ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় অবৈধ পণ্য ও একটি ট্রাকসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৯ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শাহবাজপুর এলাকার মেসার্স জিলানী পেট্রোল পাম্পের সামনে থেকে এসব পণ্য জব্দ করা হয়।
সরাইল থানা পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তির নাম মো. ওবায়দুর রহমান (২১)। তিনি চাপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কয়লারদি হাটি এলাকার বাসিন্দা।
অভিযানে ১ হাজার ১৬৩ পিস ভারতীয় শাড়ি উদ্ধার করা হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ২৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা। এছাড়া ৯টি প্লাস্টিকের বস্তায় থাকা ৯ হাজার পিস ভারতীয় তৈরি স্কিন সানরাইজ ক্রিম জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য ২৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
পুলিশ আরও জানায়, উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে উদ্ধারকৃত পণ্য ও ট্রাক জব্দ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়ে
খুলনার ফুলতলা উপজেলার সুপার জুট মিলে রবিবার (১০ আগস্ট) রাত পৌনে ১০টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। দ্রুত খবর পেয়ে খুলনা ও যশোর ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
খুলনা ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. মাসুদ সরদার জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে সোমবার সকালে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
মিল কর্তৃপক্ষ জানায়, মিলের অভ্যন্তরে রাখা পরিত্যক্ত জুট গোডাউনে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রথমে মিলের নিজস্ব অগ্নিনির্বাপক দল আগুন নেভানোর চেষ্টা চালায় এবং সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসে খবর পাঠানো হয়। তাৎক্ষণিকভাবে খুলনা, দৌলতপুর ও যশোরের নওয়াপাড়া থেকে ছয়টি ইউনিট এসে প্রায় এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
সুপার জুট মিলের ব্যবস্থাপক মো. কামরুল ইসলাম বলেন, “আল্লাহর রহমতে বড় কোনো ক্ষতি হয়নি। ফায়ার সার্ভিস ও কর্মীদের দ্রুত পদক্ষেপে মিল রক্ষা পেয়েছে।”
মালিক ফিরোজ ভূঁইয়াও ধন্যবাদ জানান সংশ্লিষ্ট সবাইকে এবং বলেন, “এটি আল্লাহর কৃপা যে বড় দুর্ঘটনা থেকে আমরা রক্ষা পেয়েছি।”
ফুলতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিল্লাল হোসেন জানান, আগুন লাগার খবর পেয়ে পুলিশও দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং ফায়ার সার্ভিসকে সহযোগিতা করে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “ইনশাআল্লাহ শিগগিরই দেশের জনগণের সঙ্গে সরাসরি দেখা হবে।” তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের আস্থা অর্জন করে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ পুনর্গঠনের পথে এগিয়ে যেতে হবে।
রবিবার (১০ আগস্ট) রাজশাহী মহানগর বিএনপির সম্মেলনে যুক্তরাজ্য থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ বিএনপির ওপর আস্থা রাখতে চায়। এই আস্থার মর্যাদা রক্ষায় এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি আরও জানান, “আগামী বছর রমজানের আগে নির্বাচনে মানুষের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রথম ধাপ বাস্তবায়িত হবে। এরপরও অনেক চ্যালেঞ্জ সামনে আছে, সেগুলোও অতিক্রম করতে হবে।”
বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “স্বৈরাচার এ দেশের অর্থনীতি, স্বাস্থ্যখাত, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে ধ্বংস করে দিয়েছে। সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে পুনর্গঠন করবে বিএনপি। আমরা সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছি।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ক্ষমতায় এলে দেশ-বিদেশে দক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি, শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের কাছে আধুনিক শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়া এবং তাদের জন্য সুদৃঢ় ভবিষ্যৎ নির্মাণই হবে অগ্রাধিকার।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “দলকে জনগণের কাছে নিয়ে যেতে হবে, তাদের মনে আস্থা সৃষ্টি করতে হবে। জনগণকেই আমাদের শক্তি হিসেবে নিয়ে কাজ করতে হবে।