হোম প্রচ্ছদ পৃষ্ঠা 11

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উচ্চ আদালতের নির্দেশে চেম্বারসহ দুটি স্থাপনা উচ্ছেদ, হিন্দু সম্প্রদায়ের জমি উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চেম্বার ভবন গুঁড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মসজিদ রোড এলাকায় উচ্চ আদালতের নির্দেশে পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানে জেলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিসহ দুটি স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। গতকাল বুধবার (১ জুন) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের দখল হয়ে যাওয়া প্রায় ২৫ শতক জমি।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার নুসরাত জাবীন এই অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ ও সেনা সদস্যরাও অংশ নেন।

জানা গেছে, ওই জমিটি দীর্ঘদিন ধরে জেলা চেম্বার অব কমার্সসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দখলে ছিল। মামলার রায়ে জমির প্রকৃত মালিক হিসেবে লীলাময় ভট্টাচার্যের পক্ষে আদালত রায় দেন। অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের আওতায় দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর উচ্চ আদালতের আপিল ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ওই রায়ের বাস্তবায়নের নির্দেশ দেয়।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে সরকার যে জমিগুলো লিজ দিয়েছিল, তার একটি অংশ ছিল এ ২৪.৮৯ শতক জায়গা। যা চেম্বার অব কমার্সসহ কয়েকজনকে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। তবে লীলাময় ভট্টাচার্য ২০১২ সালে মালিকানা দাবি করে মামলা করেন। ২০১৬ সালে জেলা জজ আদালত তার পক্ষে রায় দেন। পরবর্তী সময়ে উচ্চ আদালতের রিভিউ এবং আপিল ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তও ওই রায়ের পক্ষে যায়।

অভিযান চলাকালে চেম্বারের ভেতরে থাকা দোকানিদের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ব্যবসায়ীরা মালামাল সরানোর পর উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করা হয়। তবে কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, তাদের কোনো প্রকার পূর্ব নোটিশ প্রদান করা হয়নি। তারা আরও জানান, চেম্বার থেকেও তাদের কিছু জানানো হয়নি।

জমির মালিক নির্মল ভট্টাচার্য বলেন, “এটি আমাদের পূর্বপুরুষদের সম্পত্তি। দীর্ঘদিন ধরে এটি অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে গণ্য ছিল। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা আমাদের জমির মালিকানা ফিরে পেয়েছি।”

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাবীন বলেন, “আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ীই এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। জমিটি পূর্বের মালিকদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

উল্লেখ্য, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে আপিল করার সুযোগ না থাকায় জেলা প্রশাসন বাধ্য হয়েই এ রায় কার্যকরের পদক্ষেপ নেয়।

হরিপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষক নিহত ও আহত এক

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় শরীফ হাসান (৩৪) নামে এক সহকারী শিক্ষক নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় মিষ্টার (৩০) নামে আরও একজন গুরুতর আহত হয়ে হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহত শরীফ হাসান হরিপুর উপজেলার বনগাঁও গ্রামের বাসিন্দা এবং ডাঙ্গীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। আহত মিষ্টার একই উপজেলার পশ্চিম বনগাঁও গ্রামের হক মাস্টারের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল সোমবার সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে শরীফ হাসান মোটরসাইকেলযোগে কর্মস্থলে যাওয়ার সময় বেলুয়া গ্রামের হুমায়ুনের বাড়ির সামনে পাকা রাস্তায় বিপরীত দিক থেকে আসা মালবাহী মহেন্দ্র গাড়ির ধাক্কায় পড়ে যান। গাড়ির চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এসময় তার সঙ্গে থাকা মিষ্টার গুরুতর আহত হন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হরিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) শরীফুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা নিহত শিক্ষকের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।

