হোম প্রচ্ছদ পৃষ্ঠা 4

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক, একদিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক, একদিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর নামাজে জানাজার দিন আগামীকাল বুধবার একদিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এ ঘোষণা দেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

ভাষণের শুরুতে প্রধান উপদেষ্টা গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির শীর্ষ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে জাতি এক অভিভাবকসুলভ নেতৃত্বকে হারিয়েছে। তিনি বলেন, “আজ পুরো জাতি গভীর শোক ও বেদনায় নিমজ্জিত। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।”

তিনি উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশ গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। এই দুঃসময়ে তাঁর পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক সহকর্মী এবং অসংখ্য কর্মী-সমর্থকের প্রতি জাতির পক্ষ থেকে আন্তরিক সমবেদনা জানান প্রধান উপদেষ্টা। একই সঙ্গে তিনি মহান আল্লাহর কাছে সবার জন্য ধৈর্য ধারণের শক্তি কামনা করেন।

ভাষণে প্রফেসর ইউনূস বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অনন্য ও মহিমান্বিত ব্যক্তিত্ব। গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তাঁর আপসহীন অবস্থান জাতিকে বারবার গণতান্ত্রিক পথে ফেরার প্রেরণা যুগিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দেশ ও জাতির জন্য বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, গণমুখী নেতৃত্ব এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাঁর অবিচল ভূমিকা জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। এমন একজন দূরদর্শী ও দেশপ্রেমিক নেত্রীর শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শোকাবহ এই সময়ে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সবাই যেন যার যার অবস্থান থেকে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং এই সংকটময় সময়ে জাতি যেন ঐক্যবদ্ধ থাকে।

এ সময় তিনি সতর্ক করে বলেন, শোকের এই পরিবেশে কেউ যেন অস্থিতিশীলতা বা নাশকতার অপচেষ্টা চালাতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

ভাষণের শেষাংশে তিনি নামাজে জানাজাসহ সব ধরনের শোক কর্মসূচি শৃঙ্খলা ও মর্যাদার সঙ্গে পালনের জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মহান আল্লাহর কাছে দেশবাসীর জন্য ধৈর্য, শক্তি ও ঐক্য কামনা করেন।

আর নেই বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া

বেগম খালেদা জিয়া

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইন্তিকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বিএনপির মিডিয়া সেল তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

দীর্ঘদিন ধরে বেগম খালেদা জিয়া হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনির জটিলতাসহ একাধিক শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতা দেখা দিলে গত ২৩ নভেম্বর তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছিল।

চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি তিনবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেন। একই সঙ্গে তিনি মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নির্বাচিত নারী সরকারপ্রধান ছিলেন।

১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুর জেলায় তাঁর জন্ম। তাঁর পিতা ইস্কান্দার মজুমদার ও মাতা তৈয়বা মজুমদার। দেশভাগের পর তাঁর পরিবার তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান হয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসে। তাঁদের আদি নিবাস ফেনী জেলায়। বেগম খালেদা জিয়া দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং পরবর্তীতে সুরেন্দ্রনাথ কলেজে শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করেন। ১৯৬০ সালে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বিয়ে করেন।

রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তিনি ফার্স্ট লেডি হিসেবে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সফরে অংশ নেন এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৮২ সালে বিএনপিতে সাধারণ সদস্য হিসেবে যোগ দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে উঠে আসেন। ১৯৮৪ সালে তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।

রাজনৈতিক জীবনে বেগম খালেদা জিয়া এক অনন্য নজির স্থাপন করেন। তিনি কখনো কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত একাধিক আসন থেকে নির্বাচনে বিজয়ী হন এবং ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সব আসনে জয় লাভ করেন।

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্কুল এন্ড কলেজে বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত

বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্কুল এন্ড কলেজের বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান–২০২৫ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর ২০২৫) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নদী ও প্রকৃতি সুরক্ষা বিষয়ক সামাজিক আন্দোলন ‘তরী বাংলাদেশ’-এর আহ্বায়ক শামীম আহমেদ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। সুশিক্ষা ও নৈতিকতার সমন্বয় ঘটলে একটি সুন্দর ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। পড়াশোনার পাশাপাশি দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. ইকবাল হোসেন। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্কুল এন্ড কলেজ কেবল ফলাফলভিত্তিক শিক্ষা নয়, বরং নৈতিকতা ও চরিত্র গঠনের শিক্ষা দিয়ে আসছে। যারা আজ পুরস্কৃত হয়েছে তারা যেমন গর্বের, তেমনি যারা পুরস্কার পায়নি তারাও ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রভাষক রুমানুল ফেরদৌসী রুমা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্কুল এন্ড কলেজ। তিনি বলেন, শিক্ষা মানে শুধু ভালো ফলাফল নয়; বরং নিজেকে একজন যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। নিয়মিত অধ্যবসায়, শিক্ষকদের সম্মান ও অভিভাবকদের দোয়া থাকলে সাফল্য নিশ্চিত হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানের উপাধ্যক্ষ সুরমা আক্তার। তিনি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা বশির উদ্দিন চিশতি। পরে সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন ও তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।

বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আয়েশা আক্তার হেপির প্রাণবন্ত ও সুশৃঙ্খল উপস্থাপনায় প্লে থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী মোট ৫০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে ক্রেস্ট, সনদ ও উপহার প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠান শেষে অভিভাবকরা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্কুল এন্ড কলেজ শিক্ষার মান, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা গঠনে প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে চলেছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করলেন ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে মনোনয়ন দাখিল করলেন বিএনপির প্রার্থী

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর–বিজয়নগর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকালে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জাহানের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দেন।

মনোনয়ন দাখিলকালে জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জহিরুল হক খোকন, সহসভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম, সহসভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম সারোয়ার খোকন, সহসভাপতি এবিএম মোমিনুল হক এবং সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম খান রুমাসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় নেতারা বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন।

মাল্টিপার্টি অ্যাডভোকেসি ফোরাম এর আয়োজনে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সম্প্রীতি সংলাপ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য করতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি সম্প্রীতি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাল্টিপার্টি অ্যাডভোকেসি ফোরাম (ম্যাফ)-এর আয়োজনে রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় শহরের সুরসম্রাট দি আলাউদ্দিন সংগীতাঙ্গণে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

সংলাপে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সংসদ সদস্য প্রার্থীরা অংশ নেন। বক্তারা বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য নয়, বরং দেশের আপামর জনগণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রত্যাশিত। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে হলে রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও নাগরিক সমাজের সম্মিলিত ভূমিকার কোনো বিকল্প নেই।

বক্তারা আরও বলেন, জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। রাজনৈতিক সম্প্রীতি, অহিংসা ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখতে সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য শুধু বক্তব্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নাগরিক সমাজের সামনে স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দেওয়াই এই সংলাপের মূল উদ্দেশ্য।

মাল্টিপার্টি অ্যাডভোকেসি ফোরাম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সভাপতি এ বি এম মোমিনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত এমপি প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহাবুব শ্যামল, জেলা ইসলামী আন্দোলনের সেক্রেটারি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের মনোনীত এমপি প্রার্থী আলহাজ মাওলানা গাজী নিয়াজুল করীম, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের এনসিপি মনোনীত এমপি প্রার্থী মো. আতাউল্লাহ, জেলা গণঅধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত এমপি প্রার্থী লিটন হুসাইন জিহাদ, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জহিরুল হক খোকন এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ।

ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের কনসালটেন্ট রুবাইয়াত হাসান ও ম্যাফ সদস্য শাহাদত হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মাল্টিপার্টি অ্যাডভোকেসি ফোরাম (ম্যাফ) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদ হাসান সানি। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল কুমিল্লা অঞ্চলের সিনিয়র রিজিওনাল ম্যানেজার আবুল বাশার।

