হরিপুর (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় ভূমি অধিকার ও কৃষি-ভূমি সংস্কারের দাবিতে ভূমিহীন জনসংগঠন ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে এক জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলা পরিষদের হলরুমে সংগঠনের সভাপতি মুনিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হরিপুর উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মানুষ কুমার। এছাড়াও সিডিএ নির্বাহী পরিচালক শাহই মবিন জিন্না, মাঠ সমন্বয়কারী জাহিদুর রহমান, হরিপুর সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম এবং উপজেলা ভূমিহীন সমন্বয় পরিষদের সভাপতি মোবারক আলী ও তরিকুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশে ৮২টি ভূমিহীন জনসংগঠনের প্রায় ৫০০ সদস্য অংশগ্রহণ করেন। ভূমিহীনদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তাদের বিভিন্ন দাবি এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের প্রস্তাবনা তুলে ধরেন বক্তারা।
সমাবেশ শেষে, ভূমিহীন জনসংগঠনের পক্ষ থেকে ১৩ দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট প্রদান করা হয়, যাতে ভূমিহীনদের অধিকারের স্বীকৃতি এবং কৃষি ভূমি সংস্কারে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
১২ নভেম্বর ২০২৪, ব্রাহ্মণবাড়িয়া: দেশের নদী ও জলাশয় রক্ষায় একমাত্র সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব বলে মত দিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অনুষ্ঠিত এক আলোচনাসভায় উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা। তারা আরও বলেন, দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশ সুরক্ষায় সকলের ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ প্রয়োজন।
মঙ্গলবার সুরসম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গনে ‘আমিও জিততে চাই’ ক্যাম্পেইনের আওতায় আয়োজিত ‘নদী ও জলাশয় সুরক্ষা: প্রত্যাশা এবং সুপারিশ’ শীর্ষক এই আলোচনাসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের আয়োজনে এবং স্থানীয় অংশীদারদের সহযোগিতায় এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শব্দদূষণ, স্বাস্থ্যসেবার মান, বাল্যবিবাহ এবং মাদক সমস্যা গুরুতর হয়ে উঠছে বলে মনে করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া এম এ এফ (MAF) সভাপতি এ বি এম মোমিনুল হক। সভায় তিনি বলেন, ‘এক্ষেত্রে আমাদের প্রজন্মকে সচেতন করতে হবে যেন তারা ভবিষ্যতে পরিবেশের জন্য আরও কাজ করতে অনুপ্রাণিত হয়।’
ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল-এর সিনিয়র রিজিওনাল ম্যানেজার আবুল বাশার বলেন, ‘আমিও জিততে চাই’ ক্যাম্পেইনের লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের সমস্যাগুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেয়া। তিনি বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নেই, জ্যাম এবং নাগরিক সমস্যায় জর্জরিত। তরুণদের এই সকল সমস্যার কথা তুলে ধরতে হবে’। এই দায়িত্ব পালনে সব স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ জরুরি বলে উল্লেখ করেন।
‘তরী বাংলাদেশ’ এর প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক শামীম আহমেদ-এর সঞ্চালনায় ‘নদী ও জলাশয় সুরক্ষাঃ প্রত্যাশা ও সুপারিশ’ শীর্ষক একটি প্যানেল ডিসকাশন অনুষ্ঠিত হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় বিএডিসি নির্বাহী প্রকৌশলী রনি সাহা বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা পেরিয়েও খাল খনন প্রক্রিয়া চলমান জানিয়ে বলেন, নদী-র নাব্যতা বজায় রাখতে বোরো মৌসুমে কৃষকের জন্য কাজ করে যাচ্ছে বিএডিসি। তিনি নদী ও জলাশয় রক্ষার বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার উপর জোর দেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক খালিদ ইবনে সাদিক জানান, গৃহস্থালী বর্জ্যের কারণে নদীর স্বাভাবিক অবস্থা দূষিত হচ্ছে। নদী দখলদার এবং অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।
কারেন্ট জাল এবং চায়না জালের কারণে নদীর বাস্তুসংস্থান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকির হোসেন। তবে, নিয়মিত যৌথ অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও প্রকৃত জেলেরা অজ্ঞতার কারণে নিবন্ধিত হচ্ছে না বরং এই সুবিধা প্রভাবশালী লোকেরা নিয়ে নিচ্ছে, এ ব্যাপারে সবার সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি জাবেদ রহিম বিজন তার বক্তব্যে তিতাস নদীতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল বর্জ্য এর কারণে সৃষ্ট সমস্যা এবং তার প্রতিকার নিয়ে মূল্যবান মতামত দেন।
অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা ছাড়াও ’নেতা আসছে’ শিরোনামে একটি মঞ্চনাটক পরিবেশিত হয়। এই মঞ্চনাটকের মাধ্যমে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে উদ্যোক্তাদের জন্য সহজে ক্ষুদ্র ঋণ, পাবলিক টয়েলেট, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয়তা সহ বিভিন্ন অসঙ্গতি তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি দাবীগুলো amiojittechai.com ওয়েবে প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়। মঞ্চনাটক শেষে কুইজ প্রতিযোগিতা এবং ক্যাম্পেইনের রিল প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন উপস্থিত অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মী, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সদস্য, সাধারণ শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে।
ইউএসএআইডির স্ট্রেনদেনিং পলিটিক্যাল ল্যান্ডস্কেপ (এসপিল) প্রকল্পের আওতায় ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের উদ্যোগে পরিচালিত ‘আমিও জিততে চাই’ ক্যাম্পেইনটির অধীনে স্থানীয় জনগণকে তাদের মতামত ও দাবি তুলে ধরার জন্য উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম www.amiojittechai.com এর মাধ্যমে অভিমত প্রদান করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
সোমবার, ১১ নভেম্বর ২০২৪: ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল এর সহযোগিতায় মাল্টিপার্টি এডভোকেসি ফোরাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া আয়োজন করে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচিতে ফুল, ফল, ঔষধি ও বনজ গাছের চারা রোপণ করা হয়।
মাল্টিপার্টি এডভোকেসি ফোরাম একটি সমন্বিত উদ্যোগ, যা বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের অংশগ্রহণে গঠিত। সংগঠনটি রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব নিরসন, অহিংস রাজনৈতিক চর্চা, নারী শিক্ষা, বাল্য বিবাহ রোধ ও জনদুর্ভোগ নিরসনের লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী এবং সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে সংস্থাটি।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মাল্টিপার্টি এডভোকেসি ফোরাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া এর সাধারণ সম্পাদক এ বি এম মোমিনুল হক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ এর অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুজাফর মোহাম্মদ আরিফ হোসেন, প্রফেসর মোশারফ হোসেন (সাবেক সভাপতি, তাঁতী দল), জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান লাভলু, পৌর ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক সাঈদ হাসান সানি, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সমীর চক্রবর্তী, জেলা নবীনদলের সভাপতি মো. শাহাদাত হোসেন, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক জেমি হৃদয়সহ আরও অনেকে।
এছাড়াও সামাজিক সংগঠন তরী বাংলাদেশ এর আহবায়ক শামীম আহমেদ এবং সদস্য খালেদা মুন্নী, সোহেল রানা ভূঁইয়া, মো. মনির হোসেন ও সালাউদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রামরাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান সেলিম (৬১) গ্রেপ্তার হয়েছেন। জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (৯ নভেম্বর) দুপুরে তার নিজ বাড়ি উলচাপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করেন। পরে বিকেলে তাকে জেলা আদালতে পাঠানো হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মশিউর রহমান সেলিমের বিরুদ্ধে হত্যা ও বিস্ফোরণ আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি এসব মামলায় আত্মগোপনে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি দল কাজ করছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারা যায় যে, সেলিম তার বাড়িতে অবস্থান করছেন। এরপর তাৎক্ষণিকভাবে ডিবির একটি টিম সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা পুলিশের মিডিয়া অফিসার, পুলিশ পরিদর্শক এনামুল হক এ বিষয়ে বলেন, “মশিউর রহমান সেলিমের বিরুদ্ধে হত্যা ও বিস্ফোরণ আইনে মামলা থাকায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।”