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার খাঁটিহাতা এলাকায় সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ, মাদকদ্রব্য ও দেশীয় অস্ত্রসহ সুমন মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। শনিবার (৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আশুগঞ্জ আর্মি ক্যাম্পের একটি টিম এই অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানটি পরিচালনা করেন ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর ইমতিয়াজ মাহমুদ খান। সেনাবাহিনীর সূত্র জানায়, আটক সুমন মিয়া সোলেমান মিয়ার ছেলে এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক কারবার পরিচালনা করে আসছিলেন।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সেনা সদস্যরা সুমনের বাড়িতে হঠাৎ অভিযান চালায়। এ সময় তার কাছ থেকে নগদ ৬ লাখ ৬৩ হাজার ৪১০ টাকা, ১ হাজার ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ২২ বোতল এস্কাফ সিরাপ, ১০ গ্রাম গাঁজা, ৬টি দেশীয় অস্ত্র এবং ৩টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। সেনাবাহিনী উদ্ধারকৃত সব আলামতসহ সুমন মিয়াকে সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করে।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোজাফফর হোসেন বলেন, “আটক মাদক কারবারি এবং উদ্ধার হওয়া আলামত থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”
স্থানীয়দের দাবি, সুমন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। সেনাবাহিনীর এই অভিযানের ফলে এলাকার মানুষ স্বস্তি পেয়েছেন।
গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে কুপিয়ে হত্যা মামলায় পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। শুক্রবার রাতে পৃথক অভিযান শেষে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. ফয়সাল ওরফে কেটু মিজান, তার স্ত্রী গোলাপি, মো. স্বাধীন ও আল–আমিন। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) উত্তরের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার রবিউল ইসলাম জানান, সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্রসহ তাদের উপস্থিতি ফুটেজে ধরা পড়েছে।
পুলিশ জানায়, ফয়সাল ছিলেন হামলার প্রধান সন্দেহভাজন, তার স্ত্রী গোলাপি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। স্বাধীন ও আল আমিনও ওই সন্ত্রাসী ও ছিনতাইকারী দলের সদস্য হিসেবে গ্রেপ্তার হয়েছেন।
ঘটনার দিন তুহিন একজন ছিনতাইকারীর অন্য এক ব্যক্তিকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া করার ভিডিও করছিলেন। এ সময় ছিনতাইকারীরা তুহিনকে কুপিয়ে হত্যা করে। পুলিশ ঘটনার পর থেকে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে আটক করেছিল।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী তাহমিনা সারমিনের প্রত্যাহার দাবি করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বুধবার দুপুরে আশুগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
এনসিপির উপজেলা প্রধান সমন্বয়কারী আমিনুল ইসলাম ডালিম লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের পাশে ‘মীর মুগ্ধ চত্বরে’ শহীদদের স্মরণে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের প্রস্তুতিতে এসি ল্যান্ড বাধা দেন। তিনি দাবি করেন, অনুষ্ঠানটি পূর্ব অনুমতির ভিত্তিতে আয়োজন করা হচ্ছিল, তবে ওই কর্মকর্তা অনুষ্ঠান বন্ধের চেষ্টা করেন এবং পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ মাহাদী, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আতাউল্লাহ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সমন্বয়কারী আজিজুর রহমান লিটন, যুগ্ম সমন্বয়কারী আকিব জাবেদসহ স্থানীয় নেতারা।
এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে আশুগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এসি ল্যান্ড কাজী তাহমিনা সারমিন। জিডিতে তিনি অভিযোগ করেন, এনসিপির নেতারা অবৈধভাবে ভূমি কার্যালয়ের বেষ্টনী ভাঙার চেষ্টা করেছেন, অনুমতি ছাড়া অনুষ্ঠান করেছেন এবং তাঁকে বদলির হুমকি দিয়েছেন।
এনসিপি নেতাদের দাবি, তারা মৌখিক অনুমতি নিয়েই শহীদদের স্মরণে দোয়া মাহফিল করেছেন এবং কোনো ভাঙচুর বা হুমকির ঘটনা ঘটেনি।
অভিযোগের বিষয়ে কাজী তাহমিনা সারমিন বলেন, “তারা অনুষ্ঠান আয়োজনের কোনো লিখিত অনুমতি নেননি। উল্টো অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন ও বদলির হুমকি দিয়েছেন।” তিনি জানান, ৫ আগস্টের পর দপ্তরে নিরাপত্তার জন্য অস্থায়ী টিনের বাউন্ডারি দেওয়া হয়েছিল এবং এ ঘটনার সঙ্গে ম্যুরাল ভাঙচুরের কোনো সম্পর্ক নেই।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এনসিপি নেতারা অনুমতি প্রসঙ্গে সরাসরি কোনো উত্তর দেননি। তবে জেলা সমন্বয়কারী আজিজুর রহমান বলেন, “আমরা শহীদদের জন্য দোয়া মাহফিল করেছি, এর জন্য অনুমতির দরকার আছে বলে মনে করি না।”