অনুষ্ঠানের শুরুতে অংশগ্রহণকারী প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা রাজনৈতিক সম্প্রীতি স্মারকে স্বাক্ষর করেন। পরে শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তা দেন তারা।

উল্লেখ্য, ইউকেএইড-এর অর্থায়নে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল পরিচালিত বাংলাদেশ স্ট্রেংথেনিং পলিটিক্যাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি ফর সিটিজেন এমপাওয়ারমেন্ট (বি-স্পেস) প্রকল্পের আওতায় এই সম্প্রীতি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

ঠাকুরগাঁও-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন নিলেন সুমন

BD News

হরিপুর (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন মো. সুমন। শনিবার দুপুরে তার পক্ষে সমর্থকরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। বিষয়টি নিজেই নিশ্চিত করেছেন মো. সুমন।

ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী ও হরিপুর উপজেলা এবং রাণীশংকৈল উপজেলার দুটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ঠাকুরগাঁও-২ আসন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মো. সুমন ২০১৮ সাল থেকে ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ওই বছর কোটা আন্দোলন, সড়ক আন্দোলন ও অধিভুক্ত বাতিল আন্দোলনসহ বিভিন্ন আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

সর্বশেষ জুলাই অভ্যুত্থানে তিনি সম্মুখসারির ছাত্র নেতাদের একজন ছিলেন। আন্দোলন চলাকালে বুয়েট ক্যাম্পাস এলাকায় রাবার বুলেটে আহত হন তিনি। পরে ২৩ জুলাই শাহবাগ এলাকা থেকে পুলিশ তাকে আটক করে। আন্দোলনের সময় পলিসি মেকিং, খাবার ও রসদ সরবরাহসহ ৪ আগস্ট ঢাকায় প্রায় পাঁচ হাজার আন্দোলনকারীর থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেন তিনি। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে সে সময় প্রশাসনের নজরদারিতে আসেন বলে জানা যায়।

৫ আগস্ট সরকার পতনের পরপরই নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দেন সুমন। পরবর্তী সময়ে ঠাকুরগাঁও-২ আসনে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা মোকাবিলায় মোরাল পুলিশিং কার্যক্রমে যুক্ত হন তিনি এবং আইনশৃঙ্খলা কমিটির সঙ্গেও কাজ করেন।

২০২০ সাল থেকে ঠাকুরগাঁও জেলাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন সুমন। অসহায় রোগীদের চিকিৎসা সহায়তা, শিক্ষাবৃত্তি প্রদান, করোনাকালে পাঁচ হাজারের বেশি পরিবারকে ত্রাণ বিতরণ, প্রতিবছর শীতবস্ত্র ও কম্বল বিতরণসহ নানা সামাজিক কার্যক্রমে তার সম্পৃক্ততার কথা জানান সংশ্লিষ্টরা।

নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে মো. সুমন বলেন, তরুণরা দেশকে একটি সংকটময় পরিস্থিতি থেকে বের করে এনে নির্বাচনের সুযোগ তৈরি করেছে। দেশের পাঁচ কোটি তরুণের পক্ষে সংসদে কথা বলার মতো একজন প্রতিনিধির প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেন, দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে এই আসনটি অবহেলিত ছিল। ঠাকুরগাঁও-২ আসনের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতকরণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সমতা এবং বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের লক্ষ্য নিয়ে তিনি কাজ করতে চান।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের অচলায়তন ভেঙে এলাকার জনগণ তাকে সংসদে তাদের কণ্ঠস্বর হিসেবে নির্বাচিত করবেন—এই আশাবাদ তার রয়েছে। উল্লেখ্য, ঠাকুরগাঁও-২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার। এ আসনে এখন পর্যন্ত ছয়টি রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দ্বিতীয়বারের মতো আইটি প্রফেশনালদের মিলনমেলা, BITC মিটআপ ২০২৫ অনুষ্ঠিত

