হোম প্রচ্ছদ পৃষ্ঠা 13

পলিথিন বন্ধে জনসচেতনতায় তরী বাংলাদেশ এর লিফলেট বিতরণ

পলিথিন বন্ধে জনসচেতনায় তরী বাংলাদেশের লিফলেট বিতরণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ৭ নভেম্বর ২০২৪: পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর পলিথিন ব্যবহারের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে তরী বাংলাদেশ আজ শহরের আনন্দ বাজার এলাকায় লিফলেট বিতরণ করেছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ও পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন দুপুর বারোটায় এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “সরকার ১ নভেম্বর ২০২৪ থেকে পলিথিনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ইতোমধ্যেই মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে। তরী বাংলাদেশের এই উদ্যোগ জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পলিথিন ব্যবহারে পরিবর্তন আনতে সহায়তা করবে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, কাগজ, কাপড় ও পাটের ব্যাগ ব্যবহারে মানুষের আগ্রহ বাড়বে এবং পরিবেশ রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

তরী বাংলাদেশের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য খালেদা মুন্নী, সোহেল রানা ভূঁইয়া, খাইরুজ্জামান ইমরান, শিপন কর্মকার ও রোটারিয়ান আশিকুল ইসলাম উপস্থিত থেকে জনগণকে পলিথিন ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করেন। এছাড়াও সংগঠনের সদস্য আবদুল হেকিম, রিপন চক্রবর্তী, জামান খাঁন এবং মো. মনির হোসেন লিফলেট বিতরণে অংশ নেন।

সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, পলিথিন মাটি ও পানি দূষণের অন্যতম প্রধান কারণ। পলিথিন ব্যবহারের মাধ্যমে মাটির উর্বরতা নষ্ট হয় এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তরী বাংলাদেশের আহ্বায়ক শামীম আহমেদ বলেন, “২০০২ সালে বাংলাদেশ বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে পলিথিন নিষিদ্ধ করে, কিন্তু আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাবে এটি অবাধে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এ কারণে পলিথিনের অপচনশীল অংশ শহরের ড্রেন ও নদীতে জমা হয়ে জলজ প্রাণীকুলের জন্য হুমকি তৈরি করছে।”

উপস্থিত সকলে পলিথিনের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ব্যবহারে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। “আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই দূষণমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব,” বক্তারা উল্লেখ করেন।

হরিপুরে ফুলকপির বাম্পার ফলন, চাষীদের মুখে স্বস্তির হাসি

হরিপুরে ফুলকপির বাম্পার ফলন, চাষীদের মুখে স্বস্তির হাসি

হরিপুর (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় ফুলকপির বাম্পার ফলন কৃষকদের মাঝে এনে দিয়েছে স্বস্তির হাসি। বাজারে ফুলকপি এখন প্রতি কেজি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা চাষীদের জন্য যেমন লাভজনক, তেমনি আশার আলো জাগিয়েছে।

হরিপুর উপজেলা কৃষি অফিস থেকে জানা যায়, উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে এ বছর প্রায় ১৫ হেক্টর জমিতে ফুলকপি চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশি। টেংরিয়া গ্রামের কৃষক নজরুল বলেন, “এই মৌসুমে আমি সাড়ে তিন বিঘা জমিতে ফুলকপি চাষ করেছি, এবং ফলন বেশ ভালো হয়েছে। বর্তমানে বাজারে প্রতিকেজি ফুলকপি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা অত্যন্ত সন্তোষজনক। এবার এই জমিতে ফসল তোলার পর ভুট্টা চাষের পরিকল্পনা করছি।”

কলোনি পাড়ার কৃষক আমির জানালেন, “এক বিঘা জমিতে ফুলকপি চাষে ৩০ হাজার টাকা খরচ করে ৫০ হাজার টাকা লাভ করতে পেরেছি। এভাবে লাভবান হওয়া সত্যিই আনন্দের।” তার বাগান গ্রামের কৃষক রেজাবুলও জানান, তিনি দুই বিঘা জমির ফুলকপি বিক্রি করে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা আয় করেছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুবেল হোসেন জানান, “ফুলকপি একটি শীতকালীন সবজি, যা বেলে দোআঁশ মাটিতে ভালো হয়। কম সময়ে কম খরচে ভালো লাভ পাওয়া যায় বলে এ অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে ফুলকপি চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। কৃষকদের আরও দক্ষ করে তুলতে আমরা নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও মাঠ পর্যায়ে পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করে যাচ্ছি।”