আজ মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ করবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বিটিভিতে অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জুলাই মাসে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানের পটভূমি ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে এ ঘোষণাপত্র তৈরি করা হয়েছে। বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের পরামর্শে চূড়ান্ত করা এই দলিলটিকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়েও ঐকমত্যে পৌঁছেছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ঘোষণাপত্রে মোট ২৬টি দফা রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম অংশে উল্লেখ করা হয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধ, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং সদ্য ঘটে যাওয়া জুলাই অভ্যুত্থানের পটভূমি।
‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ নিয়ে এর আগে দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি এই দাবিতে একাধিক কর্মসূচিও পালন করে।
এ উপলক্ষে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে দিনব্যাপী নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন করেছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়। সকাল ১১টায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করছে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও ব্যান্ড দল। বিকেল ৫টায় ঐতিহাসিক ঘোষণাপত্র পাঠের পর সন্ধ্যায় থাকবে বিশেষ আয়োজন—‘ড্রোন ড্রামা’। রাত আটটায় শিল্পী ব্যান্ড ‘আর্টসেল’-এর পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হবে।
অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে জুলাই আন্দোলনে শহীদদের পরিবার, আহতদের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী এবং নাগরিক সমাজের বিশিষ্টজনদের।
সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী কালের দর্পণকে বলেন, “জুলাই সবার। তাই এই আয়োজনেও থাকবে সবার অংশগ্রহণ।” তিনি জানান, ঘোষণাপত্র পাঠের পর মঞ্চে আবার শুরু হবে সাংস্কৃতিক আয়োজন, যা শেষ হবে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ‘নিউ মিডিয়া’ প্রদর্শনী দিয়ে।
এদিকে, অনুষ্ঠান কেন্দ্র করে সংসদ ভবন ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে আনতে ডিএমপি বিকল্প সড়ক ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৫ জনের। রোববার (৩ আগস্ট) বিকেলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রামপুর এলাকায় দুই মোটরসাইকেল ও একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষে ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা।
নিহতরা হলেন—সরাইল উপজেলার বাড়িউড়া গ্রামের সুমন (২৯), সদর উপজেলার মৈন্দ গ্রামের লোকমান হোসেন (৩০) ও তুহিন হাসান (২৯), বিজয়নগরের সাতগাঁও গ্রামের আকরাম (২৫) এবং রংপুরের মনিরুজ্জামান (২১)।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে মোটরসাইকেলে করে ফুটবল খেলা দেখতে যাচ্ছিলেন সুমন, লোকমান ও তুহিন। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ঠিক সেই সময় দ্রুতগামী একটি সিএনজি অটোরিকশাও ঘটনাস্থলে এসে ধাক্কা দিলে ঘটে ত্রিমুখী সংঘর্ষ।
ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় একজনকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও চারজন—সবুজ (১৯), আহাদ (২০), আলামিন ও ইয়ামিন। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে তিনি জানান।
সড়কে এই করুণ মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা দ্রুতগতির যানবাহন ও বেপরোয়া চালনার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
দেশের জনপ্রিয় অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি ফ্লাইট এক্সপার্ট–এর ওয়েবসাইট হঠাৎ অকার্যকর হয়ে পড়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। গ্রাহকরা নিজেদের বুকিং ও টাকার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন জানিয়েছেন, আজ শনিবার প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের পক্ষে সাঈদ আহমেদ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। তিনি জানান, ফ্লাইট এক্সপার্ট–এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সালমান বিন রাশিদ শাহ সায়েম হঠাৎ করেই নিরুদ্দেশ হয়েছেন।
জিডিতে উল্লেখ করা হয়, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বার্তা দিয়ে মালিক পালানোর তথ্য জানান। এরপর কর্মীরা অফিসে গিয়ে দেখতে পান, মালিক নেই এবং অফিস কার্যক্রম বন্ধ।
