হোম প্রচ্ছদ পৃষ্ঠা 12

হরিপুরে দুই শতাধিক কৃষককে প্রশিক্ষণ ও জিংক ধানের বীজ বিতরণ

হরিপুর (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলায় মানবদেহে পুষ্টির চাহিদা পূরণ ও জিংক ধানের চাষ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ২২০ জন প্রান্তিক কৃষককে প্রশিক্ষণ এবং বিনামূল্যে জিংক ও আয়রন সমৃদ্ধ ব্রি ১০০ জাতের ধানের বীজ প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুরে আরডিআরএস বাংলাদেশ এর আয়োজনে “আন্তর্জাতিক খাদ্যনীতি গবেষণা ইনস্টিটিউট (IFPRI) হারভেস্ট প্লাস প্রোগ্রাম” রিঅ্যাক্ট-ইন প্রকল্পের আওতায় উপজেলার গেদুরা ও আমগাঁও ইউনিয়ন ফেডারেশন কার্যালয় মাঠে অগ্রণী কৃষক প্রশিক্ষণ ও বীজ বিতরণ প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুবেল হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মানস কুমার রায়।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, “আন্তর্জাতিক খাদ্যনীতি গবেষণা ইনস্টিটিউট (IFPRI) হারভেস্ট প্লাস প্রোগ্রাম” এর রিঅ্যাক্ট-ইন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান আরডিআরএস বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষি টেকনিক্যাল কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মামুনুর রশিদ মামুন, কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সুপারভাইজার শসিউল ইসলাম, এবং স্থানীয় কৃষক-কৃষাণিরা।

আলোচনা পর্বে অতিথিরা মানবদেহে জিংকের উপকারিতা, অভাবজনিত লক্ষণ ও জিংকের ঘাটতি পূরণের উপায়সহ জিংক ও আয়রন সমৃদ্ধ ধানের বিভিন্ন জাত ও উৎপাদন প্রযুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তারা পরামর্শ দেন, সুস্থ, সবল ও মেধাবী সমাজ গড়তে দিনে একবার হলেও জিংক সমৃদ্ধ চালের ভাত খাওয়ার এবং জিংক ধানের চাষ বৃদ্ধি করার জন্য।

অনুষ্ঠানে কৃষক-কৃষাণীদের ৪ কেজি করে জিংক ধানের বীজ প্রদান করা হয়। অতিথিরা আরও জানান, প্রত্যেক কৃষক তাদের উৎপাদিত ৪ কেজি ধান ৩ জন কৃষককে প্রদান করবেন, যাতে এই চাষ আরও বিস্তৃত হয় এবং সাধারণ মানুষ এর উপকারিতা জানে।

হরিপুরে বেগম রোকেয়া দিবসে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

হরিপুর (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। “নারী কন্যা সুরক্ষা করি, সহিংসতামুক্ত বিশ্ব গড়ি”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ ৯ ডিসেম্বর ২০২৪ (সোমবার) সকাল সাড়ে ১১টায় হরিপুর উপজেলা পরিষদের হলরুমে এ আয়োজন করা হয়।

উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে এবং গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডার অর্থায়নে, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের রিয়্যাক্টস-ইন প্রকল্পের সহযোগিতায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান। সভায় অসংখ্য নারী, পুরুষ, কিশোর এবং কিশোরী নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে সচেতন হন।

kaler darpon

আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের রিয়্যাক্টস-ইন প্রকল্প অফিসার রুমা বেগম। শিক্ষা ও কর্মজীবনে বিশেষ অবদান রাখার জন্য জয়ীতা পুরস্কারে ভূষিত হন কমিউনিটি ফ্যাসিলিটেটর মোছা. সুমি ও ফাতেমা খাতুন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন হরিপুর উপজেলা কৃষি অফিসার রুবেল হোসেন, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি সেলিম রেজা তালুকদার, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিন, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রমিজ উদ্দিন, হরিপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি আল-মামুন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সালেহ মুশা, সাংবাদিক রাগিব আহসান রাজু এবং সুজনসহ আরও অনেকে।