স্থানীয়দের মতে, মশিউর রহমান সেলিম রামরাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তিনি সদর উপজেলার উলচাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত সাহেব আলীর ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে এলেও সাম্প্রতিক মামলা ও অভিযোগের কারণে তার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর ছিল।
এদিকে তার গ্রেপ্তারের খবরে স্থানীয় জনগণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একদিকে অনেকেই বিষয়টিকে ন্যায়বিচারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার অন্যদিকে তার পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
অপরাধ দমন ও এলাকায় শৃঙ্খলা রক্ষায় জেলা পুলিশের এই পদক্ষেপ প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ ধরনের অপরাধ দমনে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা আশাবাদী।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ৯ নভেম্বর ২০২৪ – ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আইটি প্রফেশনাল এবং প্রযুক্তিপ্রেমীদের জন্য প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া আইটি প্রোফেশনাল কমিউনিটি মিটআপ ২০২৪। শিপন কর্মকারের উদ্যোগে আয়োজিত এই মিটআপে শহরের আইটি পেশাজীবী, ডেভেলপার, ডিজাইনার এবং প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মরত ব্যক্তিত্বরা অংশগ্রহণ করেন। এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রযুক্তি খাতকে আরও শক্তিশালী ও একত্রিত করা, যাতে পেশাজীবীরা একে অপরের সাথে পরিচিত হয়ে অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করতে পারেন এবং ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতা গড়ে তুলতে পারেন। তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন তানভিরুল হক, আজিম জমসেদ, মেহেরাজ খান এবং আশরাফুল আমিন। এই সকল সহকর্মীরা মিটআপের সফল আয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
শিপন কর্মকার বলেন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আইটি খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। প্রযুক্তি সেক্টরে যারা আছেন, তাদের মধ্যে একতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্যই এই মিটআপের আয়োজন করা হয়েছে। এই মিটআপের মাধ্যমে আমরা সবাই পরিচিত হয়েছি, যা আমাদের ভবিষ্যতের প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যারা নতুন শিখছেন, তাদের জন্যও এটি একটি দারুণ সুযোগ। এই কমিউনিটির মাধ্যমে তারা প্রবীণদের থেকে শিখতে পারবেন এবং নিজের দক্ষতা উন্নত করতে পারবেন। আমি বিশ্বাস করি, এটি তাদের জন্য পথপ্রদর্শক হবে।
তানভিরুল হক তার বক্তব্যে বলেন: এই মিটআপের মাধ্যমে আমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পেরেছি এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা বিনিময়ের একটি সুযোগ পেয়েছি। এই আয়োজন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রযুক্তি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।
আজিম জামসেদ বলেন: প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জন্য একটি শক্তিশালী কমিউনিটি গড়ে তোলা অপরিহার্য। এই মিটআপ সেই পথে আমাদের সকলকে একত্রিত করেছে এবং আমাদের মধ্যে সহযোগিতার একটি বন্ধন তৈরি করেছে।
মেহেরাজ খান বলেন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রথমবারের মতো এমন একটি মিটআপ আয়োজন করা সত্যিই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এটি আমাদের নতুনদের সাথে পরিচিত হতে এবং তাদের অভিজ্ঞতা থেকে শেখার সুযোগ দিয়েছে। ভবিষ্যতে এমন আরও উদ্যোগের জন্য আমরা প্রস্তুত।
আশরাফুল আমিন তার বক্তব্যে বলেন: প্রযুক্তি খাতে উন্নতির জন্য পারস্পরিক সহযোগিতা অপরিহার্য। এই মিটআপ আমাদেরকে একে অপরের সহায়তায় কাজ করার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। আমি আশা করি, এটি ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে সহযোগিতার সুযোগ এনে দেবে।
এছাড়াও ইভেন্টে উপস্থিত সকল সদস্য তাদের বক্তব্য দেন এবং নিজেদের অভিজ্ঞতা ও পরিকল্পনা শেয়ার করেন। এই মিটআপে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের পেশাগত অভিজ্ঞতা ও অর্জন নিয়ে কথা বলেন এবং ভবিষ্যতে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
মিটআপের বিশেষ আকর্ষণ ছিল গিভওয়ে, যেখানে UnivaHost, SpiderDevs, এবং wpXpress স্পন্সর হিসেবে যুক্ত হন এবং মোট $৮৬০ ডলার সমমূল্যের ১৩টি পুরস্কার কুইজ ও লটারির মাধ্যমে প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষে শিপন কর্মকার ভবিষ্যতে প্রতি বছর এমন মিটআপ আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দেন এবং সকল সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আইটি সেক্টরকে আরও শক্তিশালী করার জন্য সকলকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান।
