্তায় বিপরীত দিক থেকে আসা মালবাহী মহেন্দ্র গাড়ির ধাক্কায় পড়ে যান। গাড়ির চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এসময় তার সঙ্গে থাকা মিষ্টার গুরুতর আহত হন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হরিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) শরীফুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা নিহত শিক্ষকের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।

হরিপুরে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ঢেউটিন বিতরণ

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার ১ নম্বর গেদুড়া ইউনিয়নের আটঘরিয়া গ্রামে জমি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১৭টি পরিবারের মাঝে ঢেউটিন বিতরণ করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে হরিপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ইসরাত ফারজানার নির্দেশনায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে পাওয়া ৪৪ বান্ডিল ঢেউটিন বিতরণ করা হয়।

বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হরিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অঃদাঃ) শাফিউল মাজলুবিন রহমান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মফিজুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবু সালে চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস, হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুন হামিদ, জামায়াতের প্রতিনিধি কামরুজ্জামান প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল আটঘরিয়া গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সহিংসতা, ঘরবাড়ি লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে বহু পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়ে এবং তাদের ঘরবাড়ি ভস্মীভূত হয়।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে আরও সহায়তা অব্যাহত থাকবে এবং যেকোনো দুর্যোগে জনগণের পাশে রয়েছে সরকার।

মেধাবী ছাত্র মতিউরের দায়িত্ব নিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের

BNP

ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার একটি অসহায় মেধাবী ছাত্রের দায়িত্ব গ্রহণ করে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও হরিপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ আবু তাহের।

সম্প্রতি ফেসবুকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় হরিপুর উপজেলার ভাতুরিয়া ইউনিয়নের ঢাকদহ গোপালপুর গ্রামের এক মেধাবী ছাত্র মতিউরের জীবনসংগ্রামের গল্প। ছোটবেলাতেই মাকে হারানো মতিউরের বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করে তার দায়িত্ব নেননি। দাদি ভিক্ষা করে কোনোমতে তার পড়াশোনার খরচ চালিয়ে আসছিলেন। তবে কয়েক মাস আগে দাদির মৃত্যুতে শুরু হয় মতিউরের চরম মানবেতর জীবন।

একটি ভাঙাচোরা খড়ের ঘরে বাস করে অন্যের বাড়িতে কাজ করে নিজের পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছে সে। ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন বুকে ধারণ করে জীবনযুদ্ধে লড়াই করছে এই কিশোর, যার নিজের নুন আনতে পান্তা ফুরায়।

মতিউরের এমন সংগ্রামী জীবনের গল্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি নজরে আসে আলহাজ্ব মোঃ আবু তাহেরের।

রবিবার সকাল ১০টায় মতিউরের ভাঙ্গা ঘরে উপস্থিত হয়ে তিনি তার হাতে নগদ অর্থ তুলে দেন এবং মতিউরের শিক্ষা ও স্বপ্ন পূরণের সার্বিক দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণা দেন।

আলহাজ্ব মোঃ আবু তাহের বলেন, “মতিউরের মত মেধাবী ছাত্ররা যদি সঠিক সহযোগিতা পায়, তাহলে তারাই একদিন সমাজে আলোর দিশারি হবে। আমি চাই মতিউর একদিন ডাক্তার হয়ে হরিপুরবাসীর সেবা করুক। তার স্বপ্ন পূরণে আমি পাশে থাকবো সবসময়।”

এই মানবিক উদ্যোগে এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন আবু তাহের। মতিউরের ভবিষ্যতের জন্য দোয়া ও শুভকামনা জানিয়েছেন এলাকাবাসীসহ অসংখ্য ফেসবুক ব্যবহারকারী।

হরিপুরে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস পালিত

তারুণ্যের অংশগ্রহণ, খেলাধুলা মানোন্নয়ন”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সারা দেশের ন্যায় ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলাতেও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস উদযাপন করা হয়। রবিবার সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়, যা উপজেলার প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে।

র‍্যালি শেষে উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি অফিসার রুবেল হুসেন। এতে স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, তরুণ সমাজকে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করতে হলে নিয়মিত এমন আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন সুস্থ ও কর্মক্ষম জাতি গঠনে ক্রীড়াচর্চা অপরিহার্য।

দিনব্যাপী এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার আনোয়ার হোসেন, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রাইহানুল ইসলাম মিঞা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামালউদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের, উপজেলা এনসিপির সভাপতি এম এইচ কাঞ্চন, হরিপুর প্রেস ক্লাবের সম্পাদক আব্দুর রশিদ এবং সুজনসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

- Advertisement -

জনপ্রিয় সংবাদ

গরম খবর