BITC Meetup 2025

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দ্বিতীয়বারের মতো আইটি প্রফেশনালদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। Brahmanbaria IT Community (BITC)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই মিটআপটি ২৬ ডিসেম্বর The Cuisine Restaurant-এ অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের আইটি প্রফেশনাল, ফ্রিল্যান্সার, উদ্যোক্তা ও চাকরিজীবীরা অংশগ্রহণ করেন।

মিটআপটি আয়োজন করেন শিপন কর্মকার। আয়োজনে পূর্ণ সহযোগিতায় ছিলেন আশরাফুল আমিন। এই আয়োজনে প্রায় ৪০ জন আইটি প্রফেশনাল অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানটি মূলত নেটওয়ার্কিং, পরিচিতি বৃদ্ধি এবং আইটি সেক্টরে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পরিচয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের কাজ, অভিজ্ঞতা এবং আইটি সেক্টরে যাত্রার গল্প তুলে ধরেন। এরপর আলোচনা পর্বে বক্তব্য রাখেন শিপন কর্মকার, শামিম মিয়া, আবুল বাসার, তানভিরুল হকসহ আরও অনেকে।

Shipon Karmakar

শিপন কর্মকার তার বক্তব্যে বলেন, “আমাদের এই আইটি কমিউনিটির মূল লক্ষ্য হলো একে অপরকে সহযোগিতা করা, যেন সবাই আইটি-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সহায়তা পায়। আমার স্বপ্ন—একদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাংলাদেশের একটি আইটি ক্যাপিটাল সিটি হিসেবে পরিচিত হবে। এটি সম্ভব তখনই, যখন আমরা সবাই উদারভাবে একে অপরকে সহযোগিতা করবো।”

তানভিরুল হক আইটি-সংক্রান্ত জব প্রিপারেশন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন। শামিম মিয়া আলোচনা করেন কীভাবে একটি আইটি স্টার্টআপ কোম্পানি গড়ে তোলা যায়। আবুল বাসার কথা বলেন রিমোট জব করার সুযোগ, প্রস্তুতি এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে। এমদাদুল হক জুয়েল আলোচনা করেন একটি ভালো অফিস এনভায়ারমেন্ট ও টিম কালচারের গুরুত্ব নিয়ে।

আলোচনার মাঝেই অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়, যা অনুষ্ঠানটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। পরে গ্রুপ ফটো সেশন অনুষ্ঠিত হয় এবং শুরু হয় রাতের ডিনার ও নেটওয়ার্কিং পর্ব।

সবশেষে UnivaHost ( ZendForce LLC ) ও ShapedPlugin-এর পক্ষ থেকে একটি কুইজ সেশন আয়োজন করা হয়। কুইজে বিজয়ীদের জন্য টি-শার্ট, ব্যাগ, হোস্টিংসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় উপহার প্রদান করা হয়।

মিটআপে অংশগ্রহণকারীরা

মেহরাজ খান, আশরাফুল আমিন, সিরাতুল মুস্তাকিম, রুহুল আমিন, মিনহাজ আহমেদ রোহান, ফয়সাল আহমেদ, মোস্তফা হোসাইন, সাইম আলম, আরিফ রহমান, ফজলে রাব্বি, আজিম জামশেদ, উদয় জামশেদ, রেজওয়ান আহমেদ, মো: ফাহিম, মানিক দেবনাথ, এহ্ জুয়েল, ইসমাইল হোসাইন, জসিম উদ্দিন, রাজ্জি, মোহাম্মদ মোশাররফ, এসএ সম্রাট, আবুল বাশার, আরাফাত মিয়া, কামাল হোসাইন, মাসুম, নাসিম মিয়া, সাফওয়ান আহমেদ, এসএম সানি, রঞ্জন দাস, তানভিরুল হক, শামীম মিয়া, রুবেল মিয়া, মো: খলিল উদ্দিন, মো: আকরাম হোসেন, শিপন কর্মকার, তামিম হোসেন আরাবি, অভিলাষ সেন, মোহাম্মদ সালমান