এই মিটআপ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আইটি পেশাজীবীদের মধ্যে যোগাযোগ এবং সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে, যা ভবিষ্যতে কমিউনিটির উন্নয়নে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ৭ নভেম্বর ২০২৪: পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর পলিথিন ব্যবহারের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে তরী বাংলাদেশ আজ শহরের আনন্দ বাজার এলাকায় লিফলেট বিতরণ করেছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ও পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন দুপুর বারোটায় এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “সরকার ১ নভেম্বর ২০২৪ থেকে পলিথিনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ইতোমধ্যেই মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে। তরী বাংলাদেশের এই উদ্যোগ জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পলিথিন ব্যবহারে পরিবর্তন আনতে সহায়তা করবে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, কাগজ, কাপড় ও পাটের ব্যাগ ব্যবহারে মানুষের আগ্রহ বাড়বে এবং পরিবেশ রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
তরী বাংলাদেশের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য খালেদা মুন্নী, সোহেল রানা ভূঁইয়া, খাইরুজ্জামান ইমরান, শিপন কর্মকার ও রোটারিয়ান আশিকুল ইসলাম উপস্থিত থেকে জনগণকে পলিথিন ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করেন। এছাড়াও সংগঠনের সদস্য আবদুল হেকিম, রিপন চক্রবর্তী, জামান খাঁন এবং মো. মনির হোসেন লিফলেট বিতরণে অংশ নেন।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, পলিথিন মাটি ও পানি দূষণের অন্যতম প্রধান কারণ। পলিথিন ব্যবহারের মাধ্যমে মাটির উর্বরতা নষ্ট হয় এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তরী বাংলাদেশের আহ্বায়ক শামীম আহমেদ বলেন, “২০০২ সালে বাংলাদেশ বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে পলিথিন নিষিদ্ধ করে, কিন্তু আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাবে এটি অবাধে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এ কারণে পলিথিনের অপচনশীল অংশ শহরের ড্রেন ও নদীতে জমা হয়ে জলজ প্রাণীকুলের জন্য হুমকি তৈরি করছে।”
উপস্থিত সকলে পলিথিনের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ব্যবহারে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। “আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই দূষণমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব,” বক্তারা উল্লেখ করেন।
হরিপুর (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় ফুলকপির বাম্পার ফলন কৃষকদের মাঝে এনে দিয়েছে স্বস্তির হাসি। বাজারে ফুলকপি এখন প্রতি কেজি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা চাষীদের জন্য যেমন লাভজনক, তেমনি আশার আলো জাগিয়েছে।
হরিপুর উপজেলা কৃষি অফিস থেকে জানা যায়, উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে এ বছর প্রায় ১৫ হেক্টর জমিতে ফুলকপি চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশি। টেংরিয়া গ্রামের কৃষক নজরুল বলেন, “এই মৌসুমে আমি সাড়ে তিন বিঘা জমিতে ফুলকপি চাষ করেছি, এবং ফলন বেশ ভালো হয়েছে। বর্তমানে বাজারে প্রতিকেজি ফুলকপি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা অত্যন্ত সন্তোষজনক। এবার এই জমিতে ফসল তোলার পর ভুট্টা চাষের পরিকল্পনা করছি।”
কলোনি পাড়ার কৃষক আমির জানালেন, “এক বিঘা জমিতে ফুলকপি চাষে ৩০ হাজার টাকা খরচ করে ৫০ হাজার টাকা লাভ করতে পেরেছি। এভাবে লাভবান হওয়া সত্যিই আনন্দের।” তার বাগান গ্রামের কৃষক রেজাবুলও জানান, তিনি দুই বিঘা জমির ফুলকপি বিক্রি করে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা আয় করেছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুবেল হোসেন জানান, “ফুলকপি একটি শীতকালীন সবজি, যা বেলে দোআঁশ মাটিতে ভালো হয়। কম সময়ে কম খরচে ভালো লাভ পাওয়া যায় বলে এ অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে ফুলকপি চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। কৃষকদের আরও দক্ষ করে তুলতে আমরা নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও মাঠ পর্যায়ে পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করে যাচ্ছি।”