জিডিতে আরও বলা হয়, “গ্রাহকদের অর্থনৈতিক লেনদেন এখন ঝুঁকিতে পড়েছে। কেউ কেউ কর্মীদের হুমকি দিচ্ছেন।”
এদিকে কয়েকটি ট্রাভেল এজেন্সি অভিযোগ করেছে, তারা ফ্লাইট এক্সপার্টের মাধ্যমে টিকিট বুক করতে পারছেন না। ওসি আরও জানান, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এসেছে, তবে তদন্তাধীন থাকায় বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না।
একজন গ্রাহক ফেসবুক গ্রুপ ‘Cheap Air Ticket in Bangladesh’–এ লেখেন, তিনি ১০ আগস্ট ঢাকা-ওমান বিমানের টিকিট বুক করেছেন ফ্লাইট এক্সপার্টের মাধ্যমে। বিমানের ওয়েবসাইটে টিকিট ইস্যু দেখালেও তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন—ভবিষ্যতে কোনো সমস্যা হবে কিনা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবশালী ব্যবহারকারী শুরভী ইয়াসমিন (ফলোয়ার ৩ লাখ+) তার পোস্টে লেখেন, “ফ্লাইট এক্সপার্ট আমার শেষ ট্যুর স্পনসর করেছিল। এখনো আমার বড় অঙ্কের টাকা পাওনা রয়েছে। শুনেছি ওরা নাকি পালিয়ে গেছে। হাজার হাজার মানুষের টাকা নিয়ে উধাও! আল্লাহ তাদের হেদায়েত দিন।”
উল্লেখ্য, ফ্লাইট এক্সপার্টের ফেসবুক পেজ (ফলোয়ার ৪.৫ লাখের বেশি) এখনো সচল আছে। সর্বশেষ পোস্ট ছিল দুই দিন আগে—হজ ২০২৬–এর প্যাকেজ নিয়ে।
২০১৭ সালের মার্চে যাত্রা শুরু করা ফ্লাইট এক্সপার্ট অল্প সময়েই দেশের অনলাইন টিকিট বুকিং সেবায় পরিচিতি পায়। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক টিকিট, হোটেল বুকিং, ট্যুর প্যাকেজ ও ভিসা প্রসেসিং–এর সেবা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি জনপ্রিয়তা লাভ করে।
২০২১ সালের মে মাসে বিতর্কিত ই–কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি ফ্লাইট এক্সপার্ট অধিগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছিল। যদিও চূড়ান্তভাবে সেই অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে কিনা, তা এখনো পরিষ্কার নয়। এ বিষয়ে ইভ্যালির সিইও মোহাম্মদ রাসেল–এর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি কনভেনশন সেন্টারে গোপন বৈঠকের সময় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠনের ২২ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সেনাবাহিনীর এক মেজর পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে সেনা কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) সেনা সদর দপ্তরের প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
ডিএমপির তথ্য মতে, গত ৮ জুলাই বসুন্ধরা সংলগ্ন ‘কে বি কনভেনশন সেন্টারে’ সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এক ‘গোপন বৈঠক’ হয়। যেখানে অংশগ্রহণ করে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ, আ.লীগ এবং অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা সহ প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ জন। বৈঠকে সরকারবিরোধী স্লোগান, নাশকতার পরিকল্পনা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে সাংগঠনিক প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগ উঠে।
ভাটারা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় বলা হয়, বৈঠকে শাহবাগ মোড় দখল করে অস্থিরতা তৈরির পরিকল্পনা করা হয়। তদন্তে দেখা যায়, বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ যেমন—‘তারা প্রিয় স্বদেশ’, ‘বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম’, ‘প্রজন্ম ৭১’, ‘এফ-৭১ গেরিলা’ ইত্যাদির সদস্য ছিলেন।
গোয়েন্দা বিভাগের তথ্যমতে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে যুবলীগ নেতা সোহেল রানা ও গোপালগঞ্জের আ.লীগ নেত্রী শামীমা নাসরিন রয়েছেন। তাঁদের তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর মেজর সাদিকুল হককে (মেজর সাদিক) হেফাজতে নেয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, মেজর সাদিক গোপনে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের ঢাকায় এনে রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ দিচ্ছিলেন।
সেনা সদরের কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম জানান, মেজর সাদিকের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে সেনাবাহিনী নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।
পুলিশ ও ডিবি সূত্রে আরও জানা গেছে, বৈঠকে অংশ নেওয়া বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে পূর্বেও নাশকতা সংশ্লিষ্টতা ছিল। কনভেনশন সেন্টারের সিসিটিভি ক্যামেরা ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ রাখা হয়, যার জন্য ভিডিও ফুটেজ পাওয়া যায়নি।
গ্রেপ্তারকৃতদের তথ্য যাচাই ও রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।