ফুলকপির বাম্পার ফলন এবং সঠিক দাম পাওয়ায় কৃষকরা তাদের ভবিষ্যৎ চাষাবাদ পরিকল্পনায় নতুনভাবে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন, যা হরিপুরের কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

হরিপুরে আবারও হলুদ চাষে ফিরেছে কৃষক

হরিপুরে আবারও হলুদ চাষে ফিরেছে কৃষক

হরিপুর (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে এক সময় ব্যাপকভাবে হলুদের চাষ করা হলেও কম দামের কারণে কৃষকরা এই ফসল থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। তবে এখন বাণিজ্যিকভাবে হলুদের চাহিদা এবং বাজারে ভালো দাম থাকায় আবারও হলুদ চাষে ফিরে আসছেন কৃষকরা।

মিনাপুর গ্রামের কৃষক জুয়েল জানান, বর্তমানে শুকনা হলুদের সুটি প্রতি কেজি ২৯০ টাকায় এবং হলুদের গুড়া ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ বছরের জন্য তিনি এক বিঘা জমিতে হলুদের চাষ করেছেন।

হরিপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রুবেল হোসেন বলেন, “এ বছর উপজেলায় অনাবাদি ও পতিত জমিসহ প্রায় ২৫ হেক্টর জমিতে হলুদের চাষ হয়েছে। হলুদের আয়ুকাল এক বছর এবং বেলে দোআঁশ ও ছায়াযুক্ত জমি হলুদের জন্য উপযুক্ত। প্রতি হেক্টরে গড়ে ৪ দশমিক ৮ মেট্রিক টন ফলন হতে পারে।”

বর্তমান বাজারে হলুদের দাম ও চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে এ ফসল চাষের প্রতি আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে বলে জানান কৃষি অফিসার।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে তরীর লিফলেট বিতরণ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে তরীর লিফলেট বিতরণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে লিফলেট বিতরণ করেছে নদী ও প্রকৃতির সুরক্ষা সামাজিক আন্দোলন ‘তরী বাংলাদেশ’-এর নাসিরনগর উপজেলা শাখা।

সোমবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে নাসিরনগর উপজেলা সদরে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ ইমরানুল হক ভূঁইয়ার নেতৃত্বে এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী রবিউল সরোয়ারের উপস্থিতিতে এ লিফলেট বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

লিফলেট বিতরণের সময় তরী বাংলাদেশ নাসিরনগর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ এবং যুগ্ম আহ্বায়ক শামীম আল মামুনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তারা নাসিরনগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সাধারণ মানুষের মাঝে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়গুলো নিয়ে সচেতনতা মূলক লিফলেট বিতরণ করেন।

এ কর্মসূচিতে তরী বাংলাদেশ-এর সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে ছিলেন দৈনিক বাংলাদেশের আলো পত্রিকার প্রতিনিধি নিহারেন্দু চক্রবর্তী, দৈনিক আমার সংবাদ-এর মো. আরিফুল ইসলাম, এবং দৈনিক সকালের সময়-এর প্রতিনিধি হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া প্রমুখ।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা করছেন আয়োজকরা।

হরিপুর সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে পানিতে ডুবে মৃত্যু হওয়া বাংলাদেশি যুবকের লাশ হস্তান্তর

হরিপুর সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে পানিতে ডুবে মৃত্যু হওয়া বাংলাদেশি যুবকের লাশ হস্তান্তর

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে ভাতুরিয়া সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে কাউসার আলী (১৮) নামে এক বাংলাদেশি যুবকের লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কাউসার আলী হরিপুর উপজেলার ভাতুরিয়া রামপুর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে।

২১ অক্টোবর বিকেল ৫টায় ভাতুরিয়া সীমান্তের ৩৪৭/৩ এস পিলার এলাকায় এই পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ভারতের রায়গঞ্জ থানা ও বিএসএফের পক্ষ থেকে লাশ হস্তান্তর করা হয় এবং বাংলাদেশের পক্ষে বিজিবি ও পুলিশ তা গ্রহণ করেন। পরে হরিপুর থানা পুলিশ মৃত কাউসারের লাশ তার পরিবারের নিকট পৌঁছে দেয়।