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে শিপন কর্মকার বলেন, “প্রতিবছর এ ধরনের আয়োজন হলে সবাই সবার সঙ্গে পরিচিত হতে পারবে, আইটি খাতে কাজের সুযোগ তৈরি হবে এবং কমিউনিটি আরও শক্তিশালী হবে।”

সবশেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে সফলভাবে অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘটে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদকবিরোধী সভা: মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে জোরালো উদ্যোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঐক্যবদ্ধ সদর উদ্যোগে মাদকবিরোধী আলোচনা সভা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত মাদকবিরোধী আলোচনা সভার একাংশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদকবিরোধী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐক্যবদ্ধ সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আয়োজনে এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায়।

আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন প্রাঙ্গণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঐক্যবদ্ধ সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পরিচালনা পরিষদের সদস্য সাবের হোসাইন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঐক্যবদ্ধ সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পরিচালনা পরিষদের সদস্য শেখ আরিফ বিল্লাহ আজিজী।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া — এহসানুর রহমান ভূঁইয়া।
প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক — সাজেদুল হাসান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—
আলাউদ্দিন আহমেদ, ইনচার্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানা ২ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ি;
রফিকুল ইসলাম, ইনচার্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি;
এবং শাকিল ইসলাম, রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ—
শামীম আহমেদ, আহবায়ক, তরী বাংলাদেশ;
সাদিকুল ইসলাম, সভাপতি, নিরাপদ সড়ক চাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া;
আতিকুর রহমান আপেল, হারিস আহমেদ, আলমগীর হোসেন সাগর,
মাওলানা দেলোয়ার হোসেন মাহাদী, এডভোকেট জুবায়ের শাওন,
পলি আক্তার, কানিজ ফাতেমা কনিকা, আবরারুল হক সিরাজী প্রমুখ।

বক্তারা মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তরী বাংলাদেশের আয়োজনে ‘মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের নদ-নদী’ শীর্ষক আলোচনা সভা

মুক্তিযুদ্ধ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
বিজয়ের মাস ও মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে নদী ও প্রকৃতি সুরক্ষা সামাজিক আন্দোলন ‘তরী বাংলাদেশ’-এর উদ্যোগে ‘মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের নদ-নদী’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা জেলা কমান্ড, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী সৈয়দ এমরানুর রেজা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তরী বাংলাদেশের আহ্বায়ক শামীম আহমেদ।

জাতীয় সংগীত, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের মাধ্যমে আলোচনা সভার সূচনা হয়। সোহেল রানা ভূইয়া-র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন তরী বাংলাদেশ আহ্বায়ক কমিটির সদস্য খালেদা মুন্নী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী সৈয়দ এমরানুর রেজা বলেন, তৎকালীন সময়ে নদীগুলো না থাকলে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রাম আরও দীর্ঘায়িত হতো। প্রকৃতির দান নদ-নদীর কারণে আমরা সহজেই স্বাধীনতা অর্জন করতে পেরেছি। তাই এই দেশকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে আমাদের নদ-নদী ও খাল-জলাশয় রক্ষা করতেই হবে।

আলোচনা সভায় উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও শিক্ষানুরাগীরা মুক্তিযুদ্ধ ও নদীকে ঘিরে তাঁদের স্মৃতি ও অনুভূতি ব্যক্ত করেন। বক্তারা নদী রক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সারা দেশে নদী-খাল ও নৌপথগুলো সচল থাকলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে, জনভোগান্তি কমবে এবং পণ্য পরিবহনের খরচ হ্রাস পাবে।