হরিপুরে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ঢেউটিন বিতরণ

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার ১ নম্বর গেদুড়া ইউনিয়নের আটঘরিয়া গ্রামে জমি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১৭টি পরিবারের মাঝে ঢেউটিন বিতরণ করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে হরিপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ইসরাত ফারজানার নির্দেশনায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে পাওয়া ৪৪ বান্ডিল ঢেউটিন বিতরণ করা হয়।

বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হরিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অঃদাঃ) শাফিউল মাজলুবিন রহমান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মফিজুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবু সালে চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস, হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুন হামিদ, জামায়াতের প্রতিনিধি কামরুজ্জামান প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল আটঘরিয়া গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সহিংসতা, ঘরবাড়ি লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে বহু পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়ে এবং তাদের ঘরবাড়ি ভস্মীভূত হয়।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে আরও সহায়তা অব্যাহত থাকবে এবং যেকোনো দুর্যোগে জনগণের পাশে রয়েছে সরকার।

মেধাবী ছাত্র মতিউরের দায়িত্ব নিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের

BNP

ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার একটি অসহায় মেধাবী ছাত্রের দায়িত্ব গ্রহণ করে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও হরিপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ আবু তাহের।

সম্প্রতি ফেসবুকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় হরিপুর উপজেলার ভাতুরিয়া ইউনিয়নের ঢাকদহ গোপালপুর গ্রামের এক মেধাবী ছাত্র মতিউরের জীবনসংগ্রামের গল্প। ছোটবেলাতেই মাকে হারানো মতিউরের বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করে তার দায়িত্ব নেননি। দাদি ভিক্ষা করে কোনোমতে তার পড়াশোনার খরচ চালিয়ে আসছিলেন। তবে কয়েক মাস আগে দাদির মৃত্যুতে শুরু হয় মতিউরের চরম মানবেতর জীবন।

একটি ভাঙাচোরা খড়ের ঘরে বাস করে অন্যের বাড়িতে কাজ করে নিজের পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছে সে। ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন বুকে ধারণ করে জীবনযুদ্ধে লড়াই করছে এই কিশোর, যার নিজের নুন আনতে পান্তা ফুরায়।

মতিউরের এমন সংগ্রামী জীবনের গল্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি নজরে আসে আলহাজ্ব মোঃ আবু তাহেরের।

রবিবার সকাল ১০টায় মতিউরের ভাঙ্গা ঘরে উপস্থিত হয়ে তিনি তার হাতে নগদ অর্থ তুলে দেন এবং মতিউরের শিক্ষা ও স্বপ্ন পূরণের সার্বিক দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণা দেন।

আলহাজ্ব মোঃ আবু তাহের বলেন, “মতিউরের মত মেধাবী ছাত্ররা যদি সঠিক সহযোগিতা পায়, তাহলে তারাই একদিন সমাজে আলোর দিশারি হবে। আমি চাই মতিউর একদিন ডাক্তার হয়ে হরিপুরবাসীর সেবা করুক। তার স্বপ্ন পূরণে আমি পাশে থাকবো সবসময়।”

এই মানবিক উদ্যোগে এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন আবু তাহের। মতিউরের ভবিষ্যতের জন্য দোয়া ও শুভকামনা জানিয়েছেন এলাকাবাসীসহ অসংখ্য ফেসবুক ব্যবহারকারী।

হরিপুরে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস পালিত

তারুণ্যের অংশগ্রহণ, খেলাধুলা মানোন্নয়ন”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সারা দেশের ন্যায় ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলাতেও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস উদযাপন করা হয়। রবিবার সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়, যা উপজেলার প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে।

র‍্যালি শেষে উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি অফিসার রুবেল হুসেন। এতে স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, তরুণ সমাজকে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করতে হলে নিয়মিত এমন আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন সুস্থ ও কর্মক্ষম জাতি গঠনে ক্রীড়াচর্চা অপরিহার্য।