বিজিবির পক্ষে বৈঠকে নেতৃত্ব দেন ৪২ বিজিবির চাপাসার বিওপির কমান্ডার নায়েব সুবেদার শওকত আলী এবং ভারতের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ থানার এসআই রক্তিম সিনহা রায় ও মহেশগাঁও বিএসএফ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার টিকে সিং।

উল্লেখ্য, গত ২৯ সেপ্টেম্বর সীমান্তের ৩৪৬/১৮নং পিলারের নিকট কুলিক নদীতে সহপাঠীদের সঙ্গে গোসল করতে গিয়ে প্রচণ্ড স্রোতে ভেসে গিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে চলে যায় কাউসার। পরবর্তীতে ভারতের অভ্যন্তরে নদীতে তার লাশ ভেসে ওঠে। খবর পেয়ে কাউসারের পিতা রমজান আলী লাশ ফেরতের জন্য বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ময়না তদন্ত ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষে ২২ দিন পর বিজিবি-বিএসএফের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে লাশ হস্তান্তর করা হয়।

হরিপুরে মহিলা দলের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে

জহরুল ইসলাম (জীবন), হরিপুর (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে সভাপতি পদে শাবানা পারভিন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে আয়েশা সিদ্দিকা নির্বাচিত হয়েছেন। সোমবার ১৪ অক্টোবর বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে হরিপুর জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের আয়োজনে দলীয় কার্যালয়ে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন হরিপুর মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাবানা পারভিন।সম্মেলনের উদ্বোধন করেন জেলা মহিলা দলের সভাপতি ফোরাতুন নাহার প্যারিশ। গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জেড মর্তুজা চৌধুরী তুলা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক নাজমা পারভিন, হরিপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামালউদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের।সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে ১৬ জন কাউন্সিলরের গোপন ব্যালটের মাধ্যমে শাবানা পারভিন এবং আয়েশা সিদ্দিকা উভয়ে ১০টি করে ভোট পেয়ে যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন।

হরিপুর প্রেসক্লাবের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে রজত জয়ন্তী উদযাপন ও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান

হরিপুর প্রেসক্লাবের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে রজত জয়ন্তী উদযাপন ও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান

জহরুল ইসলাম (জীবন), হরিপুর (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর প্রেসক্লাবের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে রজত জয়ন্তী উদযাপন ও প্রবীণ দুই সাংবাদিককে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় হরিপুর প্রেসক্লাবের আয়োজনে ক্লাবের সভাকক্ষে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। হরিপুর প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল মামুন চৌধুরীর সভাপতিত্বে রজত জয়ন্তী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন হরিপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ। এছাড়া সহ-সভাপতি ইউসুফ আলী, কার্যকরী সদস্য আবুল কালাম আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সালেহ মুসা বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে প্রেসক্লাবের সদস্যরা, যেমন সুজন জহুরুল ইসলাম জীবন, রাগিব আহসান রাজু, ওয়াশিম, বকতুল্লাহ, নফিলউদ্দীন সহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে হরিপুর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সভাপতি শফিকুল আলম চৌধুরী সুজা এবং প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক আব্দুর রশিদকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

হরিপুরে কুলিক নদীতে গোসল করতে নেমে যুবক নিখোঁজ

হরিপুর (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে কুলিক নদীতে গোসল করতে নেমে কাউসার আলী (৩০) নামে এক যুবক নিখোঁজ হয়েছেন। কাউসার উপজেলার ভাতুরিয়া রামপুর কলোনি পাড়ার বাসিন্দা রমজান আলীর ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২৯ সেপ্টেম্বর রবিবার দুপুরে গ্রামের কয়েকজন যুবকের সঙ্গে কুলিক নদীতে গোসল করতে যান কাউসার। গোসলের একপর্যায়ে সাঁতার কাটার সময় হঠাৎ নদীর প্রবল স্রোতে তলিয়ে যান তিনি। তার সঙ্গীরা অনেক চেষ্টা করেও তাকে খুঁজে না পেয়ে দ্রুত বিষয়টি বাড়িতে জানান।

কাউসারের বাবা রমজান আলী বলেন, খবর পেয়ে নদীতে গিয়ে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও ছেলেকে পাওয়া যায়নি।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাজাহান সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “নদীতে প্রবল স্রোত থাকায় খোঁজাখুঁজিতে সমস্যা হচ্ছে, তবে এখনো উদ্ধার তৎপরতা চলছে।

হরিপুরে গভীর রাতে অগ্নিকাণ্ড, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

