বাংলাদেশ কোস্টগার্ডকে দেশের সামুদ্রিক সীমানা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি ও সতর্কতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হকের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ নির্দেশনা প্রদান করেন।
সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী বাহিনীর সামগ্রিক কার্যক্রমের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে দেশের জলসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। তাই কোস্টগার্ডকে কেবল একটি টহল বাহিনী হিসেবে নয়, বরং আধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত একটি শক্তিশালী বাহিনী হিসেবে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করতে হবে।”
বৈঠককালে প্রধানমন্ত্রী কোস্টগার্ডের সদস্যদের অকুতোভয় দেশপ্রেম এবং পেশাদারিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সমুদ্র উপকূল এবং নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষের জানমাল রক্ষা এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই বাহিনী নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় দুর্গত এলাকায় কোস্টগার্ডের উদ্ধার অভিযান ও ত্রাণ কার্যক্রম সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আস্থা তৈরি করেছে। প্রধানমন্ত্রী এই জনসেবামূলক কাজের ধারা ভবিষ্যতে আরও বেগবান করার নির্দেশ দেন।
সৌজন্য সাক্ষাতে কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক প্রধানমন্ত্রীকে বাহিনীর বর্তমান উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং আধুনিকায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করেন। প্রধানমন্ত্রী বাহিনীর এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, সরকার কোস্টগার্ডকে একটি ত্রিমাত্রিক ও আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। গভীর সমুদ্রে নজরদারি বাড়ানোর জন্য আধুনিক জাহাজ এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা যুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় অস্থিরতার কালো মেঘ সরাসরি আছড়ে পড়েছে বাংলাদেশের আকাশপথে। ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার জেরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো একে একে তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়ায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন ফ্লাইট বিপর্যয়। গত তিন দিনে ঢাকা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যের অন্তত ৭৪টি ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ।
বাতিল ফ্লাইটের পরিসংখ্যান: বিমানবন্দর সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আজ ২ মার্চ পর্যন্ত তিন দিনের ব্যবধানে এই বিশাল সংখ্যক ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি): ২৩টি ফ্লাইট বাতিল হয়। যার মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১১টি এবং ইউএস-বাংলার ৬টিসহ এমিরেটস ও ফ্লাই দুবাইয়ের মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইটও ছিল।
রবিবার (১ মার্চ): পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে এবং এক দিনেই বাতিল হয় ৪০টি ফ্লাইট। কাতার এয়ারওয়েজ, এয়ার অ্যারাবিয়া এবং গালফ এয়ারের মতো বড় বড় সংস্থাগুলো তাদের কার্যক্রম স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়।
সোমবার (২ মার্চ): আজ আগাম ঘোষণা দিয়ে বাতিল করা হয়েছে আরও ১১টি ফ্লাইট।
বিপাকে প্রবাসীরা: আকস্মিক এই ফ্লাইট বাতিলের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন মধ্যপ্রাচ্যগামী প্রবাসী শ্রমিকরা। সঠিক সময়ে কর্মস্থলে ফিরতে না পারায় অনেকের ভিসার মেয়াদ নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা। বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ গণমাধ্যমকে জানান, এয়ারলাইন্সগুলোর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই এই ৭৪টি ফ্লাইট বাতিলের হিসাব পাওয়া গেছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, ফ্লাইট বাতিলের সঠিক তথ্য বা বিকল্প উড্ডয়ন সময় সম্পর্কে এয়ারলাইন্সগুলো থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা মিলছে না। বিমানবন্দরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে অনেককে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে।
অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ: যুদ্ধাবস্থা না কাটা পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের রুটগুলোতে বিমান চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে বেশিরভাগ এয়ারলাইন্স তাদের রুট পরিবর্তন করার চেষ্টা করলেও, দীর্ঘ পথ এবং জ্বালানি খরচের কারণে অনেক ফ্লাইট পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় নিহত হয়েছেন বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে। রাজধানী তেহরানে তার আবাসিক ও প্রশাসনিক কমপ্লেক্সে চালানো বিমান হামলার পর তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে মারা যান।