আলোচনা সভাটি নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর ডিগ্রি কলেজে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত ও আহতদের স্মরণে স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত ও আহতদের স্মরণে স্মরণ সভা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর ডিগ্রি কলেজে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত ও আহতদের স্মরণে এক স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কলেজের অধ্যক্ষ শ্রী হরিলাল চন্দ্র দেবনাথের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অত্র কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি এবং জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আলহাজ্ব এ.বি.এম. মোমিনুল হক।

প্রধান বক্তা ছিলেন কলেজের বিদ্যোৎসাহী সদস্য এডভোকেট শামসুজ্জামান কানন। সভার সঞ্চালনা করেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান মোশারফ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কলেজের উপাধ্যক্ষ আসমা বানু, সিনিয়র শিক্ষক মো. ফরিদ উদ্দিন, মাসুম মিয়া এবং সাইফুর রহমান মামুন।

সভায় ছাত্র-ছাত্রী প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে হামদ, নাত এবং দেশাত্মবোধক গান পরিবেশিত হয়। শিক্ষার্থীরা তাদের বক্তব্যের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

প্রধান অতিথি আলহাজ্ব এ.বি.এম. মোমিনুল হক শহীদদের স্মরণে কিছু স্থাপনার নামকরণের প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, “শহীদ মুগ্ধের নামে টি.এ. রোড ফ্লাইওভার, শহীদ ওমরের নামে সিমনা ব্রিজ এবং শহীদ তানভীনের নামে রাধিকা-নবীনগর ব্রিজের নামকরণ বাস্তবায়নের জন্য আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।”

আলোচনা শেষে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত ও আহতদের দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন কলেজের প্রভাষক মো. আব্দুল কাইয়ুম।

এই স্মরণ সভা নিহত ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঐক্য ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার এক অনন্য উদ্যোগ হিসেবে প্রশংসিত হয়।

হরিপুরে জমি নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১ আহত ১৪

হরিপুরে জমি নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১৪

হরিপুর (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে জমি-জমা নিয়ে চলমান বিরোধের জেরে আদিবাসী সাঁওতাল সম্প্রদায় ও স্থানীয় বাঙালিদের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত এবং উভয় পক্ষের অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের কারীগাঁও মৌজায় প্রায় ৩৯ বিঘা জমি নিয়ে আদিবাসী সাঁওতাল সম্প্রদায় এবং স্থানীয় বাঙালি সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রায় ৫০ বছর ধরে বিরোধ চলছে। গতকাল, ২৭ নভেম্বর, ডাঙ্গীপাড়া ইউনিয়নের শিহিপুর ও দামোল গ্রামের আদিবাসী সম্প্রদায়ের লোকজন জমিটি নিজেদের দাবি করে সেখানে ঘর নির্মাণ শুরু করেন। এ সময় স্থানীয় ভূমিহীনদের একটি দল তাদের বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।

সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই মারা যান ডাঙ্গীপাড়া ইউনিয়নের শিহিপুর গ্রামের রেন্টু সরেনের ছেলে কানদন সরেন (৬০)। আহত হন উভয় পক্ষের ১৪ জন। আহতদের মধ্যে স্থানীয়দের মধ্যে আছেন পবিরুল ইসলাম, নুর ইসলাম, জাহেদুল ইসলাম, আসিক, জাহাঙ্গীর আলম, হবিবর রহমান, মো. শফি এবং ইসমাইল। আদিবাসী সম্প্রদায়ের আহতদের মধ্যে রয়েছেন সুসিলা সরেন, মরিয়ম সরেন, লক্ষিরাম হাসদা এবং শনিরাম হাসদা।

ডাঙ্গীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহসান হাবীব চৌধুরী এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। সংঘর্ষের পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শান্তি ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গোলটেবিল বৈঠক

জননিরাপত্তা

সকলের শান্তিপূর্ণ সহঅবস্থান ও সহযোগিতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর হয়ে উঠবে আধুনিক জনপদ

শান্তিপূর্ণ সহঅবস্থান এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে একটি আধুনিক ও উন্নত জনপদে রূপান্তরিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার শহরের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত ‘জননিরাপত্তা’ বিষয়ক গোলটেবিল বৈঠকে এই বার্তা দেন জেলার প্রশাসনিক, রাজনৈতিক এবং সামাজিক নেতৃবৃন্দ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার বিভাগ) মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, শান্তি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্যমত এবং পারস্পরিক সহমর্মিতার চর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সভ্যতার প্রয়োজনে আমাদের একে অপরের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে কাজ করতে হবে।