হরিপুরে গভীর রাতে অগ্নিকাণ্ড, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

জহরুল ইসলাম (জীবন), হরিপুর (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার ভাতুরিয়া ইউনিয়নের যাদবপুর গ্রামে গত শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গরুর ঘরের মশা তাড়ানোর কয়েলের আগুন থেকে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় বলে জানা গেছে।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হরিপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। তবে ততক্ষণে দুইটি পরিবারের ঘরবাড়ি, গরু, ছাগলসহ মূল্যবান জিনিসপত্র পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য আমজাদ ও রাজু জানান, আগুনে তাদের ৪টি গরু, ৫টি ছাগল, একটি মোটরসাইকেল, ঘরে রাখা ধান, চাল, কাপড় ও বাড়িঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। তারা দাবি করেছেন, এই অগ্নিকাণ্ডে তাদের প্রায় ৮ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “অগ্নিকাণ্ডে পরিবারগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানানো হয়েছে এবং তাদের সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

এই দুর্ঘটনা এলাকার মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া ফেলে দিয়েছে।

হরিপুর খালের উপর ব্রিজ নির্মাণে হাসি ফুটলো দুই গ্রামের ৪ হাজার মানুষের মুখ

হরিপুর, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার ৬ নং ভাতুরিয়া ইউনিয়নের কাঠালডাঙ্গী এতিমখানা ও দিলগাঁও গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে খালের উপর নতুন ব্রিজ নির্মিত হয়েছে। ১১.৫৮ মিটার দৈর্ঘ্যের এই গার্ডার ব্রিজটির ফলে প্রায় ৪ হাজার মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের কষ্ট দূর হয়েছে।

ব্রিজটি নির্মাণের ফলে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত সহজ হয়েছে এবং কৃষকরা তাদের কৃষি পণ্য পরিবহনে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেয়েছে। এই ব্রিজের মাধ্যমে স্থানীয় জনজীবন অনেকটাই স্বাভাবিক ও সুবিধাজনক হয়ে উঠেছে।

নির্মাণ ব্যয় ও অর্থায়ন:
ব্রিজটি নির্মাণে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে ৪১ লাখ ১৯ হাজার ২২০ টাকা ব্যয় হয়েছে।

হরিপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এস এম এ করিম জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুজ্জামানের নির্দেশনায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সংস্কারের আওতায় এই ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে।

অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্প:

হরিপুর পিআইও কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের আওতায় আরও বেশ কিছু প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু প্রকল্পের তথ্য হলো:

  • গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা নগদ অর্থ): ১২২৫৪৬৬৩.২৪ টাকা ব্যয়ে ৮৩টি প্রকল্প।
  • গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা চাল): ৬৩.৭৫৭২ মেট্রিক টন চালের মাধ্যমে ১৫টি প্রকল্প।
  • গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা গম): ১৭২.৯৩১২ মেট্রিক টন গম দিয়ে ৪৫টি প্রকল্প।
  • গ্রামীণ অবকাঠামো (রক্ষণাবেক্ষণ টি.আর): ১৫৭০৭২৭৪.৬৬ টাকা ব্যয়ে ২১০টি প্রকল্প।
  • গ্রামীণ মাটি রাস্তা টেকসই করার লক্ষ্যে হেরিং বোন বন্ড (এইচবিবি করণ): ৮০২৫৬০০.০০ টাকার একটি প্রকল্প।
  • গ্রামীণ সেতু/কালভার্ট নির্মাণ: ৭৭৫৭৬৭৯৬.৮০ টাকা ব্যয়ে ২০টি প্রকল্প।
  • অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি): ২৭২০১২৪৭.০০ টাকা ব্যয়ে ৬০টি প্রকল্প।
  • জিআর খাদ্যশস্য: ১২৯ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য ১২৯০০ জন উপকারভোগী।
  • ভিজিএফ খাদ্যশস্য: ২৬৬.৪৪০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য ২৬৬৪৪ জন উপকারভোগী।
  • কম্বল বিতরণ: ৩৫৯৭টি কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।
  • শুকনা খাবার: ১৯২ প্যাকেজ বিতরণ করা হয়েছে।

এসব প্রকল্পের মাধ্যমে হরিপুর উপজেলার গ্রামীণ জনপদে উন্নয়নমূলক পরিবর্তন আসছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

- Advertisement -

জনপ্রিয় সংবাদ

গরম খবর