ফুলকপির বাম্পার ফলন এবং সঠিক দাম পাওয়ায় কৃষকরা তাদের ভবিষ্যৎ চাষাবাদ পরিকল্পনায় নতুনভাবে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন, যা হরিপুরের কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
হরিপুর (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে এক সময় ব্যাপকভাবে হলুদের চাষ করা হলেও কম দামের কারণে কৃষকরা এই ফসল থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। তবে এখন বাণিজ্যিকভাবে হলুদের চাহিদা এবং বাজারে ভালো দাম থাকায় আবারও হলুদ চাষে ফিরে আসছেন কৃষকরা।
মিনাপুর গ্রামের কৃষক জুয়েল জানান, বর্তমানে শুকনা হলুদের সুটি প্রতি কেজি ২৯০ টাকায় এবং হলুদের গুড়া ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ বছরের জন্য তিনি এক বিঘা জমিতে হলুদের চাষ করেছেন।
হরিপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রুবেল হোসেন বলেন, “এ বছর উপজেলায় অনাবাদি ও পতিত জমিসহ প্রায় ২৫ হেক্টর জমিতে হলুদের চাষ হয়েছে। হলুদের আয়ুকাল এক বছর এবং বেলে দোআঁশ ও ছায়াযুক্ত জমি হলুদের জন্য উপযুক্ত। প্রতি হেক্টরে গড়ে ৪ দশমিক ৮ মেট্রিক টন ফলন হতে পারে।”
বর্তমান বাজারে হলুদের দাম ও চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে এ ফসল চাষের প্রতি আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে বলে জানান কৃষি অফিসার।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে লিফলেট বিতরণ করেছে নদী ও প্রকৃতির সুরক্ষা সামাজিক আন্দোলন ‘তরী বাংলাদেশ’-এর নাসিরনগর উপজেলা শাখা।
সোমবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে নাসিরনগর উপজেলা সদরে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ ইমরানুল হক ভূঁইয়ার নেতৃত্বে এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী রবিউল সরোয়ারের উপস্থিতিতে এ লিফলেট বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
লিফলেট বিতরণের সময় তরী বাংলাদেশ নাসিরনগর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ এবং যুগ্ম আহ্বায়ক শামীম আল মামুনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তারা নাসিরনগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সাধারণ মানুষের মাঝে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়গুলো নিয়ে সচেতনতা মূলক লিফলেট বিতরণ করেন।
এ কর্মসূচিতে তরী বাংলাদেশ-এর সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে ছিলেন দৈনিক বাংলাদেশের আলো পত্রিকার প্রতিনিধি নিহারেন্দু চক্রবর্তী, দৈনিক আমার সংবাদ-এর মো. আরিফুল ইসলাম, এবং দৈনিক সকালের সময়-এর প্রতিনিধি হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া প্রমুখ।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা করছেন আয়োজকরা।
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে ভাতুরিয়া সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে কাউসার আলী (১৮) নামে এক বাংলাদেশি যুবকের লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কাউসার আলী হরিপুর উপজেলার ভাতুরিয়া রামপুর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে।
২১ অক্টোবর বিকেল ৫টায় ভাতুরিয়া সীমান্তের ৩৪৭/৩ এস পিলার এলাকায় এই পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ভারতের রায়গঞ্জ থানা ও বিএসএফের পক্ষ থেকে লাশ হস্তান্তর করা হয় এবং বাংলাদেশের পক্ষে বিজিবি ও পুলিশ তা গ্রহণ করেন। পরে হরিপুর থানা পুলিশ মৃত কাউসারের লাশ তার পরিবারের নিকট পৌঁছে দেয়।
বিজিবির পক্ষে বৈঠকে নেতৃত্ব দেন ৪২ বিজিবির চাপাসার বিওপির কমান্ডার নায়েব সুবেদার শওকত আলী এবং ভারতের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ থানার এসআই রক্তিম সিনহা রায় ও মহেশগাঁও বিএসএফ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার টিকে সিং।
উল্লেখ্য, গত ২৯ সেপ্টেম্বর সীমান্তের ৩৪৬/১৮নং পিলারের নিকট কুলিক নদীতে সহপাঠীদের সঙ্গে গোসল করতে গিয়ে প্রচণ্ড স্রোতে ভেসে গিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে চলে যায় কাউসার। পরবর্তীতে ভারতের অভ্যন্তরে নদীতে তার লাশ ভেসে ওঠে। খবর পেয়ে কাউসারের পিতা রমজান আলী লাশ ফেরতের জন্য বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ময়না তদন্ত ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষে ২২ দিন পর বিজিবি-বিএসএফের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে লাশ হস্তান্তর করা হয়।