বৈঠকে বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে শহরের বিভিন্ন ইস্যুতে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে মব জাস্টিস, সাইবার অপরাধ এবং নারী নিরাপত্তার অভাব জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এসব সমস্যার সমাধানে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, নাগরিক সমাজ এবং রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

আলোচনায় উঠে আসা সমস্যাগুলো

১. নারী নিরাপত্তার অভাব:
বক্তারা উল্লেখ করেন, শহরের রাস্তাঘাট, বাস এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারীরা নিয়মিত হয়রানির শিকার হচ্ছেন। জরিপ অনুযায়ী, ৬৫% নারী মনে করেন, পুলিশ তাঁদের সমস্যার যথাযথ সমাধান দিতে ব্যর্থ।

২. সাইবার অপরাধ:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানি এবং অনলাইন প্রতারণার মতো ঘটনা জনজীবনের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।

৩. মব জাস্টিস:
শিক্ষার্থীদের মধ্যে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বক্তারা এ ধরনের প্রবণতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান এবং অপরাধীদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার পরামর্শ দেন।

৪. ধর্মীয় সম্প্রীতির অভাব:
ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সাম্প্রদায়িক শান্তি রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেন বক্তারা।

৫. কিশোর অপরাধ ও মাদক:
কিশোর গ্যাংয়ের কার্যকলাপ এবং মাদকের প্রসার শহরের নিরাপত্তা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতাকে বিঘ্নিত করছে।

বৈঠকে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ

বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার বিভাগ) মোহাম্মদ রুহুল আমিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোজাফফর হোসেন। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সদস্য হাফিজুর রহমান মোল্লা।

অনুষ্ঠানে আরও অংশ নেন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি দীপক চৌধুরী বাপ্পী, তরী বাংলাদেশের আহ্বায়ক শামীম আহমেদ, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শামীমা বাছির স্মৃতি, মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুমানুল ফেরদৌসি, জাতীয় পার্টির সদস্য আবু কাওছার খানসহ বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক এবং রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

আয়োজন ও সহায়তা

এই বৈঠকটি মাল্টিপার্টি অ্যাডভোকেসি ফোরাম (এমএএফ)-এর উদ্যোগে আয়োজিত হয় এবং ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের বি-স্পেস প্রকল্প এই উদ্যোগে অর্থায়ন এবং সহায়তা প্রদান করে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

বৈঠকে বক্তারা একমত হন যে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উন্নয়ন এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। প্রশাসন, রাজনৈতিক সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমেই শহরটিকে একটি আধুনিক, নিরাপদ এবং শান্তিপূর্ণ জনপদে রূপান্তরিত করা সম্ভব। বক্তারা আরও বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যকে পুনরুদ্ধার করতে এবং একটি উন্নত সমাজ গড়তে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই।

হরিপুরে ভূমিহীন জনসংগঠন ঐক্য পরিষদের জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত

ভূমিহীন জনসংগঠ

হরিপুর (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় ভূমি অধিকার ও কৃষি-ভূমি সংস্কারের দাবিতে ভূমিহীন জনসংগঠন ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে এক জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলা পরিষদের হলরুমে সংগঠনের সভাপতি মুনিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হরিপুর উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মানুষ কুমার। এছাড়াও সিডিএ নির্বাহী পরিচালক শাহই মবিন জিন্না, মাঠ সমন্বয়কারী জাহিদুর রহমান, হরিপুর সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম এবং উপজেলা ভূমিহীন সমন্বয় পরিষদের সভাপতি মোবারক আলী ও তরিকুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।

সমাবেশে ৮২টি ভূমিহীন জনসংগঠনের প্রায় ৫০০ সদস্য অংশগ্রহণ করেন। ভূমিহীনদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তাদের বিভিন্ন দাবি এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের প্রস্তাবনা তুলে ধরেন বক্তারা।

সমাবেশ শেষে, ভূমিহীন জনসংগঠনের পক্ষ থেকে ১৩ দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট প্রদান করা হয়, যাতে ভূমিহীনদের অধিকারের স্বীকৃতি এবং কৃষি ভূমি সংস্কারে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘আমিও জিততে চাই’ ক্যাম্পেইন নদী রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠে পরিবেশ রক্ষার শপথ