ইরান সরকার তার মৃত্যুর পর দেশজুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। এ সময় জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে এবং সরকারি কার্যক্রম সীমিত রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে।
শনিবার সকালে তেহরানের একটি উচ্চ নিরাপত্তা এলাকায় হামলাটি চালানো হয়। হামলার সময় খামেনি দায়িত্বসংক্রান্ত কাজে ব্যস্ত ছিলেন বলে জানা গেছে। হামলায় ভবনের বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ আরও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারা হামলার বিষয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন, তবে বিস্তারিত সামরিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ইরান সরকার ঘটনাটিকে বড় ধরনের আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তার মৃত্যুতে দেশটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী ও ঐতিহ্যবাহী জনপদ। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই জনপদে এখন বইছে আগাম রাজনীতির অঙ্গন সবখানেই চায়ের টেবিল থেকে শুরু করে গ্রামের হাট-বাজার—সবখানেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ‘উপজেলা পরিষদ নির্বাচন’। তবে এবারের নির্বাচনে অন্য সব জল্পনা-কল্পনাকে ছাপিয়ে একটি নামই সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে, তিনি হলেন হরিপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সফল ভাইস চেয়ারম্যান “আলহাজ্ব মোঃ আবু তাহের। তার প্রার্থিতা এবং তাকে ঘিরে তৃণমূলের যে স্বতঃস্ফূর্ত জাগরণ দেখা যাচ্ছে, তা স্থানীয় রাজনীতির ইতিহাসে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
রাজনীতিতে জোয়ার-ভাটা থাকবেই, কিন্তু সংকটে যে নেতা মাঠ ছাড়েন না, কর্মীরা তাকেই হৃদয়ে স্থান দেয়। আলহাজ্ব আবু তাহেরের রাজনৈতিক জীবন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনি কেবল ড্রয়িংরুমের রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ ছিলেন না। হরিপুর উপজেলার সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে এবং দলের দুঃসময়ে রাজপথে থেকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। তার এই আপসহীন মনোভাবই তাকে আজ তৃণমূল কর্মীদের আস্থার প্রতীকে পরিণত করেছে। নেতাকর্মীরা মনে করছেন, আবু তাহেরের মতো একজন অভিজ্ঞ নেতা উপজেলা পরিষদের হাল ধরলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।
হরিপুরের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে সবচেয়ে প্রভাবশালী বিষয় হলো ঠাকুরগাঁও – ২ আসনের বর্তমান জনপ্রিয় সংসদ সদস্য “ডা. মোঃ আব্দুস সালামের” আস্থা। রাজনৈতিক মহলে জোরালো আলোচনা রয়েছে যে, আবু তাহের এমপির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং বিশ্বস্ত একজন মানুষ। ডা. সালামের উন্নয়ন দর্শনকে তৃণমূল পর্যায়ে সার্থকভাবে রূপায়ন করার জন্য আবু তাহেরের মতো একজন দক্ষ সংগঠক ও দূরদর্শী নেতার প্রয়োজন রয়েছে। এমপির ‘গ্রিন সিগন্যাল’ বা সবুজ সংকেত পাওয়ার বিষয়টি এখন টক অফ দ্য টাউন। এই সমর্থন আবু তাহেরের পাল্লাকে অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি ভারী করে দিয়েছে, যা সাধারণ ভোটারদের মনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
একজন নেতার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয় তার অতীত কর্ম দিয়ে। আবু তাহের যখন হরিপুর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন, তখন তার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং সাধারণ মানুষের জন্য তার দ্বার উন্মুক্ত রাখার বিষয়টি আজও মানুষ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে। তিনি কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবেও এলাকায় তার বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। তার ব্যক্তিগত ক্লিন ইমেজ এবং দুর্নীতির কলঙ্কমুক্ত জীবন তাকে সর্বস্তরের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। হরিপুরের সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করছেন, একজন সৎ ও যোগ্য ব্যবসায়ী যখন জনপ্রতিনিধি হন, তখন এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিও ত্বরান্বিত হয়।
সরেজমিনে হরিপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, আবু তাহেরের প্রার্থিতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ। বিশেষ করে যুবসমাজ ও তৃণমূলের প্রবীণ কর্মীদের মধ্যে তাকে নিয়ে এক ধরণের ‘আবেগ’ কাজ করছে। চায়ের দোকানে আড্ডারত এক কর্মী বলেন, “আমরা এমন নেতা চাই যিনি আমাদের কথা শুনবেন, আমাদের বিপদে পাশে দাঁড়াবেন। আবু তাহের ভাই সেই মানুষ যাকে আমরা যেকোনো প্রয়োজনে হাতের নাগালে পাই।” এই যে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসা, এটাই আবু তাহেরের সবচেয়ে বড় শক্তি। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই তার সমর্থনে যে জনমত তৈরি হয়েছে, তা অনেকটা ‘গণজোয়ারে’ রূপ নিয়েছে।