সভাপতির বক্তব্যে শামীম আহমেদ বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে নদীগুলো আমাদের যেভাবে সহযোগিতা করেছে, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকেও সেভাবেই সহযোগিতা করতে পারবে—যদি আমরা নদী, খাল ও জলাশয় রক্ষা করতে পারি। তরী বাংলাদেশ জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের নদী-খাল ও জলাশয় রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন, এম. ওয়াসেল সিদ্দিকী, আছরারুন নবী মোবারক, প্রফেসর হুমায়ুন কবির খান, ফসিউর রহমান হাসান, জয়নাল আবেদীন, পৌর ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং কমিটির সভাপতি এবিএম মমিনুল হক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আল আমিন শাহীন, এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি সৈয়দ মো. আকরাম।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদ, হারাধন বিশ্বাস, প্রদীপ কুমার পাল ও মতিউর রহমানসহ বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খেলাঘরের সাধারণ সম্পাদক নীহার রঞ্জন সরকার, অঙ্কুর শিশু-কিশোর সংগঠনের সভাপতি আনিসুল হক রিপন, ঐতিহ্য কুমিল্লার সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল, জেলা শিল্পকলা একাডেমির প্রশিক্ষক সাগর আহমেদ।

তরী বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সুশান্ত পাল, খাইরুজ্জামান ইমরান, হৃদয় কামাল, মোহাম্মদ মাহবুব খান, সাদেকুল ইসলাম ভূইয়া, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, রিফাত ভূইয়া, জোবায়দুর রহমান মেহেদী, আব্দুল হেকিম, শাকিল আহমেদ, ইঞ্জিনিয়ার রিপন চক্রবর্তী, তাসিন আরাফাত তন্ময়, মনির হোসেন, ঐক্যবদ্ধ সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদস্য সাবের হোসেন এবং শেখ আরিফ বিল্লাহ আজিজী।

আলোচনা সভায় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কবিতা আবৃত্তি করেন তিতাস আবৃত্তি সংগঠনের শিল্পী ফাহিমা সুলতানা, সাহিত্য একাডেমি ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির আবৃত্তি প্রশিক্ষক নুসরাত জাহান বুশরা এবং সোনালী সকাল-এর আইরিন মৃধা।

হরিপুরে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের উদ্যোগে অগ্রণী কৃষক প্রশিক্ষণ ও বীজ বিতরণ

হরিপুরে ওয়ার্ল্ড ভিশনের উদ্যোগে কৃষকদের মাঝে ধানের বীজ বিতরণ
হরিপুরে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের উদ্যোগে কৃষকদের মাঝে বীজ বিতরণ ও প্রশিক্ষণের দৃশ্য

হরিপুর (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি :

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের উদ্যোগে কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে অগ্রণী কৃষক প্রশিক্ষণ ও বীজ বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (৭ ডিসেম্বর ২০২৫) দুপুর ১২টার সময় উপজেলার ৩নং বকুয়া ইউনিয়নের ফেডারেশনের নির্বাচিত ১২০ জন কৃষকের মাঝে জিংক সমৃদ্ধ উন্নতজাতের ধানের বীজ ব্রি ধান-৭২, ৭৪ ও ১০২ বিতরণ করা হয়। এ সময় কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, সুষ্ঠু বীজ ব্যবস্থাপনা, সার ও কীটনাশকের সঠিক ব্যবহার বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হরিপুর উপজেলার কৃষিবিদ মো: মশিউর রহমান (AEO)। তিনি বলেন, জিংক সমৃদ্ধ ধান মানবদেহের পুষ্টি ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই ধানের চাষ বৃদ্ধি পেলে যেমন উৎপাদন বাড়বে, তেমনি মানুষের পুষ্টি চাহিদাও মিটবে। তিনি আরও বলেন, উন্নত কৃষির মাধ্যমে কৃষকদের আর্থিক স্বচ্ছলতা বাড়াতে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আব্দুল্লাহ আল বাকী (আরডিআরএস কৃষি অফিসার), মো: গোলাম কিবরিয়া (আরডিআরএস এগ্রিকালচারাল প্রজেক্ট অফিসার), রবিনাথ রায় (কমিউনিটি মোবিলাইজার), ফেডারেশন চেয়ারম্যান মো: রফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বীজ পেয়ে কৃষকরা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এই উদ্যোগ তাদের উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

- Advertisement -

জনপ্রিয় সংবাদ

গরম খবর