আমিও জিততে চাই

১২ নভেম্বর ২০২৪, ব্রাহ্মণবাড়িয়া: দেশের নদী ও জলাশয় রক্ষায় একমাত্র সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব বলে মত দিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অনুষ্ঠিত এক আলোচনাসভায় উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা। তারা আরও বলেন, দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশ সুরক্ষায় সকলের ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ প্রয়োজন।

মঙ্গলবার সুরসম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গনে ‘আমিও জিততে চাই’ ক্যাম্পেইনের আওতায় আয়োজিত ‘নদী ও জলাশয় সুরক্ষা: প্রত্যাশা এবং সুপারিশ’ শীর্ষক এই আলোচনাসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের আয়োজনে এবং স্থানীয় অংশীদারদের সহযোগিতায় এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শব্দদূষণ, স্বাস্থ্যসেবার মান, বাল্যবিবাহ এবং মাদক সমস্যা গুরুতর হয়ে উঠছে বলে মনে করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া এম এ এফ (MAF) সভাপতি এ বি এম মোমিনুল হক। সভায় তিনি বলেন, ‘এক্ষেত্রে আমাদের প্রজন্মকে সচেতন করতে হবে যেন তারা ভবিষ্যতে পরিবেশের জন্য আরও কাজ করতে অনুপ্রাণিত হয়।’

ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল-এর সিনিয়র রিজিওনাল ম্যানেজার আবুল বাশার বলেন, ‘আমিও জিততে চাই’ ক্যাম্পেইনের লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের সমস্যাগুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেয়া। তিনি বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নেই, জ্যাম এবং নাগরিক সমস্যায় জর্জরিত। তরুণদের এই সকল সমস্যার কথা তুলে ধরতে হবে’। এই দায়িত্ব পালনে সব স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ জরুরি বলে উল্লেখ করেন।

‘তরী বাংলাদেশ’ এর প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক শামীম আহমেদ-এর সঞ্চালনায় ‘নদী ও জলাশয় সুরক্ষাঃ প্রত্যাশা ও সুপারিশ’ শীর্ষক একটি প্যানেল ডিসকাশন অনুষ্ঠিত হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় বিএডিসি নির্বাহী প্রকৌশলী রনি সাহা বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা পেরিয়েও খাল খনন প্রক্রিয়া চলমান জানিয়ে বলেন, নদী-র নাব্যতা বজায় রাখতে বোরো মৌসুমে কৃষকের জন্য কাজ করে যাচ্ছে বিএডিসি। তিনি নদী ও জলাশয় রক্ষার বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার উপর জোর দেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক খালিদ ইবনে সাদিক জানান, গৃহস্থালী বর্জ্যের কারণে নদীর স্বাভাবিক অবস্থা দূষিত হচ্ছে। নদী দখলদার এবং অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।

কারেন্ট জাল এবং চায়না জালের কারণে নদীর বাস্তুসংস্থান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকির হোসেন। তবে, নিয়মিত যৌথ অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও প্রকৃত জেলেরা অজ্ঞতার কারণে নিবন্ধিত হচ্ছে না বরং এই সুবিধা প্রভাবশালী লোকেরা নিয়ে নিচ্ছে, এ ব্যাপারে সবার সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি জাবেদ রহিম বিজন তার বক্তব্যে তিতাস নদীতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল বর্জ্য এর কারণে সৃষ্ট সমস্যা এবং তার প্রতিকার নিয়ে মূল্যবান মতামত দেন।

অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা ছাড়াও ’নেতা আসছে’ শিরোনামে একটি মঞ্চনাটক পরিবেশিত হয়। এই মঞ্চনাটকের মাধ্যমে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে উদ্যোক্তাদের জন্য সহজে ক্ষুদ্র ঋণ, পাবলিক টয়েলেট, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয়তা সহ বিভিন্ন অসঙ্গতি তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি দাবীগুলো amiojittechai.com ওয়েবে প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়। মঞ্চনাটক শেষে কুইজ প্রতিযোগিতা এবং ক্যাম্পেইনের রিল প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন উপস্থিত অতিথিরা।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মী, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সদস্য, সাধারণ শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে।