হরিপুর উপজেলাকে একটি আধুনিক, মডেল ও বৈষম্যহীন উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে হলে প্রয়োজন দূরদর্শী নেতৃত্ব। ডা. মোঃ আব্দুস সালামের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের ছায়াতলে থেকে আবু তাহের যদি হরিপুরের হাল ধরেন, তবে এই অঞ্চলের উন্নয়নের চাকা আরও সচল হবে—এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের। ভোটের রাজনীতিতে শেষ পর্যন্ত কী হয় তা সময় বলে দেবে, তবে বর্তমান প্রেক্ষাপট ও জনমত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, হরিপুরের নির্বাচনী সমীকরণ এখন আবু তাহেরের দিকেই হেলে আছে। যোগ্যতার এই মূল্যায়ন যদি ভোটের ব্যালটে প্রতিফলিত হয়, তবে হরিপুর উপজেলা এক নতুন স্বর্ণযুগের সূচনা দেখবে ইনশাআল্লাহ।
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার ৫০ শয্যার সরকারি হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে চরম চিকিৎসক সংকটে ভুগছে। মাত্র ৩ জন চিকিৎসক দিয়ে কোনো রকমে চলছে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম। ফলে উপজেলার গরিব, অসহায় ও সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় প্রায় পৌনে দুই লাখ মানুষের বসবাস। এর মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবার জন্য এই হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক না থাকায় রোগীদের ভোগান্তি দিন দিন বেড়েই চলেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এখানে সরকারি চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ১৯টি। কাগজে-কলমে ৫ জন কর্মরত থাকলেও বাস্তবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা-সহ মাত্র ৩ জন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন ধরে ১৪টি চিকিৎসকের পদ শূন্য থাকায় সীমিত জনবল দিয়ে বিপুলসংখ্যক রোগীর চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা।
এদিকে গাইনি ও অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক না থাকায় প্রায় দেড় যুগ ধরে হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) থাকা মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও সরকারিভাবে গর্ভবতী মায়েদের জন্য বিনামূল্যে ডিএসএফ কার্যক্রম চালু রয়েছে, তবুও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকায় প্রতিদিনই প্রসূতি রোগীদের সিজারের জন্য বাইরে যেতে হচ্ছে।
এর ফলে রোগীদের হয়রানির পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। একইভাবে শিশু বিশেষজ্ঞ না থাকায় এলাকার শিশু রোগীরাও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা অনেক রোগী সন্তোষজনক চিকিৎসা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
হরিপুর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আসাদুজ্জামান বলেন,
“চিকিৎসক সংকটের কারণে রোগীদের যথাযথ সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। জনবহুল এই হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে আরও চিকিৎসক নিয়োগ প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শামীমুজ্জামান বলেন,
“হাসপাতালে কাগজে-কলমে ৫ জন চিকিৎসক থাকলেও বাস্তবে কর্মরত আছেন মাত্র ৩ জন। জনবল সংকটসহ সার্বিক বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।”
এলাকাবাসী দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ করে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর নামাজে জানাজার দিন আগামীকাল বুধবার একদিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এ ঘোষণা দেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
ভাষণের শুরুতে প্রধান উপদেষ্টা গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির শীর্ষ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে জাতি এক অভিভাবকসুলভ নেতৃত্বকে হারিয়েছে। তিনি বলেন, “আজ পুরো জাতি গভীর শোক ও বেদনায় নিমজ্জিত। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।”
তিনি উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশ গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। এই দুঃসময়ে তাঁর পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক সহকর্মী এবং অসংখ্য কর্মী-সমর্থকের প্রতি জাতির পক্ষ থেকে আন্তরিক সমবেদনা জানান প্রধান উপদেষ্টা। একই সঙ্গে তিনি মহান আল্লাহর কাছে সবার জন্য ধৈর্য ধারণের শক্তি কামনা করেন।