দিনব্যাপী এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার আনোয়ার হোসেন, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রাইহানুল ইসলাম মিঞা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামালউদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের, উপজেলা এনসিপির সভাপতি এম এইচ কাঞ্চন, হরিপুর প্রেস ক্লাবের সম্পাদক আব্দুর রশিদ এবং সুজনসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

হরিপুরে জাতীয় ভোটার দিবস পালিত

“তোমার আমার বাংলাদেশে, ভোট দেব মিলেমিশে”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে হরিপুর উপজেলায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় ভোটার দিবস ২০২৫ উদযাপন করা হয়েছে।

সকাল ১১টায় হরিপুর উপজেলা নির্বাচন ভবনের সামনে পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে দিবসটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আরিফুজ্জামান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ আব্দুল মান্নান, নির্বাচন অফিসের কম্পিউটার অপারেটর মোঃ রুবেল হোসেন এবং নির্বাচন অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। উদ্বোধনের পর উপজেলা নির্বাচন ভবনের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়, যা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সম্মেলন কক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আরিফুজ্জামান-এর সভাপতিত্বে ভোটার দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ আবু তাহের।

আলোচনা সভায় বক্তারা ভোটার অধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা নতুন ভোটারদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান এবং সবার অংশগ্রহণে একটি কার্যকর ও স্বচ্ছ নির্বাচন ব্যবস্থার উপর জোর দেন।

অনুষ্ঠানের আয়োজকরা জানান, ভোটার সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গণতান্ত্রিক চেতনার প্রসার ঘটাতে এই দিবসটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

হরিপুরে আরডিআরএস‘র কর্মশালা অনুষ্ঠিত

Bangla News

হরিপুর (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে আরডিআরএস বাংলাদেশ এর ফেডারেসনের অন্তর্ভুক্ত সমিতির সদস্যদের সরকারি সেবা প্রাপ্তিতে অনগ্রসরদের অধিক অন্তর্ভুক্তি করার বিষয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ কর্মশালা সোমবার সকাল ১০ টায় হরিপুর উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে আয়োজন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান সভাপতিত্ব করেন। কর্মশালার সঞ্চালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ঠাকুরগাঁও জেলা আরডিআরএস বাংলাদেশ এর প্রশিক্ষণ অফিসার সোহানুর রহমান কাজল।

কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন ঠাকুরগাঁও জেলা আরডিআরএস বাংলাদেশ এর আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক গোলজার হোসেন, উপজেলা কৃষি অফিসার রুবেল হুসেন, সমাজসেবা অফিসার, যুবউন্নয়ন অফিসার আনোয়ার হুসেন, মৎস্য অফিসার, হরিপুর থানার ওসি জাকারিয়া, প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার, হরিপুর আরডিআরএস বাংলাদেশ এর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সুপারভাইজার শশীউল ইসলাম এবং হরিপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ প্রমুখ।

কর্মশালায় সরকারি সেবা নিশ্চিত করতে এবং অবহেলিত ও অনগ্রসর জনগণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

ঠাকুরগাঁও হরিপুরে ১৭২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই

হরিপুর (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: ভাষা আন্দোলনের ৭৩ বছর পার হলেও ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার ১৭২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখনো শহীদ মিনার নেই। জাতীয় শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শিক্ষার্থীদের কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেই, যা নতুন প্রজন্মের কাছে ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব তুলে ধরার ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

হরিপুর উপজেলা মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মোট ১৮৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সাধারণ কলেজসহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে মাত্র ৭টি প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার রয়েছে, যা বেশিরভাগই জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১১০টির মধ্যে মাত্র ১০টিতে শহীদ মিনার আছে, বাকিগুলোতে নেই।

২০১৬ সালে উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে আমাই দিঘীর পাড়ে উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে একটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়, যেখানে উপজেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক দল, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলাদা শহীদ মিনার না থাকায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের ভেতরেই শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারছে না, যা ভাষা আন্দোলনের চেতনা বিকাশে একটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও ভাষা আন্দোলনের অনুরাগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরতে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকা অত্যন্ত জরুরি।

হরিপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রায়হানুল ইসলাম মিঞা এবং প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সুলতান সালাহ উদ্দিন জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

হরিপুরে পুকুরের পানিতে পড়ে শিশুর মৃত্যু

হরিপুর (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে পুকুরের পানিতে ডুবে আবু রায়হান আনসারী (৪) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ডাঙ্গীপাড়া ইউনিয়নের রহমতপুর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আবু রায়হান আনসারী ওই গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সকালে সহপাঠীদের সঙ্গে খেলতে গিয়ে সে সকলের অগোচরে বাড়ির সামনের পুকুরে পড়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর পরিবারের লোকজন পুকুর থেকে শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার করে।

হরিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জাকারিয়া মণ্ডল জানান, “সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় শিশুটির মরদেহ দাফনের জন্য স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”

এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সংসারের ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণে সরিষা চাষে ঝুঁকছে হরিপুরের কৃষকরা

হরিপুর (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: ভোজ্য তেলের সংকট, পরিবারের তেলের চাহিদা পূরণ এবং বাণিজ্যিকভাবে সরিষার চাহিদা বৃদ্ধির ফলে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে ব্যাপক হারে সরিষা চাষ শুরু করেছেন কৃষকরা। সরিষার হলুদ ফুলে ঢেকে গেছে বিস্তীর্ণ মাঠ, যা দেখে কৃষকের মনে আশার সঞ্চার হয়েছে।

ডাঙ্গীপাড়া গ্রামের কৃষক কলিম উদ্দিন বলেন, “ভোজ্য তেলের উচ্চমূল্য এবং ভেজাল তেলের কারণে মানুষ এখন আবার খাঁটি সরিষার তেলের দিকে ঝুঁকছে। পরিবারের রান্না ও শরীরের যত্নে সরিষার তেলের বিকল্প নেই। আমি এবার দুই বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি।”

thakor 2

একসময় সরিষার তেলই ছিল গ্রামের মানুষের প্রধান ভোজ্য তেল। তবে বিকল্প তেলের প্রচলন এবং সরিষার দাম কমে যাওয়ায় কৃষকরা সরিষা চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। বর্তমানে বাজারে সরিষার তেলের ভালো দাম এবং চাহিদা বৃদ্ধির কারণে কৃষকরা পুনরায় সরিষা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

ফালডাঙ্গী গ্রামের কৃষক নলিম উদ্দিন জানান, “বাজারে ভেজাল তেলের দাপট এবং উচ্চমূল্যের কারণে এবার আমি এক বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি। আশা করছি, ফলন ভালো হবে এবং পরিবারের তেলের চাহিদা মিটবে। সরিষা তোলার পর সেই জমিতে বোরো ধান রোপণ করব।”

গত শনিবার (২৫ জানুয়ারি) উপজেলার কালীগঞ্জ হাটে পুরাতন শুকনো সরিষা প্রতি মণ ৩,৫০০ থেকে ৪,০০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

হরিপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (কৃষিবিদ) রুবেল হোসেন জানান, “এবার হরিপুর উপজেলায় ৩,৪০৮ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। ৮০-৮৫ দিনের মধ্যে সরিষার ফলন হবে। প্রতি হেক্টরে ১.৪৫ টন ফলন আশা করা হচ্ছে। কৃষি দপ্তরের উদ্যোগে ৪০০ প্রান্তিক কৃষককে ভর্তুকি হিসেবে বিনামূল্যে সরিষার বীজ দেওয়া হয়েছে। কৃষকরা সরিষা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন, কারণ সরিষা ও তেলের চাহিদা বাণিজ্যিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে।”

সরিষার চাষ শুধু সংসারের ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণে নয়, এটি কৃষকের আর্থিক অবস্থারও উন্নতি ঘটাচ্ছে।

- Advertisement -

জনপ্রিয় সংবাদ

গরম খবর