ইউএসএআইডির স্ট্রেনদেনিং পলিটিক্যাল ল্যান্ডস্কেপ (এসপিল) প্রকল্পের আওতায় ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের উদ্যোগে পরিচালিত ‘আমিও জিততে চাই’ ক্যাম্পেইনটির অধীনে স্থানীয় জনগণকে তাদের মতামত ও দাবি তুলে ধরার জন্য উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম www.amiojittechai.com এর মাধ্যমে অভিমত প্রদান করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

মাল্টিপার্টি এডভোকেসি ফোরাম এর উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

বৃক্ষরোপণ

সোমবার, ১১ নভেম্বর ২০২৪: ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল এর সহযোগিতায় মাল্টিপার্টি এডভোকেসি ফোরাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া আয়োজন করে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচিতে ফুল, ফল, ঔষধি ও বনজ গাছের চারা রোপণ করা হয়।

মাল্টিপার্টি এডভোকেসি ফোরাম একটি সমন্বিত উদ্যোগ, যা বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের অংশগ্রহণে গঠিত। সংগঠনটি রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব নিরসন, অহিংস রাজনৈতিক চর্চা, নারী শিক্ষা, বাল্য বিবাহ রোধ ও জনদুর্ভোগ নিরসনের লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী এবং সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে সংস্থাটি।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মাল্টিপার্টি এডভোকেসি ফোরাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া এর সাধারণ সম্পাদক এ বি এম মোমিনুল হক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ এর অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুজাফর মোহাম্মদ আরিফ হোসেন, প্রফেসর মোশারফ হোসেন (সাবেক সভাপতি, তাঁতী দল), জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান লাভলু, পৌর ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক সাঈদ হাসান সানি, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সমীর চক্রবর্তী, জেলা নবীনদলের সভাপতি মো. শাহাদাত হোসেন, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক জেমি হৃদয়সহ আরও অনেকে।

এছাড়াও সামাজিক সংগঠন তরী বাংলাদেশ এর আহবায়ক শামীম আহমেদ এবং সদস্য খালেদা মুন্নী, সোহেল রানা ভূঁইয়া, মো. মনির হোসেন ও সালাউদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হত্যা ও বিস্ফোরণ মামলার আসামি রামরাইল ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান সেলিম গ্রেপ্তার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হত্যা ও বিস্ফোরণ মামলার আসামি রামরাইল ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান সেলিম গ্রেপ্তার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রামরাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান সেলিম (৬১) গ্রেপ্তার হয়েছেন। জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (৯ নভেম্বর) দুপুরে তার নিজ বাড়ি উলচাপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করেন। পরে বিকেলে তাকে জেলা আদালতে পাঠানো হয়।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মশিউর রহমান সেলিমের বিরুদ্ধে হত্যা ও বিস্ফোরণ আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি এসব মামলায় আত্মগোপনে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি দল কাজ করছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারা যায় যে, সেলিম তার বাড়িতে অবস্থান করছেন। এরপর তাৎক্ষণিকভাবে ডিবির একটি টিম সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা পুলিশের মিডিয়া অফিসার, পুলিশ পরিদর্শক এনামুল হক এ বিষয়ে বলেন, “মশিউর রহমান সেলিমের বিরুদ্ধে হত্যা ও বিস্ফোরণ আইনে মামলা থাকায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।”

স্থানীয়দের মতে, মশিউর রহমান সেলিম রামরাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তিনি সদর উপজেলার উলচাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত সাহেব আলীর ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে এলেও সাম্প্রতিক মামলা ও অভিযোগের কারণে তার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর ছিল।

এদিকে তার গ্রেপ্তারের খবরে স্থানীয় জনগণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একদিকে অনেকেই বিষয়টিকে ন্যায়বিচারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার অন্যদিকে তার পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