ভাষণে প্রফেসর ইউনূস বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অনন্য ও মহিমান্বিত ব্যক্তিত্ব। গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তাঁর আপসহীন অবস্থান জাতিকে বারবার গণতান্ত্রিক পথে ফেরার প্রেরণা যুগিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশ ও জাতির জন্য বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, গণমুখী নেতৃত্ব এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাঁর অবিচল ভূমিকা জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। এমন একজন দূরদর্শী ও দেশপ্রেমিক নেত্রীর শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শোকাবহ এই সময়ে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সবাই যেন যার যার অবস্থান থেকে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং এই সংকটময় সময়ে জাতি যেন ঐক্যবদ্ধ থাকে।
এ সময় তিনি সতর্ক করে বলেন, শোকের এই পরিবেশে কেউ যেন অস্থিতিশীলতা বা নাশকতার অপচেষ্টা চালাতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
ভাষণের শেষাংশে তিনি নামাজে জানাজাসহ সব ধরনের শোক কর্মসূচি শৃঙ্খলা ও মর্যাদার সঙ্গে পালনের জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মহান আল্লাহর কাছে দেশবাসীর জন্য ধৈর্য, শক্তি ও ঐক্য কামনা করেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইন্তিকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বিএনপির মিডিয়া সেল তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
দীর্ঘদিন ধরে বেগম খালেদা জিয়া হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনির জটিলতাসহ একাধিক শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতা দেখা দিলে গত ২৩ নভেম্বর তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছিল।
চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি তিনবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেন। একই সঙ্গে তিনি মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নির্বাচিত নারী সরকারপ্রধান ছিলেন।
১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুর জেলায় তাঁর জন্ম। তাঁর পিতা ইস্কান্দার মজুমদার ও মাতা তৈয়বা মজুমদার। দেশভাগের পর তাঁর পরিবার তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান হয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসে। তাঁদের আদি নিবাস ফেনী জেলায়। বেগম খালেদা জিয়া দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং পরবর্তীতে সুরেন্দ্রনাথ কলেজে শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করেন। ১৯৬০ সালে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বিয়ে করেন।
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তিনি ফার্স্ট লেডি হিসেবে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সফরে অংশ নেন এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৮২ সালে বিএনপিতে সাধারণ সদস্য হিসেবে যোগ দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে উঠে আসেন। ১৯৮৪ সালে তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।
রাজনৈতিক জীবনে বেগম খালেদা জিয়া এক অনন্য নজির স্থাপন করেন। তিনি কখনো কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত একাধিক আসন থেকে নির্বাচনে বিজয়ী হন এবং ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সব আসনে জয় লাভ করেন।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্কুল এন্ড কলেজের বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান–২০২৫ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর ২০২৫) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নদী ও প্রকৃতি সুরক্ষা বিষয়ক সামাজিক আন্দোলন ‘তরী বাংলাদেশ’-এর আহ্বায়ক শামীম আহমেদ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। সুশিক্ষা ও নৈতিকতার সমন্বয় ঘটলে একটি সুন্দর ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। পড়াশোনার পাশাপাশি দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. ইকবাল হোসেন। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্কুল এন্ড কলেজ কেবল ফলাফলভিত্তিক শিক্ষা নয়, বরং নৈতিকতা ও চরিত্র গঠনের শিক্ষা দিয়ে আসছে। যারা আজ পুরস্কৃত হয়েছে তারা যেমন গর্বের, তেমনি যারা পুরস্কার পায়নি তারাও ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রভাষক রুমানুল ফেরদৌসী রুমা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্কুল এন্ড কলেজ। তিনি বলেন, শিক্ষা মানে শুধু ভালো ফলাফল নয়; বরং নিজেকে একজন যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। নিয়মিত অধ্যবসায়, শিক্ষকদের সম্মান ও অভিভাবকদের দোয়া থাকলে সাফল্য নিশ্চিত হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানের উপাধ্যক্ষ সুরমা আক্তার। তিনি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা বশির উদ্দিন চিশতি। পরে সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন ও তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।
বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আয়েশা আক্তার হেপির প্রাণবন্ত ও সুশৃঙ্খল উপস্থাপনায় প্লে থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী মোট ৫০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে ক্রেস্ট, সনদ ও উপহার প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে অভিভাবকরা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্কুল এন্ড কলেজ শিক্ষার মান, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা গঠনে প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে চলেছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর–বিজয়নগর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকালে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জাহানের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
মনোনয়ন দাখিলকালে জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জহিরুল হক খোকন, সহসভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম, সহসভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম সারোয়ার খোকন, সহসভাপতি এবিএম মোমিনুল হক এবং সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম খান রুমাসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় নেতারা বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য করতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি সম্প্রীতি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাল্টিপার্টি অ্যাডভোকেসি ফোরাম (ম্যাফ)-এর আয়োজনে রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় শহরের সুরসম্রাট দি আলাউদ্দিন সংগীতাঙ্গণে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
সংলাপে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সংসদ সদস্য প্রার্থীরা অংশ নেন। বক্তারা বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য নয়, বরং দেশের আপামর জনগণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রত্যাশিত। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে হলে রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও নাগরিক সমাজের সম্মিলিত ভূমিকার কোনো বিকল্প নেই।
বক্তারা আরও বলেন, জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। রাজনৈতিক সম্প্রীতি, অহিংসা ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখতে সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য শুধু বক্তব্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নাগরিক সমাজের সামনে স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দেওয়াই এই সংলাপের মূল উদ্দেশ্য।
মাল্টিপার্টি অ্যাডভোকেসি ফোরাম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সভাপতি এ বি এম মোমিনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত এমপি প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহাবুব শ্যামল, জেলা ইসলামী আন্দোলনের সেক্রেটারি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের মনোনীত এমপি প্রার্থী আলহাজ মাওলানা গাজী নিয়াজুল করীম, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের এনসিপি মনোনীত এমপি প্রার্থী মো. আতাউল্লাহ, জেলা গণঅধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত এমপি প্রার্থী লিটন হুসাইন জিহাদ, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জহিরুল হক খোকন এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ।
ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের কনসালটেন্ট রুবাইয়াত হাসান ও ম্যাফ সদস্য শাহাদত হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মাল্টিপার্টি অ্যাডভোকেসি ফোরাম (ম্যাফ) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদ হাসান সানি। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল কুমিল্লা অঞ্চলের সিনিয়র রিজিওনাল ম্যানেজার আবুল বাশার।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অংশগ্রহণকারী প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা রাজনৈতিক সম্প্রীতি স্মারকে স্বাক্ষর করেন। পরে শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তা দেন তারা।
উল্লেখ্য, ইউকেএইড-এর অর্থায়নে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল পরিচালিত বাংলাদেশ স্ট্রেংথেনিং পলিটিক্যাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি ফর সিটিজেন এমপাওয়ারমেন্ট (বি-স্পেস) প্রকল্পের আওতায় এই সম্প্রীতি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।