অপরাধ দমন ও এলাকায় শৃঙ্খলা রক্ষায় জেলা পুলিশের এই পদক্ষেপ প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ ধরনের অপরাধ দমনে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা আশাবাদী।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রথমবারের মতো আইটি প্রফেশনালদের মিটআপ সফলভাবে সম্পন্ন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রথমবারের মতো আইটি প্রফেশনালদের মিটআপ সফলভাবে সম্পন্ন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ৯ নভেম্বর ২০২৪ – ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আইটি প্রফেশনাল এবং প্রযুক্তিপ্রেমীদের জন্য প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া আইটি প্রোফেশনাল কমিউনিটি মিটআপ ২০২৪। শিপন কর্মকারের উদ্যোগে আয়োজিত এই মিটআপে শহরের আইটি পেশাজীবী, ডেভেলপার, ডিজাইনার এবং প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মরত ব্যক্তিত্বরা অংশগ্রহণ করেন। এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রযুক্তি খাতকে আরও শক্তিশালী ও একত্রিত করা, যাতে পেশাজীবীরা একে অপরের সাথে পরিচিত হয়ে অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করতে পারেন এবং ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতা গড়ে তুলতে পারেন। তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন তানভিরুল হক, আজিম জমসেদ, মেহেরাজ খান এবং আশরাফুল আমিন। এই সকল সহকর্মীরা মিটআপের সফল আয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

শিপন কর্মকার বলেন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আইটি খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। প্রযুক্তি সেক্টরে যারা আছেন, তাদের মধ্যে একতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্যই এই মিটআপের আয়োজন করা হয়েছে। এই মিটআপের মাধ্যমে আমরা সবাই পরিচিত হয়েছি, যা আমাদের ভবিষ্যতের প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যারা নতুন শিখছেন, তাদের জন্যও এটি একটি দারুণ সুযোগ। এই কমিউনিটির মাধ্যমে তারা প্রবীণদের থেকে শিখতে পারবেন এবং নিজের দক্ষতা উন্নত করতে পারবেন। আমি বিশ্বাস করি, এটি তাদের জন্য পথপ্রদর্শক হবে।

Min BITC Group Photo 2

তানভিরুল হক তার বক্তব্যে বলেন: এই মিটআপের মাধ্যমে আমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পেরেছি এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা বিনিময়ের একটি সুযোগ পেয়েছি। এই আয়োজন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রযুক্তি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

আজিম জামসেদ বলেন: প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জন্য একটি শক্তিশালী কমিউনিটি গড়ে তোলা অপরিহার্য। এই মিটআপ সেই পথে আমাদের সকলকে একত্রিত করেছে এবং আমাদের মধ্যে সহযোগিতার একটি বন্ধন তৈরি করেছে।

মেহেরাজ খান বলেন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রথমবারের মতো এমন একটি মিটআপ আয়োজন করা সত্যিই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এটি আমাদের নতুনদের সাথে পরিচিত হতে এবং তাদের অভিজ্ঞতা থেকে শেখার সুযোগ দিয়েছে। ভবিষ্যতে এমন আরও উদ্যোগের জন্য আমরা প্রস্তুত।

আশরাফুল আমিন তার বক্তব্যে বলেন: প্রযুক্তি খাতে উন্নতির জন্য পারস্পরিক সহযোগিতা অপরিহার্য। এই মিটআপ আমাদেরকে একে অপরের সহায়তায় কাজ করার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। আমি আশা করি, এটি ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে সহযোগিতার সুযোগ এনে দেবে।

এছাড়াও ইভেন্টে উপস্থিত সকল সদস্য তাদের বক্তব্য দেন এবং নিজেদের অভিজ্ঞতা ও পরিকল্পনা শেয়ার করেন। এই মিটআপে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের পেশাগত অভিজ্ঞতা ও অর্জন নিয়ে কথা বলেন এবং ভবিষ্যতে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

মিটআপের বিশেষ আকর্ষণ ছিল গিভওয়ে, যেখানে UnivaHost, SpiderDevs, এবং wpXpress স্পন্সর হিসেবে যুক্ত হন এবং মোট $৮৬০ ডলার সমমূল্যের ১৩টি পুরস্কার কুইজ ও লটারির মাধ্যমে প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানের শেষে শিপন কর্মকার ভবিষ্যতে প্রতি বছর এমন মিটআপ আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দেন এবং সকল সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আইটি সেক্টরকে আরও শক্তিশালী করার জন্য সকলকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান।

এই মিটআপ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আইটি পেশাজীবীদের মধ্যে যোগাযোগ এবং সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে, যা ভবিষ্যতে কমিউনিটির উন্নয়নে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

- Advertisement -

জনপ্রিয় সংবাদ

গরম খবর